সামাজিক বিজ্ঞান Archives - Proshikkhon

Posts Tagged "সামাজিক বিজ্ঞান"

9Aug2021

Formative Evaluation

ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়ন

গাঠনিক মূল্যায়ন ধারাবাহিক মূল্যায়ন নামেও পরিচিত৷ শিখন শেখানো চলাকালে যে মূল্যায়ন করা হয় তাকে ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়ন বলে৷ অন্যকথায় প্রতিদিনের প্রতি পিরিয়ডের পাঠ মূল্যায়নই হল গাঠনিক মূল্যায়ন৷ গাঠনিক বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন শিখন শেখানো কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ; ধারাবাহিক মূল্যায়নের সাহায্যে যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিতকরণ সহজ হয়৷ শিখনফল অনুযায়ী বিষয়বস্তু উস্থাপন করা হয় এবং শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা কার্যে মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অর্জনের অগ্রগতি নির্ধারণ করা যায়৷ অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি দূর করার জন্য প্রযোজ্য নিরাময়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়৷

ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়নের উদ্দেশ্য

  • পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত শিখনফল শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে পেরেছে কিনা তা যাচাই করা৷
  • কোন শিক্ষার্থী শিখনফল অর্জন করতে না পারলে তার কারণ অনুসন্ধান করা।
  • শিখন ব্যর্থতার কারণ জেনে সে সম্পর্কে নিরাময়মূলক ব্যবস্থা করা।
  • শিক্ষকের নিজের কাজের মূল্যায়ন করা৷
  • পুনরায় মূল্যায়ন করে শিশুর পুরোপুরি শিখন নিশ্চিত করা৷

ধারাবাহিক মূল্যায়নের সময়

ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রতিদিন প্রতি পাঠে করা হয়৷ প্রতি পাঠে মূল্যায়নের যে সময় তা হলো-

পাঠের শুরুতে:

  • স্বল্প পরিসরে প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে পাঠের পূর্বজ্ঞান যাচাই করেন।
  • পাঠের শুরুতে ছবি দেখতে দিয়ে ছবিতে কী কী আছে বলে মূল্যায়ন করা যায়৷

পাঠের মাঝে:

  • পাঠের একটি ধাপ শেষ করে ছোট ছোট প্রশ্নের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায়৷
  • প্রশ্ন করতে দিয়ে ও প্রশ্নের উত্তরদানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায়৷

পাঠের শেষে:

  • পাঠের সবকয়টি ধাপের বিস্তৃত মূল্যায়ন করা হয়৷
  • সাধারণত প্রশ্নের উত্তরের পরিসর একটু বড় হয়৷

গাঠনিক বা ধারাবাহিক মূল্যায়নের কৌশল

ধারবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ কতকগুলো কৌশল ব্যবহার করতে হয়। সেক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর ধরণ অনুসারে কৌশল ও কাজের কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। নিম্নে ধারাবাহিক মূল্যায়নের কৌশল বর্ণনা করা হলো:

কৌশলকাজ (উদাহরণ)
১. পর্যবেক্ষণবস্তু দেখা, ছবি দেখা, অক্ষর সাজিয়ে শব্দ তৈরি পরিশেষে বিভিন্ন উপাদান শ্রেণিকরণ, সক্রিয়তা৷
২. মৌখিক উত্তর বলাসংখ্যা বলতে দেওয়া, একত্রে কয়টি হয় বলতে দেওয়া, বর্ণ, শব্দ ও বাক্য পড়তে দেওয়া, ছোট প্রশ্নের উত্তর বলা (গাছের কয়টি অংশ)৷
৩. লিখতে দিয়েগুণ করা, ভাগ করা, শব্দ দিয়ে বাক্যগঠন, শূণ্যস্থান পূরণ, বর্ণ, শব্দ ও বাক্য লেখা৷
৪. কাজ করতে দিয়েবস্তু দলে সাজানো, জ্যামিতি চিত্র আঁকা, কাগজ ও মাটি দিয়ে বিভিন্ন তৈরি, আকৃতি করতে দিয়ে৷
৫. দলগত মূল্যায়নদলে কাজ দিয়ে, অন্যদলের সাথে কাজ মূলায়ন বিনিময় করে৷

একটি পাঠে যে শিখনফল থাকে তা অর্জন করার জন্য শিক্ষক শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করেন৷ শিক্ষক যদি ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে দেখেন যে কোন শিশু সংশ্লিষ্ট শিখনফলসমূহ সর্ম্পূণ অথবা আংশিকভাবে অর্জন করতে পারেনি তখন তিনি ঐ শিখনফল অর্জনের জন্য বা শিক্ষার্থীর ঘাটতি পূরণের জন্য যে ব্যবস্থা নেন তাকে নিরাময়মূলক ব্যবস্থা বলে৷

গাঠনিক মূল্যায়নের উপকরণ

  • শ্রেণীর কাজ ;
  • ব্যবহারিক কাজ ;
  • শ্রেণীকক্ষে মৌখিক প্রশ্ন ;
  • শ্রেণীর পরীক্ষা ;
  • টার্ম পেপার ;
  • চেক লিস্ট ;
  • সাপ্তাহিক পরীক্ষা ;
  • ত্রৈমাসিক পরীক্ষা ;
  • অ্যাসাইনমেন্ট ;
  • বিতর্ক ও আলোচনা সভা ইত্যাদি।

নিরাময়মূলক ব্যবস্থার জন্য অনুসরণযোগ্য কৌশল:

নিরাময়ে সহায়তা দানকারীকখন ও কোথায়কীভাবে
শিক্ষক নিজেপাঠ চলাকালে শ্রেণিকক্ষেযখন শিক্ষার্থী শিখনফল অর্জন করতে পারছে না, তাত্ক্ষণিকভাবে তিনি সহায়তা দেবেন৷ সামান্য ইঙ্গিত দিয়ে ভুলের জায়গাটি ধরিয়ে দিয়ে বার বার অনুশীলন করতে দিয়ে  শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ব্যর্থ হলে বিষয়বস্তু পুনরায় উপস্থাপন করে৷
পারগ শিশুপাঠ চলাকালে শ্রেণিকক্ষেএকজন পারগ শিশুর পাশে একজন দুর্বল শিশুকে বসিয়ে তাকে সহায়তার জন্য পারগ শিশুকে উদ্বুদ্ধ করে৷ যাদের মূল্যায়ন হয়ে গেছে তাদের দিয়ে কয়েকজন দুর্বল শিশুকে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করে৷ দলগত কাজ করার সময় দলের সকল সদস্যকে একই পর্যায়ে আনার অনুপ্রেরণা দিয়ে৷
শিক্ষিত মা/বাবা/অভিভাবকবাড়িতেএলাকায় শিক্ষিত অভিভাবককে নিজের ছেলে/মেয়েরে শিখন ঘাটতি পূরণ করার জন্য অনুরোধ করে৷
শিক্ষক/প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ছুটির পরে/পরের দিন স্কুল শুরুর আগেছুটির পরে যে কয়জন দুর্বল শিক্ষার্থী থাকে তাদের নিয়ে বিশেষ নিরাময়ের ব্যবস্থা করে৷ বিদ্যালয়ের নিয়মিত কাজ শুরুর আগে এ কাজটি করে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিরাময়মূলক ব্যবস্থার পরে পুনরায় মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের শিখনফল অর্জন নিশ্চিত করে৷
4Aug2021

Ecological system theory of Bronfrenbrenner

ব্রনফ্রেনব্রেনারের বাস্তুসংস্থান তত্ত্ব

শিশুর শিখন ও বিকাশে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ মানুষ সাধারণত তার নিকট পরিবেশ থেকে শেখে৷ শিশুর চারপাশের পরিবেশ তার জীবনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে৷ পরিবেশের প্রভাবের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে, গতানুগতিক ধারণা ও তত্ত্বের বাইরে অনেকটা ব্যতিক্রমধর্মী ও কার্যকরী ধারণার উদ্ভাবন করেন ব্রনফেনব্রেনার নামক একজন শিক্ষা মনোবিজ্ঞানী৷ তাঁর এ তত্ত্ব ব্রনফ্রেনব্রেনারের বাস্তুসংস্থান তত্ত্ব (Ecological system theory) নামে পরিচিত৷ এ তত্ত্বে শিশুকে একটি পূর্ণাঙ্গ সত্তা হিসেবে দেখে তাকে সমাজের প্রতিটা স্তর বা সিস্টেমে কিভাবে প্রভাবিত করছে এবং তাঁর আচরণে প্রভাব ফেলছে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে৷ তার মতে, শিশু শুধু শিশু নয়, সে একটি পরিবারের অংশ, আবার পাড়ার একজন সক্রিয় সদস্য, আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (বিদ্যালয়/ ক্লাব/দলের) এবং রাষ্ট্র ও সমাজেরও একজন নাগরিক৷ তাই তাকে সমাজে সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রতি জোর দিয়ে মতামত ব্যক্তি করা হয়৷ আধুনিক যুগে শিক্ষা-বিজ্ঞানে এ তত্ত্বের গুরুত্ব ও প্রয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ শিশু তার নিকট পরিবেশ থেকে দেখে বা নিজে বাস্তবে প্রয়োগ করে অনেক কিছু শেখে৷ বাস্তু-সংস্থান সংক্রান্ত তত্ত্বের মূল কথা হলো- শিশু পরিবেশ, পরিবেশের বিভিন্ন সদস্য ও উপাদান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বৃহত্তর সমাজ ও এগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান সিস্টেম শিশুর শিখন ও বিকাশে প্রভাব বিস্তার করে৷ বাস্তুসংস্থান তত্ত্বটি সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল৷ এ তত্ত্ব শিশুর নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও পরিবেশের ভিন্নতাকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে না, বরং তত্ত্বটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সার্বিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে৷ শিশুর বিকাশে পরিবেশের এই প্রভাবকে এ তত্ত্বে খুবই সুসংগঠিতভাবে দেখানো হয়৷ বর্তমান যুগে এ তত্ত্বটি শিশু শিক্ষায় বেশ গুরুত্বের সাথে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়৷

তত্ত্বটিতে মানব উন্নয়নের ধারাকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে পরিবার, স্থানীয় সামাজিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিদ্যালয়, গণমাধ্যম (রেডিও, টেলিভিশন, খবরের কাগজ, বিজ্ঞাপন) রাষ্ট্র এবং বর্তমান রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়৷ এ তত্ত্ব অনুযায়ী শিশু যে পরিবেশে বাস করে তার একটি প্রভাব তার জীবনের বিভিন পর্যায়ে পড়ে থাকে৷ এখানে পরিবেশ বলতে শুধু শিশুর পারিবারিক পরিবেশের কথা বলা হয়নি৷ বরং তার চারপাশে যে পরিবেশ সেগুলোকেও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে, যেমন-তার পরিবার, সহপাঠী ও খেলার সাথী, পাড়া-প্রতিবেশী, শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন এবং নানা ধরনের সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম-কানুন, যা তাকে প্রভাবিত করে তার কথাও বলা হয়েছে৷ পারিবারিক পর্যায়ে যেমন-ভাইবোনের আচরণ, বাবা/মায়ের নির্দেশনা তাকে ভালো আচরণ বা নিয়মিত বিদ্যালয়ে হাজির হতে প্রভাবিত করছে; তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন আইন/ বিধিও (বিদ্যালয়ে শিশুদের কোনো শাস্তি প্রদান করা যাবে না, নির্দিষ্ট বয়সে টীকা দেয়া, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও অধিকারের প্রশ্নে) শিশুর শিখন ও বিকাশে প্রভাব ফেলছে, অনুরূপভাবে শিশুর প্রতি বৃহত্তর সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি (রাস্তায়/মিডিয়াতে/রাজনীতি/খেলার মাঠ) শিশুর আচরণ ও বিকাশের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে৷ বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত তত্ত্বে শিশু তার পরিবেশের সাথে কিভাবে মিথস্ক্রিয়ায় লিপ্ত হয় ও বিভিন্ন সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ) হয় তা গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়৷ এ তত্ত্বে একটি সিস্টেমের বা চক্রের মাধ্যমে মানব উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপ বর্ণনা করা হয়েছে৷

ব্রনফ্রেনব্রেনারের বাস্তুসংস্থান তত্ত্ব –এর ধাপসমূহ

মাইক্রো সিস্টেম (Microsystem) :

এটি হলো এ চক্রের প্রথম স্তর৷ শিশুর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাব, সকল অভিজ্ঞতা, সকল প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সহযোগে মাইক্রো সিস্টেম অংশটি গঠিত৷ পরিবার, শিশু সেবাকারী এবং সহকারী, বিদ্যালয়, শিক্ষক, শিশু চিকিৎসাসেবা, সামাজিক সেবা ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত৷ শিশুরা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও শিশু কর্তৃক প্রভাবিত হয়৷ যেমন-শিশু তার পরিবারের লোকজন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক প্রভাবিত হয়৷ একইভাবে শিশুর আচরণের ফলে তাদেরও মানসিক পরিবর্তন আসে৷ শিশুর সামাজিক আচরণ শিক্ষকের নির্দিষ্ট ধরনের কর্মকান্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়; একইভাবে শিক্ষক কী করবেন সেটি শিশুর আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হয়৷

মেসো সিস্টেম (Mesosystem) :

মাইক্রো সিস্টেমে একজন দ্বারা অন্যজনের প্রভাবিত হওয়ার মাধ্যমে বা পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণেই বাস্তববিদ্যার দ্বিতীয় স্তরের সৃষ্টি হয়, যাকে তিনি নাম দিয়েছেন মেসো সিস্টেম৷ এর মাধ্যমে একটি সম্পর্কের শক্ত ভিত গড়ে ওঠে৷ মেসো সিস্টেমে যখন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে দৃঢ় সহযোগিতা এবং যোগাযোগ বর্তমান থাকে তখন বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত তত্ত্বানুযায়ী শিশু উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়৷

এক্সো সিস্টেম (Exosystem) :

শিশুর উন্নয়নের ওপর প্রভাবকারী পরিবেশের এই ধাপ (এক্সো সিস্টেম) যা ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরস্পর সংযুক্তি তৈরি করে তবে তা শিশুর জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে না৷ কিন্তু, পরোক্ষভাবে তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে৷ দেখা যায় যে, অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক অবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, সরকারি ব্যবস্থা, ধর্মীয় অবস্থা ইত্যাদি প্রত্যক্ষভাবে শিশুর সামাজিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা না করলেও শিশুর পরিবার, পিতা-মাতাকে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন সহায়তা করে, যা পরোক্ষভাবে শিশুর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ যা বিশেষভাবে শিশুর শিখন ও সার্বিক বিকাশে প্রভাব ফেলে৷ যেমন, একটি দেশ যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করে, কিংবা বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বা শিশু অধিকার সম্পর্কে কার্যকরী বিধি-বিধান প্রণয়ন করে, তা শিশুর বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে৷

ম্যাক্রো সিস্টেম (Macrosystem) :

বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত তত্ত্বের/চক্রের শেষ বা চূড়াস্ত ধাপ৷ এখানে মূলত সমাজে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও আদর্শের দিকগুলোর কথা বলা হয়েছে৷ আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় শিশুর উনড়বয়নে এর সংশ্লিষ্টতা নেই, কিন্তু বাস্তবে শিশুর সার্বিক উন্নয়নে এর গভীর প্রভাব রয়েছে৷ যেমন-যে সমাজে শিশু নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় সেখানে শিশুনির্যাতনের ঘটনা কম ঘটে৷ একইভাবে যে সমাজ বা রাষ্ট্র শিশুর বিকাশের উপযোগী আইন তৈরি করে (শিশুদের সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া, তার খেলা/কাজকে ও শিখনকে গুরুত্ব দেয়া হয়) সেখানে শিশু যেভাবে বেড়ে উঠবে, যে সমাজে এ ধরনের সংস্কৃতি ও মূলবোধ নেই সেখানে অন্যভাবে বেড়ে উঠবে৷

ক্রোনো সিস্টেম (Chronosystem):

এটি এরিক ব্রনফেনব্রেনার কর্তৃক প্রদত্ত কোনো ধাপ নয়৷ পরবর্তীতে বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত তত্ত্বের ধাপগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, শিশু এসব ধাপ দ্বারা সৃষ্ট প্রভাবের বাইরেও কোনো ঘটনা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে৷ যেমন-পারিবারিক বিপর্যয়, সামাজিক বিপর্যয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি বিষয় শিশুকে প্রভাবিত করে৷ বলা হয়ে থাকে, যে কোন প্রাকৃতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিপর্যয়ে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি৷ যেমন, যখন বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে অথবা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস হয় তখন শিশুরাই মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়৷ এসব ঘটনাকে ক্রোনো সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

শিক্ষাক্ষেত্রে ‘ব্রনফ্রেনব্রেনারের বাস্তুসংস্থান তত্ত্ব’ -এর প্রভাব

শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত তত্ত্বের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে৷ একটি শিশু যে পরিবেশে জন্মগ্রহণ করে সেই পরিবেশের যাবতীয় উপাদানের দ্বারা শিশুটির শিখন ও বিকাশে প্রভাব পড়ে৷ যেমন-

  • শিশুর পরিবারে তার বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন তাকে কিভাবে লালন-পালন করছে তার ওপর শিশুটির বেড়ে ওঠা তথা যাবতীয় বিকাশ নির্ভর করে৷ ক্রমান্বয়ে শিশুটি যখন বড় হতে থাকে তখন তার আশপাশে যে সমস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থাকে তারা শিশুটির বিকাশে ভূমিকা রাখে৷
  • সমাজের সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, রীতি-নীতি ইত্যদির প্রভাবও শিশুটির ওপর পড়তে থাকে৷ একটি দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা কেমন হবে তার ওপর নির্ভর করে শিশুটির সাথে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কী ধরনের আচরণ করছে বা সেবা প্রদান করছে৷ সুতরাং, শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক কেমন হবে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কেমন আচরণ করবেন, পাঠদান পদ্ধতি কেমন হবে এতদ্‌সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় ঐ দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে, যা বাস্তববিদ্যার তত্ত্বেরই উপাদান৷ আবার, দেশে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও শিশুদের বেশি প্রভাবিত হতে দেখা যায়৷
  • বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত তত্ত্বটি সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল৷ এটা শুধু সাংস্কৃতিক ভিন্নতাকেই গ্রহণ করে না, বরং ভিন্নতাকে মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত করার চেষ্টা করে৷ তত্ত্বটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে৷
  • শিশুকে শুধু একক শিশু হিসেবে না দেখে তাকে একটি পরিবারের, নিকট পাড়া/গ্রাম, বন্ধু-বান্ধব, বিদ্যালয়, রাষ্ট্র ও সমাজের সদস্য হিসেবে দেখতে হবে৷ তাকে, প্রতিটা স্তরেই এক এক ধরনের মিথস্ক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে লিপ্ত হতে হয়, যা দ্বারা সে প্রভাবিত হয়৷ শিশুর উন্নয়নে তাই এসব বিষয়ও আমাদেরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে৷
  • আমাদের দায়িত্ব হলো, শিশু-বান্ধব শিখন ও বিকাশ উপযোগী পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, রাষ্ট্র ও সমাজ উপহার দেয়া যা তাকে সার্বিক বিকাশে বিকশিত করে তুলবে৷ আর বাস্তববিদ্যা তত্ত্বে এ কথাগুলোই গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয়েছে৷

শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং বিকাশের ব্রনফ্রেনব্রেনারের বাস্তুসংস্থান তত্ত্ব -এর আলোকে শিক্ষকের করণীয়

আমরা জানি শিশু হলো অফুরন্ত সম্ভাবনাময় একটি পূর্ণাঙ্গ মানবসত্তা৷ উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় উদ্দীপনার সুযোগ পেলে পরিপূর্ণ বিকাশে লাভ করবে৷ যুগে যুগে শিশু সম্পর্কে মানুষের ধারণার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে৷ সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শিশুর শিখন ও বিকাশ সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারণা ও তত্ত্বের উদ্ভাবন শিশুদের সম্পর্কে উন্নত ধারণার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে৷ শিশুর সম্পর্কে ধারণা অর্জন, দৃষ্টিভঙ্গি, শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও সার্বিক বিকাশ সম্পর্কিত ধারণা একজন শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত জরুরি৷

একথা সহজে বোধগম্য যে, একজন শিক্ষক যিনি শিশুদের সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ধারন করেন, শিশুর বৃদ্ধি, বিকাশ ও শিখন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখেন তার সাথে, যে শিক্ষক এ সম্পর্কিত ধারণা ও দক্ষতা রাখে না তার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়৷ শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশ ও শিখন দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষকের এসকল বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা আবশ্যক৷

শিশু একজন মানুষ হিসেবে পরিবারের, রাষ্ট্রের ও সমাজের সদস্য হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরিতে এবং শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষকের দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ শিক্ষকের সহায়তা তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিকাশমূলক চাহিদা ও প্রয়োজন মেটানো ও সার্বিকভাবে দেখা জরুরি৷ শিশু বিকাশের সাথে মস্তিষ্কের বিকাশের ভূমিকা এবং সেক্ষেত্রে পরিবেশ ও বড়দের সেবা/পরিচর্যার প্রভাব দুই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ৷ পাশাপাশি পরিবেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাব ও বড়দের বিভিন্ন রকম ক্রিয়ামূলক কাজের প্রভাব সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা থাকতে হবে, যা আমাদের করণীয় কাজসমূহ নির্ধারণ ও প্রণয়নে ভূমিকা রাখে৷

একথা সত্য যে, একটি শিশুর সামাজিক প্রেক্ষাপঠ, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে তার বিকাশে ভিন্নতা দেখা দেয়৷ পাশাপাশি, এটাও সত্য যে, বিকাশের ধারাবাহিক যে ধারাক্রম বা বয়ঃক্রম বেড়ে ওঠার সিঁড়ি রয়েছে তা বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া প্রায় সকল শিশুর ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে৷ আর এসব বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ ও সার্বিক ধারণা লাভ (ব্যবহারের কৌশল প্রয়োগ) করা একজন শিক্ষক হিসেবে অতীব গুরুত্বপূর্ণ৷

4Aug2021

Socio-cultural theory of Lev Vygotsky

লেভ ভিগটস্কির সামাজিক-সাংস্কৃতিক তত্ত্ব

শিশুর বিকাশ সম্পর্কে বিশ্ববিখ্যাত রাশিয়ান শিক্ষাবিদ লেভ ভিগস্কি (Lev Semyonovich Vygotsky) যে তত্ত্ব প্রদান করেন তা ‘Social Learning Theory’ বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক তত্ত্ব নামে পরিচিত । এ তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য হলো শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে তার পরিবার, পরিবেশ ও তাকে দেওয়া শিক্ষা সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে। লেভ ভিগটস্কির সামাজিক-সাংস্কৃতিক তত্ত্ব মতে একজন শিশু সমাজ হতে প্রাপ্ত জ্ঞানকে একত্রিত করে তার কাজ সম্পাদন করে। শিশুর জ্ঞানমূলক বিকাশের সাথে দৈহিক বিকাশ জড়িত থাকলেও সামাজিক ভূমিকাও অস্বীকার করা যায় না।

লেখ ভিগটস্কি (১৮৯৬-১৯৩৪) সালে রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশুনা করলে পুরো জীবদ্দশায় তিনি ২৭০টি বৈজ্ঞানিক আর্টিকেল, অসংখ্য লেকচার এবং মার্ক্সভিত্তিক মনোবৈজ্ঞানিক শিখন তত্ত্ব প্রদান করে।  লেভ ভিগটস্কির সামাজিক-সাংস্কৃতিক তত্ত্ব মতে- চিন্তন (thinking) এবং শিক্ষণ (learning) শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ (inside) এবং স্বতন্ত্র (individual) প্রক্রিয়া নয়৷ বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশে ভাষা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া (social interaction) এবং সংস্কৃতির দ্বারা উচ্চমাত্রায় প্রভাবিত হয়৷ সংস্কৃতি (মূল্যবোধ, বিশ্বাস, রীতি-নীতি, দক্ষতা, সামাজিক দল বা গোত্রের কার্য সম্পাদন প্রক্রিয়া) কিভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয় সেই বিষয়ের ওপরই ভিগস্কির মানব বিকাশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক তত্ত্ব আলোকপাত করেছেন৷ ভিগস্কির মতে, সমাজের পূর্ণবয়স্ক জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছ থেকেই বুদ্ধিবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং দক্ষতাসমূহ সামাজিক উপায়ে শিশুদের কাছে হস্তান্তরিত হয়৷ তিনি বিশ্বাস করেন, চিন্তা করার ধরন এবং সে অনুযায়ী আচরণ করার উপায় আয়ত্তের জন্য সামাজিকভাবে মেলামেশা, বিশেষ করে শিশু এবং পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে সহযোগিতামূলক কথোপকথন অত্যাবশ্যকীয়৷ শিশুরা ভাষার ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জনের সাথে সাথেই অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয় এবং তাদের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশে ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকে৷ বিকাশকে তিনি অপেক্ষাকৃত সক্ষম শিশুর সাথে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের মেলামেশা বা আদান-প্রদানের ফলাফল হিসেবে দেখেন৷ লেভ ভিগস্কির তত্ত্বের আলোকে, শিশুকে আমরা একজন ‘খুদে সামাজিক বিজ্ঞানী’ হিসেবে অভিহিত করতে পারি, যেখানে পিয়াজের তত্ত্বের আলোকে শিশুকে শুধু ‘খুদে বিজ্ঞানী’ বলা যেতে পারে।

ভিগস্কি লক্ষ করেছেন যে কিছু কিছু কাজ শিশুদের জন্য একা করা একটি দুরূহ ব্যাপার কিন্তু এই কাজটিই কোনো পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি অথবা একজন অপেক্ষাকৃত অধিক দক্ষ শিশুর সহায়তা নিয়ে তারা সহজে করতে পারে৷ শিশুর এই জ্ঞানের দুইটি মুহূর্তের ব্যবধানকে তিনি ‘জোন অব প্রক্সিমাল ডিভলপমেন্ট’ (zone of proximal development) হিসেবে আখ্যায়িত কছেন৷ জোন অব প্রক্সিমাল ডেভেলপমেন্টের সর্বনিম্ন পরিসীমা হলো সমস্যা সমাধানের স্তর যেখানে কোনো শিশু একা একা কাজ করে পৌঁছাতে পারে৷ আবার, সর্বোচ্চ পরিসীমা হচ্ছে বাড়তি দক্ষতার স্তর যেখানে শিশু তার নিজের থেকে অধিক দক্ষ কোনো ব্যক্তির সহায়তা নিয়ে কাজ করতে পারে৷ যখন শিশু কোনো বিমূর্ত (abstract) বিষয় থেকে সমস্যা সমাধান করে তখন তারা নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে৷ তবে ভিগস্কি বরাবরই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বাইরের প্রভাব, যেমন-ভাষা, সামাজিক মিথস্কিয়া (social interaction)এবং বৃহত্তর সমাজের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ তিনি মনে করেন, শিশুরা অবাচনিক (non-verbal) এবং ধারণাহীন এ দুই ধরনের ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র মানসিক প্রক্রিয়ায় জীবনের প্রারম্ভিক পর্যায়ে নিজেদেরকে সংযুক্ত রাখে৷

‘লেভ ভিগটস্কির সামাজিক-সাংস্কৃতিক তত্ত্ব’ -এর মূল ধারণাসমূহ (Concepts)

অবাচনিক চিন্তা (non-verbal) :

এটি হলো প্রাথমিক স্তরের একটি মানসিক ক্রিয়া, যেখানে শিশু কোনো ঘটনা বা বস্তুকে দেখে এবং ভাষা ব্যবহার না করেও কাজ করে৷

বাচনিক চিন্তা (verbal) :

ভাষা এবং চিন্তা শিশুকে সুসংহত হতে এবং পরস্পরকে জানতে সহায়তা করে৷ বাচনিক চিন্তা জটিল ধারণাগুলো শেখার ক্ষমতা গঠন করে৷

ধারণাহীন কথামালা :

এটি হলো প্রাথমিক স্তরের একটি ভাষা, যেখানে শিশু কোনো কিছুর অর্থ চিন্তা না করেই শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করে৷ যা পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে ধারণাগত শব্দ হিসেবে তৈরি হয়৷

স্বপরিচালিত কথামালা:

বড় শিশুরা কোনো কিছুর শিক্ষণকে পরিচালনা করার জন্য ভাষা ব্যবহার করে৷ এ সময় শিশুরা নিজের সাথে কথা বলে, প্রায়ই জোরে শব্দ করে কথা বলে৷

স্ক্যাফোল্ডিং (Scalfolding) :

ভিগসস্কির তত্ত্বে স্ক্যাফোল্ডিং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বিশেষ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হয়৷ যেখানে শিশুর সাথে সরাসরি বড়দের কাজ করার বা সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে৷ তাঁর মতে, স্ক্যাফোল্ডিং হলো শিশুর কোনো সমস্যার সমাধান বা উত্তরণের জন্য প্রদত্ত ধারাবাহিক সহায়তা, যা শিশুর অবস্থান বুঝে ধাপে ধাপে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রদান করা হয়৷ শিখনের ক্ষেত্রে শিশুর অবস্থান বুঝে শিক্ষক বা বড়দের দ্বারা অথবা অপেক্ষাকৃত সক্ষম সঙ্গীর দ্বারা বিভিন অবস্থায় স্ক্যাফোল্ড করা হয়৷ শিক্ষক (প্রাপ্তবয়স্করা) শিশুকে পরোক্ষভাবে সূত্র, ইঙ্গিত, উপকরণ/পরিবেশ দিয়ে ও প্রশড়ব করে সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করবেন, কিংবা সমস্যার সরাসরি সমাধান করে দেবেন, কিংবা তাদেরকে সুযোগ করে দেবেন নিজে থেকে সমস্যাটির সমাধান করতে পারার, যার পুরোটাই নির্ভর করবে শিশুর বিকাশের অবস্থানের ওপর৷ তবে, এ প্রক্রিয়ায় শিশুর নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ধারণা/দক্ষতা অর্জনের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই মুখ্য হবে, তাকে কোনো কাজ সরাসরি করে দেয়া নয়৷

প্রক্সিমাল বিকাশের জোন/অঞ্চল (Zone of proximal development) :

কোনো পরিস্থিতি বা সমস্যা যখন শিশুর সামর্থ্য বা চিন্তা ক্ষমতার কিছুটা ওপরের স্তরে অবস্থান করে থাকে তখন শিক্ষক বা পিতা-মাতা অথবা অপেক্ষাকৃত সক্ষম সাথি ইশারা, ইঙ্গিত, উপকরণ, সূত্র ধরিয়ে দিয়ে বা প্রশড়ব করে নিজে থেকে সমাধান খুঁজে পেতে শিশুকে সহায়তা করেন৷ এই অবস্থাকে ভিগস্কি বলেছেন ‘জোন অব প্রক্সিমাল ডেভেলপমেন্ট’৷ ভিগস্কির ত্বরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো Zone of Proximal Development (ZPD)৷ শিশুর একা কোনো কাজ করার সামর্থ্য এবং অন্যের সাহায্য নিয়ে কাজ করার সামর্থ্যের মধ্যে যে এলাকা বা স্তর তা-ই তচউ৷ শিশুর শিখনকে যদি একটি স্কেলের সাথে তুলনা করি, তাহলে এই স্কেলের কোনো একটি পয়েন্টে শিশুর বর্তমান যোগ্যতাগুলো (current abilities)আছে, যা সে নিজে নিজে সম্পন্ন করতে পারে৷ আর এর ওপরে আরো কিছু যোগ্যতা আছে, যা শিশুর সামর্থ্য বা চিন্তা ক্ষমতার কিছুটা ওপরে (potential abilities), যা সে একা একা করতে পারে না৷ কিন্তু যদি পিতা-মাতা বা শিক্ষক সূত্র ধরিয়ে দেন বা প্রশ্ন করে সমাধান খুঁজতে সাহায্য করেন, তবে সেই কাজগুলো শিশুর জন্য করা সম্ভব হয়ে ওঠে৷ এই যে শিশুর current abilities এবং potential abilities-এর মধ্যবর্তী যে এলাকা বা যে দূরত্ব, এটাই জোন অব প্রস্কিমাল ডেভেলপমেন্ট৷ ভিগস্কির মতে, এই জোনের মাঝেই শিশুর শিখন ঘটে এবং এই জোন সর্বদা পরিবর্তনশীল৷

ভিগটস্কি প্রস্তাব অনুযায়ী, শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ত্বরান্বিত করতে শিক্ষক ও পিতা-মাতা শিশুর শিখন প্রμিয়া বা তার চিন্তন প্রμিয়াকে ভাষা এবং সামাজিক মিথস্ঙিঊয়ার (interaction)মাধ্যমে উদ্দীপ্ত করতে পারেন৷ এই অবস্থাটিকে ইংরেজিতে স্ক্যাফোল্ডিং বলে, যাকে আমরা রাজমিস্ত্রি ও তার জোগানদাতার সঙ্গে তুলনা করতে পারি৷ এক্ষেত্রে শিশু হলো রাজমিস্ত্রি আর শিক্ষক বা বাবা/মা হলো জোগানদাতা৷ ভিগস্কি বলেছেন, শিশু যখন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হবে তখন তাকে নিজ থেকেই সেটি সমাধানের সুযোগ দিতে হবে৷ কারণ শিখন বা সন্তান লালন-পালনের মূল লক্ষ্য হলো শিশুর স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা তৈরি হওয়া৷ কিন্তু কোনো সমস্যা যদি শিশুর জন্য অনতিμম্য হয় সেক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করা সেটি সমাধান করে দেবেন৷ আবার সমস্যাটি যদি এমন হয় যে একটু সূত্র ধরে দিলেই শিশু নিজের মতো করে সমস্যাটির সমাধান করতে পারবে সেক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের দায়িত্ব হলো ইঙ্গিত দেয়া বা সূত্র ধরিয়ে দেয়া৷ শিশুর শিখন-চাহিদার ওপর নির্ভর করেই সে অনুযায়ী স্ক্যাফোল্ড করতে হবে৷ তবে কোনো পরিস্থিতি বা সমস্যা যখন শিশুর সামর্থ্য বা চিন্তা ক্ষমতার কিছুটা ওপরের স্তরে থাকে তখন শিক্ষক ও পিতা-মাতা সূত্র ধরিয়ে দিয়ে বা প্রশড়ব করে নিজে থেকে সমাধান খুঁজে পেতে শিশুকে সহায়তা করবেন৷

শিশুর শিখনে এ তত্ত্বের প্রভাব ও শিক্ষক হিসেবে করণীয়: শিশু শিক্ষা ও বিকাশে এ তত্ত্বের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে৷ বেশিরভাগ গবেষক এই তত্ত্বটিকে শিশু শিক্ষায় সরাসরি শিশুর সাথে কাজ করাকে উত্সাহিত করে৷ এ তত্ত্বটিকে অনেকে শিশুর বিকাশে সরাসরি কাজের তথা শ্রেণিকক্ষে বা বিভিন্ন পরিবেশে শিশুর সাথে কাজ করাকে উত্সাহিত করেছে বলে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন৷ কারণ, একজন শিশু শুধু নিজের বয়স ও জ্ঞানের বিভিন্ন স্তর অনুযায়ী কোনো ধারণা অর্জন করে না; এর জন্য তার বড়দের ধারাবাহিক সহায়তা (স্ক্যাফোল্ডিং) প্রয়োজন৷ এ সহায়তা ছাড়া তার কোনো জ্ঞান অর্জনের চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারা সম্ভব হয় না৷ শিশুর প্রতিটা স্তরে তার বিকাশের বিশেষ বিশেষ চাহিদা ও স্তর রয়েছে৷ তাছাড়া, একটি বিশেষ বিষয়েও সে উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না যদি তুলনামূলকভাবে সক্ষম সঙ্গী বা বড়দের ধারাবাহিক সহায়তা (স্ক্যাফোল্ডিং) না পায়৷ শিশুদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানাকে এখানে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে৷ একজন শিশু বিশেষ কোনো স্তরে অবস্থান করছে এবং তার পরবর্তী কোনো স্তরে যেতে হবে তা জানা জরুরি৷ এজন্য তার জোন অব প্রক্সিমাল ডেভেলপমেন্ট (জেপিডি) জানা ও বোঝা একজন শিক্ষক ও যতড়বকারীর জন্য আবশ্যক৷ আবার, তার অবস্থান অনুযায়ী তাকে স্ক্যাফোল্ডিং করার কৌশল জেনে তার সঠিক প্রয়োগ করাও বেশ জরুরি৷ সর্বোপরি, একজন শিক্ষক হিসেবে শিশুর শিখন ও বিকাশে কার্যকর সহায়তা প্রদান করতে এ তত্ত্বের ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷

সমাজের পূর্ণবয়স্ক জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছ থেকেই বুদ্ধিবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং দক্ষতাসমূহ সামাজিক উপায়ে শিশুদের কাছে হস্তান্তরিত হয়৷ তিনি বিশ্বাস করেন, চিন্তা করার ধরন এবং সে অনুযায়ী আচরণ করার উপায় আয়ত্তের জন্য সামাজিকভাবে মেলামেশা, বিশেষ করে শিশু এবং পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে সহযোগিতামূলক কথোপকথন অত্যাবশ্যকীয়৷ শিশুরা ভাষার ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জনের সাথে সাথেই অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয় এবং তাদের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশে ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকে৷ লেভ ভিগস্কির তত্ত্বের আলোকে শিশুকে আমরা একজন খুদে সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে অভিহিত করতে পারি, যেখানে পিয়াজের তত্ত্বের আলোকে শিশুকে শুধু খুদে বিজ্ঞানী বলা হয়েছে৷ এ তত্ত্বে শিশু শুধু শিশু নয় সে, একজন সামাজিক শিশু৷ সে সমাজের অন্যদের সাথে মিলেমিশে ও সহাযতা নিয়ে শেখে৷ তাই, শিক্ষক হিসেবে আমাদের এসব তত্ত্ব সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে সে অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে শিশুদের সহায়তা করতে হবে৷

গঠনবাদ ও সামাজিক গঠনবাদ, ZPD ও স্ক্যাফোল্ডিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রেস করুন।

3Aug2021

Cognitive developmental theory of Jean Piaget

জ্যাঁ পিয়াজের জ্ঞান বিকাশের তত্ত্ব

সুইজারল্যান্ডের দার্শনিক ও মনোবিজ্ঞানী জ্যাঁ পিয়াজে জ্ঞানমূলক বিকাশের বিভিন্ন দশা নিয়ে তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তাঁর পুরো নাম Jean William Fritz Piaget (৯ই আগস্ট ১৮৯৬ – ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৮০)।  প্রথম দিকে তিনি জীববিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন সূচনা করলেও জ্ঞানমূলক বিকাশ নিয়ে গভীর থেকে গভীরতরভাবে অনুসন্ধিৎসু হয়ে পড়েন। তিনি শিশুদের মধ্যে পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন বস্তুর প্রতি প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেন। গর্ভাবস্থা থেকেই শিশু শিখতে শুরু করে৷ গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিটা শিশুই গর্ভ থেকে শেখার জন্য তৈরি হয়৷ শিশুর জ্ঞানের বিকাশ কিভাবে ঘটে বা শিশু কিভাবে পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে সে সম্পর্কে জ্যাঁ পিয়াজে জ্ঞান বিকাশ নামক তত্ত্ব আবিষ্কার করেন৷ আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিখন তত্ত্ব অধ্যয়েনের ক্ষেত্রে এই তত্ত্বটি জ্যাঁ পিয়াজের জ্ঞান বিকাশের তত্ত্ব নামে পরিচিত৷

জ্যাঁ পিয়াজের জ্ঞান বিকাশের তত্ত্ব মতে, প্রতিটি শিশু তার নিজস্ব চিন্তা বা মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীকে নিজের মতো করে প্রত্যক্ষ করতে শেখে৷ শিশুরা নিজের মতো করে পৃথিবীর নানা কিছু সম্পর্কে জ্ঞান ও তথ্য সংগ্রহ করতে শেখে এবং সে আস্তে আস্তে তার পরিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে খাপ খাওয়াতে শেখে৷ পারিপার্শ্বিক বিভিন বস্তু ও ঘটনার সাথে পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর খাপ খাওয়ানোর এই প্রক্রিয়াই পিয়াজের তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়৷

জ্যাঁ পিয়াজে শিশুদেরকে তাদের বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখেন৷ পিয়াজের মতে, একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ হচ্ছে ক্রমশ জটিল মানসিক কাঠামোর গঠন প্রক্রিয়া এবং এটিকে তিনি “স্কিমাস্‌” (schemes) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন৷ পিয়াজের মতে, শিশুরা সক্রিয়ভাবে তাদের চারপাশের পরিবেশ অনুসন্ধান (exploration) এবং পরিবেশের বিদ্যমান উপকরণসমূহ দক্ষতা সহকারে ব্যবহারের (manipulation) মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজস্ব জ্ঞান অর্জন করে৷ তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিশুরা নতুন তথ্য অথবা ধারণা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিদ্যমান চিন্তা-ভাবনাকে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করে এবং এই নতুন তথ্যই পরবর্তীতে তাদেরকে কোনো কিছু বুঝতে সাহায্য করে এভাবেই শিখন সংগঠিত হয়৷ পিয়াজে শিশুকাল থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশের চারটি প্রধান ধাপ চিহ্নিত করেছেন৷ প্রতিটি ধাপেই ব্যক্তিবিশেষ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে, নাড়াচাড়া এবং অনুসন্ধান করার মাধ্যমে তার চারপাশের পরিবেশ থেকে জ্ঞান অর্জন করার জন্য সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত৷ এ তত্ত্বের আলোকে, একজন শিশুকে ‘একক খুদে বিজ্ঞানী’ হিসেবে অভিহিত করা যায়৷ শিশুর চিন্তা করার প্রক্রিয়া বয়স্ক মানুরে চিন্তা করার প্রক্রিয়া থেকে আলাদা৷ পিয়াজের মতানুসারে মানুষ তার চিন্তা করার প্রক্রিয়াকে মানসিক কাঠামোতে সংগঠিত করার ক্ষমতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে৷ এই মানসিক কাঠামোর সাহায্যেই শিশুরা পরিবেশের সাথে মিথষ্ক্রিয়া করে এবং পৃথিবী সম্পর্কে নানারকম জ্ঞান লাভ করে৷ শিশুর সাধারণ মানসিক কাঠামোগুলো আস্তে আস্তে একত্র হয়ে কার্যকরী বা সমন্বিত মানসিক কাঠামোতে পরিণত হয়৷

শিশুর জ্ঞান বিকাশের ক্ষেত্রে স্কিমার ভূমিকা

পিয়াজে তাঁর জ্ঞান বিকাশের তত্ত্বে শিশুর এ ধরনের মানসিক কাঠামোকে বলেছেন স্কিমা (schema)৷ এই স্কিমাগুলোই শিশুর চিন্তার মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে৷ শিশুর স্কিমা সুসংগঠিত ও নতুন স্কিমা বিকাশ লাভ করার মাধ্যমেই সে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে৷ পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য দুটি মৌলিক প্রক্রিয়া কাজ করে৷ এগুলো হলো আত্মীকরণ (assimilation) এবং অভিযোজন (accommodation)৷ শিশু তার স্কিমার সাহায্যে যে কোনো তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও নির্বাচন করে থাকে৷ সে যদি কোনো নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয় তাহলে সে তার বর্তমান স্কিমার সাহায্যে সমাধানের চেষ্টা করে৷ যেমন-একটি শিশুর যদি বিড়ালের বাচ্চা দেখার অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে সে কুকুরের বাচ্চা দেখলে তাকে প্রমে বিড়ালের বাচ্চা ভাবতে থাকে৷ বর্তমান অভিজ্ঞতার সাথে মিলিয়ে সমস্যার সমাধানের এই প্রক্রিয়া আসলে আত্মীকরণ৷ আবার সমস্যা সমাধানে শিশুর বর্তমান স্কিমা যদি কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তার প্রয়োজন হয় নতুন স্কিমার৷ শিশু নতুন স্কিমা সৃষ্টি করে তার সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়৷ এভাবে নতুন স্কিমা সৃষ্টি হলো অভিযোজন৷ মূলত আত্মীকরণ ও অভিযোজন এ দুই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশু তার মধ্যে সৃষ্ট সাময়িক ভারসাম্য দূর করার চেষ্টা করে এবং সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ভারসাম্য অবস্থায় ফিরে আসে৷ একটি শিশুর এই ভারসাম্য অবস্থানে ফিরে আসা হলো উপযোজন (adaptation)৷

শিশুর জ্ঞান বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ স্তর বা কাল :

পিয়াজে তাঁর জ্ঞান বিকাশের তত্ত্বকে মোট চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন৷

১. ইন্দ্রিয়-পেশির সমন্বয়কাল (sensorimotor period) জন্ম থেকে ২ বছর

২. প্রাক-প্রায়োগিক কাল (pre-operational period) ২ থেকে ৭ বছর

৩. বাস্তব প্রায়োগিক কাল (concrete operational period) ৭ থেকে ১১ বছর

৪. রীতিবদ্ধ প্রায়োগিক কাল (formal operational period) ১১ থেকে ১৫-১৬ বছর৷

১. ইন্দ্রিয়-পেশির সমন্বয়কাল (শিশুর জন্ম থেকে ২ বছর) :

এই পর্যায়ে শিশুর বিকাশ মূলত ইন্দ্রিয় ও পেশির নড়াচড়ার মাধ্যমে হয়৷ এই পর্যায়ে একটি শিশুর মাঝে দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়, (১) বস্তুর স্থায়িত্বের ধারণা ও (২) লক্ষ্যাভিমুখী আচরণ৷ শিশুর সামনে থেকে কোনো কিছু সরিয়ে নিলে সে বস্তুটি কোথায় আছে সে সম্পর্কে ধারণা পায়৷ এছাড়া শিশু কোনো কিছু দেখলে তা ধরতে চায় এবং সেদিকে অগ্রসর হয়৷ শিশুর এই বিকাশের কালকে পিয়াজে আবার ছয় স্তরে ভাগ করেছেন৷

১. প্রথম স্তর (জন্ম থেকে এক মাস) : এই পর্যায়ে শিশুর সংগতিবিহীন অঙ্গ সঞ্চালন দেখা যায়৷

২. দ্বিতীয় স্তর (১ থেকে ৪ মাস) : শিশু অসংগতিপূর্ণভাবে হাত-পা নাড়াচাড়া করে৷ সে তার হাতের আঙুল চুষতে পারে৷

৩. তৃতীয় স্তর (৪ থেকে ৮ মাস) : এই অবস্থায় শিশু তার নাগালের মধ্যে সবকিছু ধরতে চেষ্টা করে৷

৪. চতুর্থ স্তর (৮ থেকে ১২ মাস) : এই সময় শিশু শারীরিক বিকাশের সাথে সাথে মানসিক বিকাশ লাভ করে৷ সে হামাগুড়ি দিতে শেখে, কোনো কিছু ধরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে৷

৫. পঞ্চম স্তর (১২ থেকে ১৮ মাস) : শিশুরা এই পর্যায়ে হাঁটতে শেখে এবং নতুন নতুন উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে৷

৬. ষষ্ঠ স্তর (১৮ থেকে ২৪ মাস) : অনুকরণের মাধ্যমে এই পর্যায়ে শিশু বিকাশ লাভ করে৷ শিশু অনুকরণের মাধ্যমে শব্দ, খেলাধুলা ইত্যাদি আয়ত্ত করতে শেখে৷ শিশু কোনো বস্তুর বদলে প্রতীক ব্যবহার করতে শেখে, যেমন-শিশু লাঠির ওপর ভর দিয়ে লাঠিকে ঘোড়া হিসেবে ব্যবহার করে৷

২. প্রাক-প্রায়োগিক কাল (২ থেকে ৭ বছর) :

এই পর্যায়ে শিশু তার মানসিক ক্ষমতা পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে পারে না৷ পিয়াজে এই স্তরকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন৷ একটি প্রাক-ধারণার স্তর, অপরটি উপলব্ধির স্তর৷ প্রাক-ধারণার স্তরে (২ থেকে ৪ বছর) শিশুর শব্দভান্ডার ২০০ থেকে ২০০০ শব্দে বৃদ্ধি পায়৷ শিশুর চিন্তাধারা থাকে একমুখী৷ শিশুর ভাষার ব্যবহার বেড়ে গেলেও সে তার ইন্দ্রিয়ের দ্বারা লব্ধ জ্ঞান সুবিন্যস্ত আকারে প্রকাশ করতে পারে না৷ যেমন-তাকে গল্প বলতে বললে সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না৷

উপলব্ধির স্তরে (৪ থেকে ৭ বছর) শিশুদের মধ্যে নতুন নতুন মানসিক ক্ষমতা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটে৷ শিশু বস্তুর ধারণা ও তার ভৌত পরিবর্তন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে৷ তবে এই জ্ঞান অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে অস্পষ্ট৷ বস্তুর ভৌত পরিবর্তন সম্পর্কিত ধারণাকে বলা হয় সংরক্ষণ৷ যেমন-একটি শিশুকে যদি সমপরিমাণ দুই গ্লাস পানি দেখানো হয় তাহলে সে বলবে পানির পরিমাণ সমান৷ আবার সরু গ্লাস পরিবর্তন করে একটি সঁরু গ্লাসে এবং অপরটি স্বাভাবিক গ্লাসে রাখার পর শিশু স্বাভাবিকভাবেই বলবে গ্লাসে পানি বেশি আছে৷ কিন্তু উপলব্ধির স্তরের শিশুরা বলবে দুপাত্রেই পানি সমান পরিমাণে আছে৷

৩. বাস্তব প্রায়োগিক স্তর (৭ থেকে ১১ বছর):

শিশুর জ্ঞান বিকাশের এই পর্যায়ে শিশুর চিন্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বস্তু ও ঘটনানির্ভর হয়৷ বস্তুর স্থিতি সম্পর্কে ধারণা লাভ, বস্তুর পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা ও পরিবর্তনের বিপরীতমুখিতা সম্পর্কে ধারণা হলো এই পর্যায়ের মূল বৈশিষ্ট্য৷

৪. রীতিবদ্ধ প্রায়োগিক কাল (১১ থেকে ১৫-১৬ বছর):

শিশুর বিকাশের শেষ স্তর হলো রীতিবদ্ধ প্রায়োগিক কাল৷ এই সময়ে শিশুরা সহযোগিতামূলক মনোভাবের অধিকারী হয়৷ তার জীবনে সামাজিক পরিবর্তনের ধারণা সূচিত হয়৷ সে আলোচনায় আগ্রহী হয়ে ওঠে, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করে৷ শিশুর মাঝে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও এই পর্যায়ে হয়ে থাকে৷ তার মধ্যে চিন্তা, মনঃসংযোগ ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের ধারণা বৃদ্ধি পায়৷ সে কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যোগ্যতা অর্জন করে৷ চিন্তাশক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে এই স্তরের ছেলে-মেয়েরা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ধারণা লাভ করে৷ এই পর্যায়ের আর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো বয়ঃসন্ধিকালের আত্মকেন্দ্রিকতা৷ এই সময় একজন শিশু মনে করে তাকে তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখে অন্যরা৷ ফলে বেশিরভাগ সময় শিশু আত্মকেন্দ্রিকতায় ভোগে৷

শিশুর শিখনে এ তত্ত্বের প্রভাব ও শিক্ষক হিসেবে করণীয়

শিশুর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য তার বয়স ও স্তরভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে৷ শিশুকে তার বয়সের ভিন্নতা অনুযায়ী জানা ও বোঝা যেমন জরুরি, তেমনি সে অনুযায়ী সেবা/ক্রিয়াকর্ম নির্ধারণ করাও জরুরি৷ বয়সভেদে শিশুর চাহিদা ও প্রয়োজন যেমন ভিন্ন হয়, তেমনি তার শিখন ও বিকাশের ধরনেও ভিন্নতা দেখা দেয়৷ শিশুরা বড়দের মতো করে চিন্তা করে না৷ তাদের রয়েছে নিজস্ব চিন্তার জগত্, যা বড়দের থেকে আলাদা৷ জ্ঞান বিকাশের কোনো পর্যায়ে শিশু আছে সে অনুযায়ী তাকে নির্দেশনা দিলে শিশুর জ্ঞানের বিকাশ আরো বৃদ্ধি পাবে৷ সুতরাং, শিশুকে তার স্তর অনুযায়ী নির্দেশনা দেয়া অত্যন্ত জরুরি৷ শিশুর বিকাশের স্তর অনুসারে শিশুকে নির্দেশনা দিতে হবে, যা তার বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে দ্রুত৷ শ্রেণিতে শিখন শেখানো কার্যক্রম বা শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিশুদের পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষক শিশুর বিকাশের বিভিন স্তর সম্পর্কে একটা পূর্ণাঙ্গ ধারণা ও বিভিন্ন স্তরে শিশুর শিখন কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হবে৷ সার্বিকভাবে, শিশুর শারীরিক ও মানসিক ধারণক্ষমতার কথা বিবেচনা করে শিখন পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে৷ সর্বোপরি, পিয়াজের মতবাদ অনুধাবন করলে একজন শিক্ষক শিশুর সমস্যা যেমন সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন তেমনি সে অনুযায়ী সমাধানের জন্য অনেক বেশি সচেষ্ট হতে পারবেন৷

2Aug2021

Learning theory

শিখন তত্ত্ব

পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ মানুষ বা প্রাণির আচরণের অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তনকে শিখন বলা হয়। শিখন একটি অবিরাম প্রক্রিয়া কারণ আমরা জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে পর্যন্ত কিছু না কিছু শিখে থাকি। সাধারণভাবে শিখন বলতে বুঝায় আচরণের তুলনামূলক স্থায়ী পরিবর্তন।

মানুষ প্রতিনিয়ত জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি কিছু না কিছু শিখছে।  এখন প্রশ্ন হলো- ‘মানুষ কীভাবে শিখে’? মানুষের শেখার এই ব্যাপারটি নিয়ে মনোবিদ ও শিক্ষাবিদগণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের তাত্ত্বিক ধারণা প্রকাশ করেছেন যেখানে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছেন যা শিখন তত্ত্ব নামে পরিচিত।

শিখন তত্ত্ব শিখন শেখানো প্রক্রিয়ার সঠিক এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার উপায় এবং এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অর্থপূর্ণ ধারণা লাভে সহায়তা করে। মূলত শিখন তত্ত্ব হতে প্রাপ্ত লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে একজন শিক্ষক শিক্ষণ পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফলপ্রসূ পাঠদানে সমর্থ হন।

এসকল শিখন তত্ত্ব হতে শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কিত নানা ধরণের প্রশ্ন লক্ষ্য করা যায়। যেমন

[…]
31Jul2021

Inclusive education

একীভূত শিক্ষা কী?

সকল শিশুর শিখন চাহিদা পূরনের একটি টেকসই মাধ্যম হল একীভূত শিক্ষা। একীভূত শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রীক উন্নয়নের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেকেই একীভূত শিক্ষাকে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের একটি পদ্ধতি বা উপায় মনে করে থাকেন। কিন্তু এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা মাত্র। প্রকৃতপক্ষে একীভূত শিক্ষা এমন একটি শিক্ষা দর্শন যার নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যদল নেই, যে কোনো শিশুই শিক্ষাব্যবস্থার যে কোনো প্রেক্ষিতে (যেমন: ভর্তি, অংশগ্রহণ, অর্জন ইত্যাদি) বৈষম্যের স্বীকার হলেই তারা একীভূত শিক্ষার লক্ষ্যদল হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইউনেস্কোর (২০০৯) নির্দেশনা অনুযায়ী একীভূত শিক্ষা হলো :

[…]
30May2021

Competency based curriculum at primary level in Bangladesh

প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ১৯৮৬ সালে এবং এই যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম দেশব্যাপী প্রবর্তনের কাজ আরম্ভ করা হয় ১৯৯২ সালে প্রথম শ্রেণীতে এবং পর্যায়ক্রমে পঞ্চম শ্রেণীতে সম্পন্ন হয় ১৯৯৬ সালে।

[…]
14Dec2019

উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নত দেশের উপর নির্ভরশীলতার নেতিবাচক দিকসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হল-

  • উন্নয়ন বলতে অর্থনৈতিক উন্নয়নকেই বুঝায়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বৈদেশিক সাহায্য ও অনুদান নির্ভর হওয়ায় দেশীয় অর্থনীতির ভিত দূর্বল হয়ে পড়ে;
  • মাথাপিছূ আয় বৃদ্ধি শ্লথগতি হয়ে পড়ে;
  • মূলধন বা পুঁজির অভাবে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে ফলে টেকসই অবকাঠামো তৈরি হয় না;
  • নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে পরনির্ভরশীলতা, উত্তেলিত প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে না পারা;
  • আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় টেকসই উন্নয়নে উন্নত দেশগুলির উপর অধিক নির্ভরশীলতার ফলে স্বল্পমেয়াদী উন্নয়ন করতে হয় যার ফলে অর্থের অপচয় ঘটে;
  • উপনিবেশিক সাম্রাজ্যের অবসান ঘটলেও মানসিক পরিবর্তন না হওয়া;
  • উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদ্যমান সম্পদগুলো অব্যবহৃত থাকা;
  • বিশ্বায়নের ফলে দেশীয় শিল্প বিশ্ববাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারা;
  • মেধা পাচার হয়ে যাওয়া;
  • সঞ্চয় বিনিয়োগ ঘাটতি;
  • আমদানী-রপ্তানী ঘাটতি;
  • আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাহায্যের নামে পুঁজি বিনিয়োগ করে ঋণ প্রদানের নামে উন্নয়নশীল দেশগুলো অর্থনীতি ও বাণিজ্যনীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি।
14Dec2019

Developing countries are the main obstacles to development

উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নয়নের জন্য বাধা প্রদান করে থাকে। নিম্নে বাধাসমূহের উল্লেখ করা হলো:

  • মূলধন গঠন;
  • দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি;
  • প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার অভাব;
  • উন্নত দেশগুলোর উপর নির্ভশীলতা;
  • টেকসই পরিবেশ ও শিক্ষাব্যবস্থা;
  • জনস্বাস্থ্য সমস্যা;
  • জনগণের অংশগ্রহণ ইত্যাদি।

Ad

error: Content is protected !!