বিটিপিটি

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশ

প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ | Primary Teachers Training

Student and learning friendly environment in the school

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশ

শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ কী?

যে পরিবেশে শিশু সহজে, স্বাচ্ছন্দে, নিরাপত্তার সাথে, সুস্বাস্থ্যে, সাগ্রহে ও সুরক্ষিত হয়ে পাঠ গ্রহণ করে থাকে তাঁকেই শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ বলে। এ ধরনের পরিবেশে শিশুর শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক, আবেগিক বিকাশের স্ফুরন ঘটে। শিক্ষার্থী বান্ধব ও শিক্ষক বান্ধব পরিবেশই হচ্ছে শিখনবান্ধব পরিবেশ।

যে বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ এবং শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ পথ সাজানো-গোছানো, শ্রেণিকক্ষ হবে অংকন ও সৃজনশীল কাজে পরিপূর্ণ, বিদ্যালয়ের ওয়াশরুম পরিচ্ছন্ন এবং প্রত্যেকের ব্যবহার উপযোগী, বিদ্যালয়ে থাকবে ফুলের বাগান এবং সৌন্দর্যবর্ধক চিত্রায়ন/কার্টুন চরিত্র ইত্যাদি পূর্ণ বিদ্যালয় হবে শিক্ষার্থী বান্ধব বিদ্যালয়।

শিখন বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্য কী?

শিখন বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্য হলো বিদ্যালয়ে এবং শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এবং শিখন নিশ্চিত ও উন্নতকরণ।

শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্য শুধু পাঠ্যক্রম, বই-পুস্তক বা পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নতি নয় বরং এগুলো প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখনকে সক্ষম করে তোলে সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া।

শিখনবান্ধব পরিবেশ শিশুদের জীবন দক্ষতা ও স্বাস্থ্যসম্মত জীপনযাপন সম্পর্কে শিক্ষা দেয় যাতে তারা নিজেদেরকে বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

এ ধরনের পরিবেশ শিক্ষক, অভিভাবক, এসএমসি ও পিটিএ, শিক্ষার্থীর পরিবার, সমাজের মূল মানুষ সকলকেই শিশুদের শিখনের পরিবেশ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করবে, তাদেরকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসবে, তাদের পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে সবাইকে মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করবে।

শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশের বৈশিষ্ট্য ও বিবেচ্য বিষয়সমূহ কী কী?

শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশের বৈশিষ্ট্য:

শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশ সব শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করে যা তাদের জন্য উপযুক্ত, নিরাপদ ও শিখনের সহায়ক হয়।

অংশগ্রহণমূলক কাজের সুযোগ থাকে এবং পারস্পরিক সহায়তার উন্নয়ন ঘটায়। ফলে সকলের প্রতি যত্নশীল এবং সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করে।

এই পরিবেশে নমনীয়তার নীতিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করা হয়। তাই শিশু নিজেই শিখনে তৎপর হয় এবং সব শিশু আগ্রহ নিয়ে শেখে।

জেন্ডার ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল এমন পরিবেশ হয় সুষম ও বৈষম্যহীন। এটি শিশুর আলাদা  বৈশিষ্ট্যকে মর্যাদা দেয় এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

শিখন কাজে উপযুক্ত শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ভিন্নতা ও চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা হয়;

স্বাস্থ্য বিষয়ক নীতিমালা সবাইকে মেনে চলতে উৎসাহিত করা হয় এবং বিদ্যালয়ের সাথে চিকিৎসকের নিয়মিত যোগাযোগ হয়।

ছেলে, মেয়ে বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী সকলের কথা মাথায় রেখে কমনরুম বা বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকে।

শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে বিবেচ্য বিষয়:

বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ সু-প্রশস্থ ও সুগম হতে হবে;

বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর থাকবে;

বিদ্যালয়ের পাশে উম্মুক্ত নালা, খাল, বিপদজনক রাস্তা থেকে চলাচলের ব্যবস্থা আলাদা করা প্রয়োজন;

পর্যাপ্ত ল্যাট্রিন ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা থাকা;

নিরাপদ পানির সু-ব্যবস্থা থাকা;

সমতল ও পরিচ্ছন্ন মাঠ;

শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেটে আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকা;

উজ্জ্বøল রঙ ও সু-সজ্জিত শ্রেণিকক্ষ;

আসবাবপত্র শিশুর নাগালের মধ্যে থাকতে হবে;

আসন বিন্যাস এমন হবে যাতে সহজে আসা যাওয়া করা যায়;

বোর্ড খুব উঁচুতে হবে না;

শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান থাকা;

বিদ্যালয়ে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা থাকা;

স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা, অর্থাৎ ভয়মুক্ত পরিবেশ থাকা;

শিক্ষকের ব্যবহার মাতৃসুলভ, সহজ ও স্বাভাবিক হবে;

শাস্তির ব্যবস্থা না থাকা;

শ্রেণিপাঠ হবে আনন্দদায়ক ও অংশগ্রহণমূলক এবং উপকরণের ব্যবস্থা থাকা;

খেলাধুলার পর্যাপ্ত উপকরণের ব্যবস্থা থাকা ও খেলার সুযোগ দেয়া;

মাঝে মাঝে আনন্দদায়ক ভিডিও প্রদর্শন;

সৃজলশীল কাজের সুযোগ থাকা;

সর্বোপরি বিদ্যালয়কে শিশুর প্রিয় প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলা।

 

শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কোনগুলো? এসকল প্রতিবন্ধকতা হতে উত্তরণের উপায় আছে কি?

শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশ গঠনে প্রতিবন্ধকতা:

বিদ্যালয়ের দুর্গম অবস্থান ও দুর্বল অবকাঠামো;

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ শিখনবান্ধব না হওয়া;

অভিভাবকের অজ্ঞতা ও অসচেতনতা;

বিদ্যালয় পরিবেশ উন্নয়নে এসএমসি ও পিটিএ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকা;

বিভিন্ন পেক্ষাপট থেকে আগত শিক্ষার্থীর প্রতি পার্থক্যসূচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ;

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শনাক্তকরণে শিক্ষকদের অসমর্থতা;

বিদ্যালয় উন্নয়নে প্রাপ্ত বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া;

চাহিদার বিভিন্নতা বিবেচনায় শ্রেণিকক্ষে আসবাবপত্রের অভাব;

উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণের অপ্রতুলতা;

পর্যাপ্ত জেন্ডার সংবেদনশীল স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকা;

বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ ও পর্যাপ্ত উপকরণ না থাকা;

অপর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ।

শিক্ষার্থী ও শিখন বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণের উপায়:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার সাধন;

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ;

চাহিদার বিভিন্নতা অনুযায়ী শিক্ষা উপকরণ সরবারহ ও ব্যবহার বৃদ্ধিকরণ;

বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি ও খেলাধুলার উপকরণ সংগ্রহ;

সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আনয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতেকর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন;

বিদ্যালয়ে জেন্ডার নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করা;

বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষকে সু-সজ্জিতকরণ;

শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকা;

পর্যাপ্ত জেন্ডার সংবেদনশীল স্যানিটেশন ব্যবস্থা রাখা;

শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থী সকলকেই প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া;

সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণমূলক কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা;

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের যথার্থ ব্যবহার;

বিদ্যালয়ে খেলানির্ভর শিখন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা;

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর প্রতি সহিংসতা ও  শাস্তি পরিহার করা;

বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা;

সকলের জন্য পাঠ-গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করা


 

মতামত দিন

নিউজলেটার

থাকার জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।