বিটিপিটি

স্যানিটেশন ব্যবস্থা

প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ | Primary Teachers Training

Sanitation system

স্যানিটেশন ব্যবস্থা

স্যানিটেশন ব্যবস্থা বলতে কী বুঝায়?

স্যানিটেশন হল স্বাস্থ্যব্যবস্থা। স্যানিটেশন বলতে শুধু মলমূত্র নিষ্কাশনের নিরাপদ ব্যবস্থাপনাকেই বোঝায় না। মলমূত্র নিষ্কাশনসহ, আর্বজনা অপসারণ, খাদ্যদ্রব্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাসহ পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও স্যানিটেশনের অন্তর্ভুক্ত। তাহলে আমরা বলতে পারি, সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেচেঁ থাকার জন্য নিরাপদ পানি, পায়খানা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন সুবিধাদির সংস্থান, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যে সকল অভ্যাস ও আচরণবিধি মেনে চলা প্রয়োজন তা হচ্ছে স্যানিটেশন।

অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার মন্দ দিক:

বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়, যেমন: ডায়রিয়া, আমাশয়, কৃমিজনিত রোগ, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, জন্ডিস, চর্মরোগ, চোঁখের অসুখ ইত্যাদি;

পরিবেশ দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর হয়;

শিশুদের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে;

জমে থাকা পানিতে এডিস মশার সৃষ্টি হয় ফলে শিশুরা সহজেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়;

শিশুদের বিভিন্ন ইউরিনাল জাতীয় সমস্যা তৈরি হয়;

অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে রোগব্যাধি দেখা দেয়;

শিশু অপুষ্টিতে ভোগে ও শারীরিক দুবর্লতা দেখা দেয়।


অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা হতে প্রতিরোধের উপায়:

উন্মুক্ত স্থানে বা যেখানে সেখানে মলত্যাগ করা বন্ধ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ছেলে ও মেয়ে এবং পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা;

নিরাপদ পানির সু-ব্যবস্থা থাকা এবং টয়লেট ব্যবহারের আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা;

যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করা যাবে না এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে আর্বজনা ও ময়লা নিষ্কাষণে সু-ব্যবস্থা থাকা;

বিদ্যালয়ের আশেপাশে ভাঙ্গা দ্রব্যাদি ফুলের টব ও অন্যান্য কিছুতে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করা;

বিদ্যালয়ে টয়লেট একসেসরিস যেমন: হারপিক, ব্রাশ, বালতি, ঝাড়, ফিনাইল, বিøচিং পাউডার ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা এবংটয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ এর ব্যবস্থা করা;

খোলা ও অপরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা। বিদ্যালয়ের বাহিরে এ ধরনের দোকান ও হকার কে প্রশ্রয় না দেয়া;

বিদ্যালয়ের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে;

স্টুডেন্ট কাউন্সিল পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা।

 

বিদ্যালয় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উপায়:

যেখানে সেখানে কাগজ, কোন কিছুর খোসা, কফ, থুথু ইত্যাদি ফেলা যাবে না;

কাগজসহ যে কোন জিনিস ফেলতে হলে তা সেখানে না ফেলে একটি ঝুড়িতে রেখে তা আবর্জনা ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে;

বিদ্যালয়ের আশেপাশে ভাঙা যে কোন দ্রব্যাদি, ফুলের টব বা অন্যান্য যে কোন কিছুতে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে;

মলমূত্র ত্যাগের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে;

লক্ষ্য রাখতে হবে ৪/৫দিনের বেশি পরিষ্কার পানি যেন কোথাও জমে না থাকে। প্রয়োজনে লবণ পানি ছিটিয়ে দিতে হবে যেন ডেঙ্গু রোগের জীবাণু বহনকারী এডিস মশার বিস্তার না ঘটতে পারে। কারণ জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে;

বিদ্যালয়ের চারপাশে ড্রেনের ব্যবস্থা থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।



মতামত দিন

নিউজলেটার

থাকার জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।