শিক্ষক অভিভাবক সমিতি (পিটিএ)
Parents Teachers Association (PTA)
শিক্ষক অভিভাবক সমিতি (পিটিএ)
বিদ্যালয় মানে শিশুর অবারিত ক্ষেত্র। বিদ্যালয়সমূহ শিশু দ্বারা সবসময় মুখরিত থাকবে এ প্রত্যাশা সকলের। বিদ্যালয়ে শিখন-শেখানো কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে শিশুদেরকে নিবিড়ভাবে জানতে হয়। আর শিশুকে নিবিড়ভাবে জানার জন্য তাদের মা-বাবা, অভিভাবকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। তাছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে শিশুদের দুর্বলতা নির্ধারণ করা এবং তা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে শিক্ষকগণকে সহায়তা করতে পারেন। তাছাড়া অভিভাবকগণ বিদ্যালয় সম্পৃক্ত হলে শিক্ষকগণের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হয়। এজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক সমিতি (পিটিএ) রয়েছে। শিক্ষক অভিভাবক সমিতি অভিভাবকগণের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। ফলে বিদ্যালয়ের প্রতি জনগণের অংশীদারিত্বমূলক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় হয়ে ওঠে জনগণের প্রতিষ্ঠান। পিটিএ কার্যকর থাকলে শুধু শিক্ষকগণেরই নয় এসএমসি’র দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনেও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
পিটিএ’র নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য
১. বিদ্যালয় এলাকায় জরিপ কাজ পরিচালনায় সহায়তা প্রদান করা;
২. শিক্ষক অভিভাবকের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা;
৩. বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কল্যাণ সমিতি গঠন ও সম্পদ সংগ্রহ করা ;
৪. বিদ্যালয়ের পরিবেশ আকর্ষণীয় করার জন্য শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সহায়তা প্রদান করা;
৫. অভিভাবকগণ নিজেদের সন্তানের লেখাপড়ার প্রতি যেরূপ যত্নবান হবেন, পাড়া প্রতিবেশীদের সন্তানদের লেখাপড়ার প্রতি সেরূপ গুরুত্ব প্রদানে উৎসাহিত করবেন;
৬. প্রয়োজন বোধে বিদ্যালয় গৃহ মেরামত করা, বিদ্যালয় অঙ্গন পরিষ্কার করা এবং বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা;
৭. শিশুদের মধ্যে মানবিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতাবোধ আনায়নের জন্য চেষ্টা করা;
৮. বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহপাঠক্রমিক কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে সহযোগিতা প্রদান এবং সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করা;
৯. প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সকল পেশাজীবী মানুষ এবং স্থানীয় এলাকাবাসীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা;
১০. শিক্ষার্থীদের অননুমোদিত বিদ্যালয় ত্যাগের কারণ অনুসন্ধান করে বিদ্যালয় ত্যাগ রোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
১১. বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তোলা;
১২. সাব ক্লাষ্টার প্রশিক্ষণে সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারদের সহায়তা করা;
১৩. শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারদের হোম ভিজিট কার্যক্রমে সহায়তা করা;
১৪. গৃহে অভিভাবকগণ যাতে শিশুদের লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা;
১৫. স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক মালিকানার ধারণা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করা।
নির্বাহী কমিটির মেয়াদ:
নির্বাহী কমিটি ৩ বৎসরের জন্য নির্বাচিত হবে। দায়িত্ব গ্রহণে তারিখ হতে কমিটি ৩ বৎসরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন পূর্বে পরবর্তী কমিটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক -অভিভাবক সমিতির সাধারণ সভা বছরে অন্ততঃ দু’বার অনুষ্ঠিত হবে।
পিটিএ গঠনের নীতিমালা
পুনর্গঠিত শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির নির্বাহী কমিটি নিম্নরূপ হবে:
১. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন সদস্য -সভাপতি
২. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন সদস্য-সহ-সভাপতি
৩. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক (পদাধিকার বলে) সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন সদস্য -সদস্য সচিব
৪. সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকগণের মধ্য হতে সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন শিক্ষক -সদস্য
৫-৭. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণের মধ্য হতে সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত তিনজন পুরুষ অভিভাবক -সদস্য
৮-১০. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণের মধ্য হতে সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত তিনজন মহিলা অভিভাবক -সদস্য
আরও পোস্ট পড়ুন
👀 এসএমসি-বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি
পিটিএ গঠনের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য
- শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
- শিক্ষক-অভিভাবকদের যৌথ প্রয়াসে শিক্ষার গুণগত মনোনয়নের জন্য গৃহীত উদ্যোগকে জোরদার করা।
- বিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকান্ডে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা।
- তৃণমুল পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা।
- শিক্ষক-অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কতৃব্যের মূল্যায়ন করা।
- স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধানকে উৎসাহিত করা
- কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন।
মতামত দিন