অনুসন্ধানী শিখন: সাক্ষরতা অর্জনের অভিনব কৌশল
প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ | Primary Teachers Training
অনুসন্ধানী
শিখন: সাক্ষরতা অর্জনের অভিনব কৌশল
লেখক: মো আসাদুর রহমান, সহকারী শিক্ষক, শুক্রবাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামইরহাট
নওগাঁ।
প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার্থীদের শিখন দক্ষতা অর্জন
করানো একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এটি অর্জন করার কার্যকর এবং ফলপ্রসূ পদ্ধতি হলো
অনুসন্ধানী শিখন কৌশল প্রয়োগ করা।
অনুসন্ধানী
শিখন হলো,
শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অনুসারে বর্ণ, শব্দ
এবং বাক্য নির্দিষ্ট স্থান থেকে খুঁজে বের করে লেখে, পড়ে
এবং মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে শ্রেণী শিক্ষক
কে বলে বুঝিয়ে দেওয়া।
সাক্ষরতা
বলতে শুধু অক্ষর জ্ঞান বা পড়তে পারা বোঝায় না, বরং পড়া,
লেখা এবং বোঝার ক্ষমতা বোঝায়। অনুসন্ধানী শিখন এই প্রক্রিয়াকে
আরও অর্থবহ এবং আনন্দময় করে তোলে।
অনুসন্ধানী
শিখনের মাধ্যমে মৌলিক সাক্ষরতা অর্জনের কৌশলসমূহ
এখানে কিছু
কৌশল আলোচনা করা হলো,
১.
কৌতূহল জাগিয়ে তোলা এবং প্রশ্নভিত্তিক আলোচনা:
শিক্ষার্থীদের
আগ্রহের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে উস্কে দেয় এবং তাদের
মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। যেমন: "আমাদের চারপাশে বিদ্যালয়ের দেওয়ালে এত বর্ণ, শব্দ ও বিভিন্ন বাক্য লেখা আছে এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি বাক্য ,
শব্দ বা বর্ণ লেখে নিয়ে এসো এবং এর সঠিক উচ্চারণ করে পড়ে
শোনাও। "আমরা কীভাবে ছবি আঁকি,
যখন আমাদের কোনো রঙ নেই?"
২.
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার সুযোগ:
শিক্ষার্থীদেরকে
তাদের চারপাশের বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হয়। তারা যে প্রশ্নগুলো
করবে,
সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং সেগুলোর উত্তর খুঁজতে সহায়তা করা।
এগুলো প্রতিটি কাজ ষষ্ঠক(এক সাথে ৬ জন করে)
ভিত্তিক সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার
প্রক্রিয়ায় তাদের নতুন নতুন শব্দ শিখতে হবে এবং বিষয়গুলো বুঝতে হবে।
৩.
বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ:
পর্যবেক্ষণ
এবং বর্ণনা: শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন জিনিস পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয় এবং তাদের
পর্যবেক্ষণগুলো মৌখিকভাবে বা লিখে বর্ণনা করতে উৎসাহিত করা হয়। যেমন: আমাদের
বিদ্যালয়ে একটি বাগান রয়েছে, সেই বাগানে গিয়ে বিভিন্ন ফুল,
পাতা, পোকামাকড় পর্যবেক্ষণ করা এবং
সেগুলো সম্পর্কে বলতে বা লিখতে সক্ষম হওয়া।
ছবি বা চিত্র
ব্যবহার: বাস্তব জিনিসের ছবি বা চিত্র ব্যবহার করে নতুন শব্দ এবং ধারণা শেখানো।
শিশুরা ছবি দেখে সেগুলোর নাম বলতে এবং লিখতে শেখে।
৪.
হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা ও কার্যকলাপ:
গল্প বা ছড়া
তৈরি: শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেখা বা শোনা ঘটনা নিয়ে ছোট গল্প বা ছড়া তৈরি করে
এগুলো বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়। শিক্ষক এই গল্পগুলো লিখতে বা
আঁকতে সাহায্য করেন। এটি তাদের সৃজনশীল লেখা এবং শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধিতে সাহায্য
করে।
অভিজ্ঞতা
বর্ণনা করা: শিক্ষার্থীরা যখন কোনো শিক্ষামূলক ভ্রমণে যায় এবং সেই ভ্রমণে তারা কি
কি দেখেছে এগুলো নিজের মত করে তাদের অভিজ্ঞতা গুলো লিখে এতে তাদের সৃজনশীলতা এবং
নতুন করে সব জায়গায় অনুসন্ধানী করে গড়ে উঠে।
অনুসন্ধানী
শিখনের মাধ্যমে মৌলিক সাক্ষরতা অর্জনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
পথপ্রদর্শক:
শিক্ষক সরাসরি উত্তর না দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত
করেন।
পরিবেশ
সৃষ্টিকারী: একটি সহায়ক এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে যেখানে
শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে শিখতে পারে।
অনুসন্ধানী
শিখনের মাধ্যমে মৌলিক সাক্ষরতা অর্জনের এই পদ্ধতিগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার
প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তাদের সাক্ষরতা যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। এটি
মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে তাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণ
এবং সমালোচনামূলক দক্ষতার বিকাশ ঘটায়।
মতামত দিন