শিক্ষা প্রশাসন Archives - Proshikkhon

Posts Tagged "শিক্ষা প্রশাসন"

11Nov2019

১৯১৭ সালে কমিউনিজমের যাত্রা শুর হয়। সেই সময়েই সর্বপ্রথম ‘পরিকল্পনা’ ধারণাটি সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে পশ্চিম ইউরোপের দেশসমূহে পরিকল্পনা ধারণাটি গ্রহণ করে। Planning is the process of thinking about the activities required to achieve a desired goal. পরিকল্পনা বলতে কী বুঝায় তা নিয়ে পরিকল্পনাবিদদের ভিন্ন ভিন্ন মত লক্ষ করা যায়।

ইউরাইচ বলেছেন, “পরিকল্পনা হচ্ছে মূলত কোন কাজ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদনের পূর্বে চিন্তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া ও মানসিক প্রস্তুতি এবং অনুমানের পরিবর্তে বাস্তবতার আলোকে কাজ করা।”

W.H. Newman এর মতে, “পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতে কী করতে হবে তার আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া।”

ট্রাকার এর মতে, “পরিকল্পনা হলো লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পদ্ধতি ও কৌশল ও দায়িত্ব সম্পন্ন করার পূর্বে তাদের সংগঠন, ব্যবস্থাপনা প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির অনুধাবন, ব্যাখ্যাকরণ ও প্রস্তুতি।”

Prof. Allen এর মতে, “Planning is a trap of capture the future.”

16Aug2019

বৌদ্ধ শিক্ষার সরূপ

বৈদিক শিক্ষা যুগের পরে প্রাচীন অবিভক্ত ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের অহিংস নীতির উপর ভিত্তি করে বৌদ্ধ শিক্ষার আবির্ভাব হয়। সৎ চিন্তা, সৎ বিশ্বাস, সৎ ধ্যান, সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ উপার্জন, সৎ সঙ্গ এবং সৎ স্মৃতি এই অষ্ট পন্থায় নির্বাণ লাভই ছিল বৌদ্ধ ধর্মের মূলকথা। শিক্ষার মাধ্যমে অষ্টমা চর্চা এবং ব্যক্তি জীবনে তা প্রতিষ্ঠিত করে দুঃখময় পৃথিবী থেকে নির্বাণ লাভ করাই ছিল বৌদ্ধ শিক্ষার লক্ষ্য। বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল মঠ কেন্দ্রিক। তখন শিক্ষা জীবন ছিল ৬ বছর থেকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত। সাধারণত: গল্পের মাধ্যমে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে মুখে মুখে ধর্ম শিক্ষা দেয়া হতো। ভারতের বিহার রাজ্যের নালন্দা এবং বাংলাদেশের পাহাড়পুর ও ময়নামতি বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশে খুব পরিচিতি লাভ করে।

16Aug2019

বৈদিক শিক্ষা

অতীতে স্থানীয় ব্যবস্থায় পাঠশালা, চণ্ডীমগুপ এবং গুরুগৃহে শিক্ষা দেয়া হত। বৈদিক চিন্তাধারা এবং দার্শনিক মতবাদ অনুসারে শিশুদের গড়ে তোলার জন্য হিন্দুদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ বেদের উপর নির্ভর করে এই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠে। শিক্ষার মাধ্যম ছিল সংস্কৃত। শিক্ষকরা সকলেই ছিলেন ব্রাহ্মণ এবং তাদেরকে গুরু বলে অভিহিত করা হতো। ৫ বছর বয়সে ‘স্বীকরনম’ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শিশুদের শিক্ষা জীবন শুরু হতো এবং ১২ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের গুরুগৃহে বাস করতে হতো। সে সঙ্গে টোল, পাঠশালা ও মক্তব শ্রেণীর প্রতিষ্ঠানে বাংলা, সংস্কৃত, গণিত ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা ছিল। হিন্দু-মুসলমান সবাই এ শিক্ষা গ্রহণ করত। গুরুগৃহে শিক্ষাদানের ব্যবস্থাও সেকালে প্রচলিত ছিল।

তবে এই শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্ণ বৈষম্য ছিল। বর্ণ বৈষম্যের কারণে শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ বালকেরা উচ্চতর জ্ঞান লাভের সুযোগ পেত। ক্ষত্রিয় বালকেরা রাজগৌরব ও যুদ্ধবিদ্যা, বৈশ্য বালকেরা কৃষি ও ব্যবসা বিষয়ে শিক্ষা লাভের সুযোগ পেত এবং শুদ্র বালকেরা কোন শিক্ষা লাভের সুযোগ পেত না। ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যালয়গুলো পরিষদ, টোল ও পাঠশালা নামে পরিচিত ছিল। ব্রাহ্মণরা পরিষদ ও টোলে এবং শুদ্ররা ব্যতীত সকলেই পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের সুযোগ পেত। পাঠশালায় পড়া, লেখা এবং পৌরাণিক কাহিনী শেখানো হতো। শিক্ষকগণকে পূজা পার্বণে দক্ষিণা এবং ফসল ওঠার সময় ফসলের একটি অংশ ছাড়া কোন প্রকার বেতন দেওয়া হতো না।

16Aug2019

মুসলিম শিক্ষা

সুলতানী আমলে এদেশে বহু শিক্ষিত মুসলিম ও অমুসলিম জ্ঞানী ব্যক্তি সমাজে শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিদেশ থেকে আগ্রত মুসলিম ও স্থানীয় ধর্মান্তরিত মুসলিমদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থাও গড়ে উঠে। মুসলিমদের এ শিক্ষা ব্যবস্থা মোটামুটি ছিল মসজিদ কেন্দ্রীক।

খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু জয়ের মাধ্যমে ভারতে মুসলিম শাসনের সূচনা হয় এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থ্যাৎ ১২০৩ খৃস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী বাংলা জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন শুরু হয়। তিনিই দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল মসজিদ ভিত্তিক এবং বিদ্যালয়গুলো মক্তব ও মাদ্রাসা এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। মসজিদ সংলগ্ন এ মক্তবগুলো মুসলিম শিক্ষার প্রাথমিক স্তর এবং মাদ্রাসা ছিল মুসলিম শিক্ষা ধারার উচ্চ স্তর। ৪ বছর বয়সে শিশুকে কলেমা পাঠের মাধ্যমে এসব মক্তবে ভর্তি করা হতো এবং নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সুরা, কেরাত শিক্ষা দেয়া হতো। মূলত: কোরআন শিক্ষা দেওয়াই ছিল এসব মক্তবের প্রধান কাজ। তবে এর পাশাপাশি পড়া-লেখা ও সাধারণ হিসাব নিকাশ শিক্ষা দেওয়া হতো।

ধর্মীয় শিক্ষার সাথে সাধারণভাবে আরবী ফারসী ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষার ব্যবস্থাও ছিল। সুলতানী আমলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ‘দরগাহ’ (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের) বা মাদ্রাসা স্থাপিত হয়েছিল। এ আমলে ইসলামী ধর্মশাস্ত্রে শিক্ষিত পীর-দরবেশগণ বিভিন্নস্থানে ‘খানকাহ’ নির্মাণ করে তাঁদের ছাত্রদের ইসলামী শাস্ত্রে এবং আধ্যাত্নিক উন্নতি বিষয়ে দীক্ষা দিতেন। তাঁরা ছাত্রদের ধর্মীয় শিক্ষার সাথে চিকিৎসা শাস্ত্রেও জ্ঞানদান করতেন।

মসজিদের ইমামগণ মক্তবে শিক্ষাকতার কাজ করতেন এবং শিক্ষকগণ কোন বেতন নিতেন না। বরং শিক্ষাদান বিষয়টাকে তারা ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করতেন।

পাঠান আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার কোন আমুল পরিবর্তন ঘটেনি। মোগল আমলে এদেশের মুসলিমগণ শিক্ষা-দীক্ষায় মোটামুটি উন্নত ছিল। তৎকালে মুসলমানদের শিক্ষা সন্বন্ধে উইলিয়াম এ্যাডাম (Willim Adam) মন্তব্য করেন যে, এ দেশে মুসলিমগন বহু বেসরকারী বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁরা শিক্ষাকে পেশা ও জীবিকা নির্বাহের উপায় বলে গ্রহন করেননি। তাঁরা একে ন্যায় ও পূণ্যের কাজ বলে মনে করতেন। সে আমলে প্রথম পর্যায়ের শিক্ষা বাংলা ভাষার এবং উচ্চ শিক্ষা আরবী ও ফারসী ভাষার দেয়া হত। কিন্তু বহিরাগত মুসলিমগণ, বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তর ভারতীয় মুসলিমগণ ফারসী ও উর্দুভাষা ব্যবহার করতেন। মুসলমান সমাজের অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে মেয়েরা মসজিদে কুরআন শিক্ষার সাথে এক বা একাধিক বিষয় যেমন বাংলা, গনিত, আরবী, ফারসী ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানলাভ করত। বিত্তশালী লোকেরা নিজকর জমি, ওয়াকফ ও লাখেরাজ সম্পত্তি দান করে এ শিক্ষা ব্যবস্থা উৎসাহ দিতেন।

তথ্য সূত্র:

১. বাংলাদেশ জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর যশোর

২. মোঃ হাসানূজ্জামান বিপুল

৩. বাংলাপিডিয়া

৪. উইকিপিডিয়া

Ad

error: Content is protected !!