মনোবিজ্ঞান Archives - Proshikkhon

Posts Tagged "মনোবিজ্ঞান"

18Dec2019

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলিং এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ বিষয়ে কিছু মতামত নিম্নে উল্লেখ করা হল-

  • শিক্ষার্থীর চাহিদার সাথে যথোপযুক্ত উপযোজন করে উন্নততর ও কার্যকর জীবন যাপনে সাহায্য করা।
  • কাউন্সিলিং আচরণে পরিবর্তন আনে আত্মরক্ষর দক্ষতা বৃদ্ধি করে, ব্যক্তিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে এবং সম্পর্ক উন্নয়ন ও ক্লায়েন্টের ক্ষমতা উন্নয়নে সাহায্য করে।
  • শিখনবান্ধব পরিবেশ গঠনে সহায়তা করে।
  • শিক্ষার্থীদের অতীত অভিজ্ঞতা ও তাদের সমস্যার ভিন্নতার ধরণ নিয়ে আলোচনা করে।
  • প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাস্তরে শিক্ষার্থীর বয়সসীমা, শিক্ষা ব্যবস্থস্থার পরিবেশ ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে।
  • বিভিন্ন কার্যক্রমের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূলক বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
  • বিভিন্ন বৃত্তিমূলক বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি, বিভিন্ন পেশাজীবীকে আমন্ত্রণ জানানো, বিভিন্নস্থানে ভ্রমণ করিয়ে সহ-পাঠ্যক্রমিক কাজে অংশগ্রহণ করিয়ে দের পেশাগত মূল্যবোধ বৃদ্ধি ও এক ঘেঁয়েমী দূর করতে।
  • শিশুকাল থেকে যথাযথ নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান না করার কারণে অনেক সফল ও দায়িত্ববান মানুষরাও বিভিন্ন আচরণিক সমস্যায় ভূগেন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য বিদ্যালয় পর্যায়েই কাউন্সিলিং দরকার।
  • আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুর আচরণীয় সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হলে প্রতিটি শিশুই সুনাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এ জন্য কাউন্সিলিং এর বিকল্প নেই।
  • সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাউন্সিলিং সেবা অন্যতম, আমাদের শিক্ষার্থীদের আচরণ সংশোধনে কাউন্সিলিং একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘Bulling’ প্রতিরোধে কাউন্সিলিং প্রয়োজন। ‘বুলিং’ হচ্ছে একধরণের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন যা একজন শিক্ষার্থী কর্তৃক অন্য শিক্ষার্থীকে করা হয়।

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাউন্সিলিং খুবই কার্যকরি। কৈশোর বয়সে আবেগ-অনুভূতি প্রবল হওয়ায় খুবই সামান্য কারণেই বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবছর আত্মহননের পথ বেছে নেয়। পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ, প্রেমে ব্যর্থতা ইত্যাদি ছাড়াও সাম্প্রতিক ভিকারুন-নুন-নিসা স্কুল এন্ড কলেজের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ধরণের সমস্যা প্রতিরোধে কাউন্সিলিং এর কোন বিকল্প নেই।

18Dec2019

কাউন্সিলিং-এর নীতি

কাউন্সিলিং একটি পেশাগত প্রক্রিয়া। দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা বিষয়ে যে সাধারণ উপদেশ, নির্দেশ বা পরামর্শ দিয়ে থাকি- তা থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাউন্সিলিং প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাকে সহায়তা প্রদান করা হয়। কাউন্সিলিং সেবা একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া অবলম্বন করার মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাকে কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সে জন্য কতকগুলো পেশাগত নীতি অবলম্বন করা হয়।

গ্রহণযোগ্যতা বা Acceptance

কাউন্সিলিং-এ প্রতিটি মানুষ একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি। প্রত্যেক সেবা গ্রহীতা একজন একক ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেই অনুযায়ী কাউন্সিলিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা- একটি প্রক্রিয়াগত নীতি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যম ব্যক্তির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক শক্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধর্ম, শ্রেণিভেদে ব্যক্তির প্রতি ইতিবাচক বা নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করা যাবে না।

সংহতিপূর্ণতা বা Integrity

কাউন্সিলিং প্রক্রিয়ায় সংহতিপূর্ণতা বা Integrity একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এই নীতির আওতায় কাউন্সিলর সেবা গ্রহীতার প্রতি কতকগুলো নির্দিষ্ট বিষয়ে একই রকম ধারণা পোষণ করেন এবং সম্পর্ক বজায় রাখেন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলর ও সেবা গ্রহীতার মধ্যে স্বচ্ছতা, সততা, দায়িত্ববোধ, শ্রদ্ধা এবং পেশাগত মনোভাব বজায় রাখতে হয়।

গোপনীয়তা বা Confidentiality

সেবা গ্রহীতার তথ্যাদির গোপনীয়তা বজায় রাখা- কাউন্সিলিং-এর একটি অন্যতম পেশাগত নীতি। এই নীতির আওতায় সেবা গ্রহীতাকে নিশ্চিত করতে হবে তার দেয়া তথ্য সর্বদা গোপন রাখা হবে। সেবা গ্রহীতার বিশ্বাস অর্জনই সফল কাউন্সিলিং-এর প্রধান শর্ত। কাউন্সিলিং-এ তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য সেবা গ্রহীতার সন্মান বজায় রাখা এবং অন্যান্য মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক সম্ভাব্য নেতিবাচক ঝুঁকি থেকে সেবা গ্রহীতাকে মুক্ত রাখা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন সেবা গ্রহীতার আত্মহত্যার প্রবণতা যেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতার অনুমোদন সাপেক্ষে ‘যতটুকু তথ্য না দিলেই নয়’ -এই নীতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করা।

নৈর্ব্যক্তিকতা বা Objectivity

কাউন্সিলিং সেবায় সেবা গ্রহীতা সম্পর্কে কোন পক্ষপাতিত্বমূলক মনোভাব পোষণ করা যায় না। সেবা গ্রহীতা সম্পর্কে কোন রকম ঔঁফমবসবহঃধষ না হওয়া অর্থাৎ সেবা গ্রহীতার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য যেমন ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা দিয়ে বিচার না করা। এই নীতির আওতায় সেবা গ্রহীতার ব্যক্তিগত তথ্যাদির ভিত্তিতে কাউন্সিলর সেবাদান প্রক্রিয়ায় কোন বৈষম্যমূলক আচরণ করবেন না। অথবা নিজস্ব, ধর্মীয় বা আদর্শগত বা মানসিক অবস্থার তারতম্য দ্বারা সেবা গ্রহীতার সাথে সম্পর্ক এবং মনোভাবে অসম আচরণ করবেন না।

17Dec2019

নির্দেশনা সংস্থার সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ যেভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে। সেগুলো নিম্নরূপ-

  • শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য, সমস্যা ও চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখা।
  • শিক্ষার্থীর সুষম বিকাশে সহায়তা করা।
  • শিক্ষা, বৃত্তি ও ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা।
  • বিভিন্ন বৃত্তি বিষয়ক তথ্যাদি শিক্ষার্থীকে সরবরাহ করা।
  • নিয়মিত নির্দেশনা সংস্থার সভা আহ্‌বান ও আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা।
  • অভিভাবক ও স্থানীয় সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয়সাধন করা।
  • বৃত্তি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভ্রমণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
  • অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতাদের বিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো এবং আলোচনা সভার ব্যবস্থা করা।
  • বিদ্যালয় পরিত্যাগের পর প্রত্যে শিক্ষার্থীর জন্য অনুসরণ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা।
  • সংস্থার কর্মসূচির পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য সংস্থার ত্রুটি-বিচ্যূতি নির্ধারণ করা।
17Dec2019

নির্দেশনা সংস্থা:

শিক্ষা ও নির্দেশনা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য অংগ। নির্দেশনা কার্যক্রমে যে কোন শিক্ষাদান কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত। শিক্ষার লক্ষ্যকে সার্থক ও ফলপ্রসূ করে তোলার জন্য নির্দেশনা কার্যক্রমকে বিদ্যালয় কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত করা উচিত।

নির্দেশনা কর্মসূচীকে সুষ্ঠু ও সার্থকভাবে পরিচালনার জন্য গঠিত সংস্থাকে নির্দেশনা সংস্থা বলে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে নির্দেশনা কর্মসূচীকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিদ্যালয়ে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা প্রয়োজন।

নির্দেশনা সংস্থা গঠন:

          নির্দেশনা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচলনার জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংস্থার। নিম্নে এমন ধরণের একটি সংগঠন গঠনের পদ্ধতি উপস্থাপন করা হল-

১. সভাপতি      : বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক/ অধ্যক্ষ।

২. সম্পাদক     : পরামর্শদাতা।

৩. সদস্য         : শ্রেণি শিক্ষক ও বিষয় শিক্ষকবৃন্দ

অভিভাবক প্রতিনিধি

স্থানীয় প্রতিনিধি

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি

শিক্ষাবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী

স্থানীয় বিদ্যালয়সমূহের প্রধানগণ

স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মী

স্থানীয় বিদ্যেৎসাহী গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ

16Dec2019

কাউন্সিলিং-এর গুরুত্ব ও প্রয়োগ

কাউন্সিলিং বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অতটা প্রচলিত না হলেও কাউন্সিলিং সেবা পশ্চিমা দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। বর্তমান দ্রæত সামাজিক পরিবর্তনও বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, আকাক্সক্ষা, দক্ষতা, পারদর্শীতা ক্ষমতা ও সামর্থ্য এবং সমাজ, বিদ্যালয় ও পরিবারের চাহিদা নানা ধরনের মানসিক জটিলতা ও দ্বন্দ্ব তৈরি করছে।

বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর এই সব ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য একজন পেশাগত ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক থাকা আবশ্যক। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকাশক্তি, প্রেম-ভালবাসা ঘটিত সম্পর্ক, হঠাৎ প্রিয়জনের মৃত্যু, ইভটিজিং ব্যাপকভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষা জীবনে গভীরতম প্রভাব রাখছে। এছাড়াও নানা ধরনের আর্থ-সামাজিক উপাদান শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা, অতি আবেগ, হতাশা, বিষন্নতা, অপরাধবোধ. হীনমন্যতা শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ মানসিক রোগের দিকে পরিচালিত করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে কাউন্সিলিং-এর মতো পেশাগত সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষার্থীদের সুষম বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগিক, সামাজিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

16Dec2019

স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনা (Health Guidance)

একজন মানুষ বিদ্যালয় অধ্যয়নকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বিশেষ করে শারীরিক সুস্থতা শিক্ষার্থীর শিখন ও সার্বিক বিকাশে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য সুবিধার মাধ্যমে বিদ্যালয়ে নানাবিধ দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক বা বার্ষিক দলীয় বা একক নির্দেশনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দৈনিক ও সাপ্তাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়াও অর্ধঃবার্ষিক বা বার্ষিকভাবে ডেন্টাল হেলথ কেয়ার, আই কেয়ার, ডিওয়ার্মিং ইত্যাদি নানা স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা বিদ্যালয়ে আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে বয়োঃসন্ধিকালীন সময়ে একজন শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দ্রæত সাধিত হয়। এ সময় ছেলেও মেয়ে উভয়ের যৌন বিকাশের কারণে যেমনি শারীরিক পরিবর্তন আসে তেমনি নানা ধরনের আবেগিক পরিবর্তন দেখা যায়। এসব পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

16Dec2019

সামাজিক নির্দেশনা (Social Guidance)

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামাজিক পরিবেশে অনেক ধরনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বয়সের ও শারীরিক ক্ষমতার শিক্ষার্থীর সমাবেশ ঘটে। অনেক সময় দেখা যায় অপেক্ষাকৃত শারীরিকভাবে দুর্বল ও খর্বাকৃতির শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত শারীরিকভাবে শক্তিশালী একজন শিক্ষার্থী অথবা একদল শিক্ষার্থী দ্বারা শারীরিক বা মৌখিক আক্রমণের শিকার হয় যা সাধারণত বুলিং (Bulling) নামে পরিচিত। এরূপ বুলিং-এর ঘটনা একই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দ্বারা কিংবা উঁচু শ্রেণির শিক্ষার্থী দ্বারাও সংগঠিত হতে পারে। এটি কখনো কখনো নিছক হাস্যরস বা আনন্দ দানের জন্য ঘটতে পারে, আবার কখনো কখনো এ ধরনের আক্রমণের ফলে শিক্ষার্থীর মনঃকষ্টের কারণ, হতাশা সৃষ্টি করতে পারে; এমনকি তার পড়ালেখায়ও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। পারিবারিক জীবনের অনেক অনাকাক্সিক্ষত বা বিয়োগান্তক ঘটনা তথা বাবা-মায়ের ঝগড়া, বিচ্ছেদ প্রভৃতি শিক্ষার্থীর শিখন ও সামাজিক মিথষ্ক্রিয়ায়ও অনুরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এরূপ ক্ষেত্রে সামাজিক নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। এছাড়াও এ ধরনের নির্দেশনার মাধ্যমে সামাজিক রীতি-নীতি, মূল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ে অবহিতকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণ নিশ্চিত করা যায়।

15Dec2019

শিক্ষায় নির্দেশনার গুরুত্ব

অনেক সময় একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবন শেষ করে পেশা হিসেবে যে বৃত্তিকে বেছে নেয় তা তার শিক্ষা জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। দেখা যায়, কোন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা লাভ করেছে বাংলায়; কিন্তু পেশা জীবনে এসে হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকার। কিংবা যিনি এসময়কার স্বনামধন্য উপন্যাসিক-সাংবাদিক; তিনি কিনা একদা ছিলেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আবার অন্যদিকে, এখন যারা শিক্ষার্থী তারা হয়ত অনেকে জানে না সে ভবিষ্যত জীবনে পেশা হিসেবে কোন বৃত্তিকে বেছে নিতে পারে। অভিভাবক আশা করছেন তাকে ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী হতে হবে। কিন্তু উক্ত বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীর কোন আগ্রহ নেই। আবার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীকে সাধারণত বিভাগ যেমন বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য ইত্যাদি নির্বাচন করতে হয় বিধায় ওই সময় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত বৃত্তি বেছে নেয়ার পথ অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য ইত্যাদি বিভাগ নিয়ে শিক্ষার্থীরআগ্রহ ও সামর্থ আছে কিনা কিংবা উক্ত বিভাগ নিয়ে অধ্যয়ন করলে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগে আর কোন কোন বিষয়ে পড়াশুনা করা যেতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার্থীর কাছে যথাযথ তথ্য না থাকার কারণে দ্বিধায় ভোগে। কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যদি নির্দেশনা বিষয়ক সেবা ও শিক্ষক নিয়োজিত থাকেন, তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বৃত্তি বেছে নেয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেতে পারেন। মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় ছাড়াও যে আরো অনেক বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় তা অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ওয়াকিবহাল থাকে না। কোন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় শেষ করে ভোকেশনাল, কারিগরি এবং অধুনা নানা সার্ভিস সেক্টর ও (হোটেল এন্ড ট্যুরিজম, সিকিউরিটি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট) বিষয় নিয়েও পড়াশুনা করতে পারে। এই বিষয়ে নির্দেশনা সেবা শিক্ষার্থীদের হালনাগাদ ও পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম বৃত্তি নির্বাচনে সহায়তা করতে পারেন।

15Dec2019

শিক্ষায় নির্দেশনা

নির্দেশনার শব্দটির ইংরেজি শব্দ হচ্ছে Guidance। সাধারণ অর্থে নির্দেশনা বলতে কোন কার্যক্রম সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়াকে বোঝায়। আধুনিক নির্দেশনা বিজ্ঞান মূলত শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দির প্রথম দিকে আমেরিকাতে। সে সময় তরুন সমাজ বিশেষ করে ছেলেরা কর্মজীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। কোন ধরনের কাজ তার জন্য যথোপযুক্ত বা কোন ধরনের কাজে সে সফল হবে- তরুন সমাজের এই সিদ্ধান্তহীনতার কথা চিন্তা করে আমেরিকার বোস্টন শহরের ফ্রাঙ্ক পারসন (Frank Parson) প্রথম বৃত্তিমূলক বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান শুরু করেন। প্রায় সমসাময়িক সময়ে জেস ডেভিস (Jesse Davis)-এর নেতৃত্বে দলীয়ভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিমূলক নির্দেশনা প্রদান শুরু হয়। বিষয়টি জনপ্রিয় হওয়ায় দ্রুততার সাথে আমেরিকার অন্যান্য জায়গায় বৃত্তিমূলক নির্দেশনার সেবা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ১৯১৫ সালে নির্দেশনা সেবার জন্য একটি চার পাতার পত্রিকা “The Vocational Guidance Bulletin” নামে প্রকাশিত হতে থাকে।

14Dec2019

শ্রম বিভাগের সুবিধা (Advantages of Division of Labor):

আধুনিক বৃহদায়তন শিল্প কারখানাগুলোতে যে বিপুল পরিমাণে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হচ্ছে এর প্রধান কারণ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রম বিভাগের প্রবর্তন। শ্রম বিভাগের ফলে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বন্টন করা যায়। নিম্নে শ্রম বিভাগের সুবিধা আলোচনা করা হল

১. উৎপাদন বৃদ্ধি: শ্রম বিভাগের ফলে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। উৎপাদন
প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বন্টন হয় বিধায় মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
২. উৎপাদন পদ্ধতি উদ্ভাবন : শ্রম বিভাগের ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায়
উন্নতি ঘটে। শ্রমিকগণ দীর্ঘদিন একই কাজ করার ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করে উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে পারে।
৩. কর্ম সংস্থান সৃষ্টি : শ্রম বিভাগের ফলে উৎপাদন পদ্ধতিকে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি পর্যায়ে নতুন লোক নিয়োগ করতে হয়। এতে একজনের পরিবর্তে অনেকের চাকরির সংস্থান হয় এবং বেকার সমস্যা দূর হয়।
৪. জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন : শ্রম বিভাগ শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এর ফলে শ্রমিক শ্রম বিক্রয় করে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারে। এটি শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে।
৫. শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি : শিল্প-কারখানার শ্রম বিভাগের প্রবর্তন করা হলে উৎপাদন পদ্ধতিকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করতে হয়। এতে এক শিল্পের কোনো না কোনো স্তরের সঙ্গে অন্য শিল্পের কোনো না কোনো স্তরের মিল থাকতে পারে। ফলে বিভিন্ন শিল্পের মধ্যে শ্রমের গতিশীলতা বাড়ে।
৬. জাতীয় আয় বৃদ্ধি : শ্রম বিভাগ প্রবর্তনের ফলে শ্রমিকের মাথাপিছুআয়
ও উৎপাদন বাড়ে। সে কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এবং দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।
৭. সঠিক স্থানে সঠিক লোক: শ্রম বিভাগে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী
শ্রমিকদের মধ্যে কাজ বন্টন করা হয়। এক এক ব্যক্তি এক এক ধরনের কার্য সম্পাদনে পারদর্শী হয়। তাই শ্রম বিভাগের মাধ্যমে যে শ্রমিক যে কাজের জন্য যোগ্য, তাকে সেই কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়।
৮. বৃহদায়তন উৎপাদন সুবিধা: শ্রম বিভাগের ফলে আধুনিক
অর্থনীতিতে বৃহদায়তন উৎপাদন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে একক প্রতি উৎপাদন খরচ হ্রাস পাওয়ায় ভোক্তারা অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে উন্নতমানের পণ্য ভোগ করার সুবিধা পাচ্ছে।
৯. উন্নত পণ্য উৎপাদন : শ্রমিক তার পছন্দ ও যোগ্যতা অনুসারে কাজের
সুযোগ পায় বলে সে উন্নত মানের পণ্য তৈরী করতে পারে।

১০. উত্তম প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র : একই শ্রমিক যদি একই কাজ বার বার সম্পাদন
করে তবে প্রথম প্রথম ভুল ভ্রান্তি হলেও অতি সহজেই তা সংশোধন করতে পারে। ফলে দ্রুততার সাথে সঠিক কাজটি সম্পাদনে সক্ষম হয়। তাই দেখা যায়, শ্রম বিভাগ শ্রমিকের প্রশিক্ষণের উত্তম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

সুতরাং শ্রম বিভাগ সম্পর্কে বলা যায় যে, বর্তমান সময়ে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম বিভাগকে গুরুত্বের সাথে দেখছে
কারণ শ্রম বিভাগের ফলে শ্রমিকের জীবন যাত্রার উন্নয়নের সাথে সাথে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।

Ad

error: Content is protected !!