ঈদের সালাতের মাসআলা মাসাইল - Proshikkhon

ঈদের সালাতের মাসআলা মাসাইল

عيد | Masala masail of Eid prayers

– মোঃ মাহফুযূর রহমান

ঈদ (عيد) একটি আরবী শব্দ। “লিসানুল আরব” অনুযায়ী শব্দটির অর্থ হলো ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা, বারবার আসা ইত্যাদি। আর ঈদুল ফিতর (আরবি: عيد الفطر অর্থাৎ “সাওম বা রোজা ভাঙার দিবস”)।

মুসলমানদের জীবনে চান্দ্র বছরের নির্দিষ্ট তারিখে প্রতিবছরই দুটি উৎসবের দিন ফিরে আসে। তাই দিন দুটিকে ঈদ বলা হয়। আর ফিতর শব্দটিও আরবী। শব্দটির অর্থ হলো ভেঙ্গে ফেলা, বিদীর্ণ করা ইত্যাদি।

ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী মুসলমানগন রমজানের চাঁদ দেখার সাথে সাথে রোযা রাখা শুরু করে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখার সাথে সাথে রোযা ভেঙ্গে দেয়। সে কারণে এটিকে ঈদুল ফিতর তথা রোজা ভাঙ্গার দিবস বা আনন্দ বলা হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সূচনা

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করে আসার পর দেখলে মদিনাবাসী দুদিন খুব আনন্দ উৎসব করছ । তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন এ দিনে তোমরা কি করো? তারা বললেন আমরা জাহিলিয়াতের যুগে এ দুটো দিন খেলাধুলা, আমোদ ফুর্তি করতাম। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তোমাদের এ দুটো দিনের পরিবর্তে অন্য দুটি‌ দিন প্রদান করেছেন।‌ তার মধ্যে একটি হল ঈদুল আযহার দিন অপরটি হল ঈদুল ফিতরের দিন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৩৬)

ঈদের নামাজের স্থান

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে সকলকে সাথে নিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যেতেন। অথচ‌ মসজিদে নববীতে এক রাকাত নামাজে এক হাজার অন্য বর্ণনায় দশ হাজার ও পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজের সওয়াব লাভের সুসংবাদ রয়েছে। এরপরেও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে ঈদের নামাজ না পড়ে সকলকে নিয়ে ঈদগাহে যেতেন এবং সেখানে নামায আদায় করতেন।

তাই ইসলামী ফকিহ দের অভিমত হলো ঈদগাহে নামাজ পড়া উত্তম। অবশ্য মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে। বিনা ওজরে মসজিদে নামাজ না পড়া ভাল। বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়া জায়েজ আছে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার ঈদের দিনে বৃষ্টি হলো তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়লেন। (আবু দাউদ, হাদীস নং-১১৬২)। এতে বুঝা যায়, বৃষ্টি বা অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে ঈদের নামায মসজিদে পড়া জায়েয।

ঈদুল ফিতরের নামাজের আরবী নিয়ত

نَوَايْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّّهِ تَعَالَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتَّةِ تَكْبِرَاتِ وَاجِبُ اللَّهِ تَعَالَى اِِقْتَدَيْتُ بِهَذَا اْلاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

বাংলা উচ্চারণঃ

নাওয়াইতু আন উসল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রকা’আতাই ছলাতিল ঈদিল ফিতর মা’আ সিত্তাতি তাকবিরতি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা ইক্বতাদাইতু বি হা-যাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবার।

বাংলা অনুবাদঃ

আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল ফিতরের ওয়াজিব নামায এই ইমামের পিছনে আদায় করছি- আল্লাহু আকবার।

মুক্তাদী যদি আরবী ভাষায় নিয়ত করতে না পারে তাহলে সে তার নিজের ভাষায় নিয়ত করবে। আমরা যেহেতু বাঙালি, তাই বাংলা ভাষায় নিয়ত করতে পারি।

ঈদুল ফিতরের নামাজের বাংলা নিয়ত

আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ৬ তাকবীরের সাথে এই ইমামের পিছনে আদায় করছি- আল্লাহু আকবার।

ঈদুল ফিতর নামাজ আদায় করার নিয়ম

ঈদের নামাজের জন্য প্রথমে নিয়ত করে নিবেন। আর নিয়তটি সংক্ষেপে এভাবে – আমি ঈদুল ফিতরের দু’রাকাত নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবীরের সাথে ইমামের পিছনে আদায় করছি।

নিয়ত করার পর অন্যান্য নামাজের মত তাকবীরে তাহরীমা অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে হাত বেধে ছানা পড়বেন। সানার পর অতিরিক্ত তিন তাকবীর দিবেন‌। প্রথম তাকবীর বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠাবেন এবং তাকবীর শেষে হাত না বেঁধে ছেড়ে দিবেন। তিন বার সুবহানাল্লাহ বলা যায় এ পরিমাণ সময় বিলম্ব করে উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে দ্বিতীয়বার তাকবীর দিবেন। তারপর হাত ছেড়ে দিবেন। এবারও ওই পরিমাণ বিলম্ব করে আবার তাকবীর দিবেন। তারপর হাত না ছেড়ে বেঁধে নিবেন। এবার ইমাম সাহেব যথানিয়মে আউযুবিল্লাহ্ ও বিসমিল্লাহ্ পড়ে সূরা আল ফাতিহা পড়বেন এবং অন্য একটি সূরা মিলাবেন। আর মুক্তাদীগণ চুপ করে থাকবেন। শুধু মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। তারপর যথানিয়মে ইমাম তাকবীর দিয়ে রুকুতে যাবেন এবং রুকু সিজদা সমাপ্ত করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়াবেন।

দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব সূরা আল ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পড়বেন। আর মুক্তাদীগণ চুপ করে থাকবেন। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। ইমামের কেরাত সমাপ্ত হওয়ার পর রুকুতে যাওয়ার আগে পূর্বের নিয়মে ইমামের সাথে তিনটি অতিরিক্ত তাকবীর দিবেন। এবং প্রতিবার তাকবীরে তাহরীমাই হাত ছেড়ে দিবেন। এরপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে ইমামের সাথে রুকুতে যাবেন। নামাজের অন্যান্য তাকবীরের মত অতিরিক্ত ছয় তাকবীর ইমাম-মুক্তাদী উভয়ে দিবেন। তবে ইমাম উচ্চস্বরে আর মুক্তাদীগণ অনুচ্চস্বরে তাকবীর দিবেন।এরপর যথা নিয়মে নামাজ শেষ করবেন। এবং নামাযের পর খুতবা শুনবেন। খুতবা শোনা ওয়াজিব।

অন্যভাবে বলা যায়, প্রথমে কান বরাবর উভয় হাত তুলবে। তারপর এই ভাবে নিয়ত করবে যে “আমি ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার দুই রাকা‘আত ওয়াজিব নামায এই ইমামের পিছনে পড়ছি।” অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত নাভির নিচে বাঁধবে এবং ছানা “সুবহানাকা…” পুরা পড়বে। তারপর আরো তিন বার তাকবীর বলবে। প্রথম দুইবার হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত ছেড়ে দিবে। এরপর তৃতীয় বার হাত কান পর্যন্ত তুলে আল্লাহু আকবার বলে হাত বেঁধে চুপ করে ইমামের কিরাআত শ্রবণ করবে। এভাবে প্রথম রাকা‘আত আদায়ের পর দ্বিতীয় রাকা‘আতের কিরাআতের পর তিন বার হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে প্রত্যেকবার আল্লাহু আকবার বলে হাত ছেড়ে দিবে। এরপর চতুর্থ বার হাত না তুলে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে এবং অবশিষ্ট নামায অন্যান্য নামাযের ন্যায় সম্পন্ন করবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী-১/১৭২)

ঈদের মাসআলা-মাসাইল

১. মসজিদের বিছানা, চাটাই, শামিয়ানা ইত্যাদি ঈদগাহে নিয়ে যাওয়া দুরুস্ত। (ফাতাওয়ায়ে শামী-৩/৩৫৯)

২. যে ব্যক্তি দাড়ি মুন্ডায় অথবা একমুষ্ঠির কম রেখে কর্তন করে তাকে ইমাম বানানো জায়েয নেই। ঈদ এবং অন্যান্য নামাযের ক্ষেত্রে একই হুকুম। ইমামতের বেলায় উত্তরাধিকারীর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। বরং শরী‘আতের দৃষ্টিতে ইমামতীর যোগ্য হওয়া জরুরী। (আদ্দুররুল মুখতার-২/৫৫৯)

৩. ঈদের নামাযের পূর্বে নিজ ঘরে বা ঈদগাহে ইশরাক ইত্যাদি নফল পড়া নিষিদ্ধ। ঈদের জামা‘আতের পরেও ঈদগাহে নফল নামায পড়া মাকরূহ। হ্যাঁ, ঘরে ফিরে ইশরাক, চাশত নফল পড়তে কোন অসুবিধা নেই। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৬৯)

৪. ঈদের নামাযের সালাম ফিরানোর পর মুনাজাত করা মুস্তাহাব। ঈদের খুতবার পরে মুনাজাত করা মুস্তাহাব নয়। (মুসনাদে আহমদ হাদীস-২২১৮)

৫. শর‘ঈ ওযর ব্যতীত ঈদের নামায মসজিদে আদায় করা সুন্নাতের খেলাফ। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৬৯)

৬. যদি ইমাম অতিরিক্ত তাকবীরসমূহ ভুল বশতঃ না বলে, আর ঈদের জামা‘আত অনেক বড় হয়, তাহলে ফেতনা ফাসাদের আশংকায় সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় না। সুতরাং সিজদায়ে সাহু করবে না। আর যদি এমন হয় যে উপস্থিত সকলেই সিজদায়ে সাহু সম্পর্কে অবগত হতে পারে তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (আদ্দুররুল মুখতার-২/৯২)

৭. ঈদের দ্বিতীয় রাকা‘আতের রুকুর তাকবীর ওয়াজিব। যদি কোন ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকা‘আতের রুকুতে শরীক হয় তাহলে সে প্রথমে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলবে। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায় হাত তুলে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। এরপর রুকুর তাকবীর বলে রুকুতে শামিল হবে। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৭৪)

৮. যদি কেউ প্রথম রাকা‘আতে রুকুর পূর্বে জামা‘আতে শরীক হয় এবং তাকবীরে তাহরীমার পর দাঁড়ানো অবস্থায় হাত তুলে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলার সুযোগ না পায় তাহলে রুকুতে গিয় অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। তবে সে ক্ষেত্রে কান পর্যন্ত হাত উঠাবে না। (আদ্দররুল মুখতার-১/২৭৪)

৯. যদি প্রথম রাকা‘আত ছুটে যায় তাহলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে প্রথমে, সূরা, কিরাআত পড়বে। অতঃপর রুকুর পূর্বে তিন বার হাত তুলে তিন তাকবীর দিবে। তারপর রুকুর তাকবীর বলে রুকু সিজদা করে যথা নিয়মে নামায সম্পন্ন করবে। (রুদ্দুল মুহতার-২/১৭৪)

১০. ঈদের ময়দানে জানাযার নামায পড়া জায়েয। প্রথম ঈদের নামায অতঃপর জানাযার নামায এরপর খুতবা হবে। (রদ্দুল মুহতার-৪/৩৫৬)

১১. বর্তমানে খতীব সাহেবগণ ঈদের খুতবার শুরুতে ও মাঝে মাঝে যে তাকবীরে তাশরীফ বলে থাকেন নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা হলো, প্রথম খুতবার শুরুতে নয় বার, দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে সাত বার এবং দ্বিতীয় খুতবার শেষে মিম্বার থেকে নামার পূর্বে চৌদ্দ বার শুধু “আল্লাহু আকবার” বলবে। এটাই মুস্তাহাব। খুতবার সময় বা খুতবার মাঝে তাকবীরে তাশরীক বলবে না। হ্যাঁ, ঈদের নামায শেষে সালাম ফিরিয়ে তাকবীরে তাশরীক একবার বলবে। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৭৫)

১২. নামাযের পর ঈদের দুই খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। যদি খুতবা শোনা না যায়, তাহলে চুপচাপ বসে থাকবে। অনেক লোক সালামের পর খুতবা না শুনেই চলে যায়। যা সুন্নাতের খেলাফ। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৫৯)

১৩. খুতবার মধ্যে মুসল্লীদের কথা বার্তা বলা নিষেধ। এমন কি নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম উচ্চারিত হলে মুখে দরূদ পড়া নিষেধ। তবে অন্তরে পড়তে পারবে। তেমনিভাবে খুতবার মধ্যে দান বাক্স বা রুমাল চালানোও নিষেধ এবং গুনাহের কাজ। (মুসনাদে আহমদ হাদীস নং-১০১৪০, আদ্দররুল মুখতার-২/১৫৯)

১৪. উভয় খুতবা শেষ হলে ঈদের নামাযের সকল কাজ শেষ হল, এরপর ঈদের আর কোন কাজ বাকী নাই। সুতরাং খুতবা শেষ হলে সকলেই নিজের বাড়িতে ফিরে আসবে। বর্তমানে দেখা যায় যে ঈদের খুতবার পরে লম্বা মুনাজাত হয়। এটা মুস্তাহাব নয়। তারপর লোকদের মধ্যে মু‘আনাকা বা কোলাকুলীর ভীড় লেগে যায় অথচ ঈদের সুন্নাতের মধ্যে কোলাকুলী করার কথা নাই। সুতরাং এটা ঈদের সুন্নাত মনে করা ভুল। বরং এটা দেখা-সাক্ষাতের সুন্নাত। কোন ভাইয়ের সাথে অনেক দিন পরে সাক্ষাত হলে প্রথমে সালাম বিনিময় করবে। তারপর মুসাফাহা করবে। তারপর কোলাকুলী করবে। সুতরাং ঈদের নামাযের পূর্বে সাক্ষাত হলে তখনই এটা সেরে ফেলবে। আর যদি ঈদের খুতবার পর এরূপ কারোর সাথে সাক্ষাত হয় তাহলে কোলাকুলী করবে। এরূপ করবে না যে, সাক্ষাত হলো নামাযের পূর্বে কিন্তু কোলাকুলী করা হলো খুতবার পরে। (ফাতাওয়ায়ে শামী-৬/৩৮১, আহসানুল ফাতাওয়া-১/৩৫৪, সিলসিলাতুল আদাবিল ইসলামিয়াহ (মাকতাবায়ে শামেলা থেকে)

ঈদের সালাতে খুতবা শোনা আবশ্যক।

খুতবা শুনা আবশ্যক হওয়া মর্মে অনেক প্রমাণ আছে। এর মাঝে কয়েকটি হাদীস উপস্থাপন করছি।

প্রথম বর্ণনা:

হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু বলেন-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যখন তুমি তোমার পাশের জনকে জুমআর দিন বল-চুপ থাক এমতাবস্থায় যে, ইমাম সাহেব খুতবা দিচ্ছে, তাহলে তুমি অযথা কাজ করলে। (সহীহ বুখারী : হাদীস নং-৮৯২, সহীহ মুসলিম : হাদীস নং-২০০৫)

দ্বিতীয় বর্ণনা:

হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি হযরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ) পাশে এসে বসলেন। বসে উবাইকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেন বা কোন বিষয়ে কথা বললেন। কিন্তু উবাই ইবনে কাব (রাঃ) তার কথার কোন প্রতিউত্তর করলেন না। তখন ইবনে মাসঊদ (রাঃ) মনে করলেন তিনি হয়তো তার উপর রাগাম্বিত। তারপর যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করে চলে গেলেন। তখন আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, হে উবাই! আমার কথা জবাব দিতে তোমাকে বাঁধা দিল কে? তিনি বললেন, তুমি আমাদের সাথে জুমআর নামাযে উপস্থিত হওনি। আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, তো? উবাই ইবনে কাব (রাঃ) ‌বললেন, তুমি কথা বলছিলে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু‌ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তখন খুতবা দিচ্ছিলেন। (তাই কথার জবাব দেইনি) একথা শুনে আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) দাড়িয়ে গেলেন। ছুটে গেলেন রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এর কাছে। জানালেন পুরো বিষয়টি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু‌ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উবাই ইবনে কাব (রাঃ) ঠিক কথাই বলেছে। তুমি এ বিষয়ে উবাই ইবনে কাব (রাঃ) এর কথাকে মেনে নাও। (মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-১৭৯৯)

এই হাদীস গুলো ছিল সালাতুল জুম’আ (জুম’আ সালাত) সংক্রান্ত। এবার আমরা দেখব ঈদের খুতবা সংক্রান্ত হাদীস।

১ম হাদীস –

হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু‌ আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দুই খুতবা দিতেন এবং দুই খুতবার মাঝে বসতেন।

(সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী : হাদীস নং-১৭২৩ সুনানে নাসায়ী কুবরা : হদীস নং-১৭৩৪, সুনানে নাসায়ী : হাদীস নং-১৪১৬, সহীহ ইবনে খুজাইমা-১/৭০০, হাদীস নং-১৪৪৬, সুনানে দারা কুতনী : হাদীস নং-১৬৩০।

২য় হাদীস –

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ঈদের নামাযের পর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। (সহীহ বুখারী-১/১৩১)

এছাড়া আরো অনেক হাদীস আছে, যা প্রমাণ করে ইমামের খুতবাদানকালে কথা বলা, নামায পড়া নিষিদ্ধ। অর্থাৎ সে সময় কথা না বলে খুতবা মনযোগ সহকারে শুনতে হয়।

তথ্য সূত্রঃ

১. দারসে মানসূর, জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া

২. দৈনিক শিক্ষা নিউজ

আরও পোস্ট দেখুন:

Comments (1)

[…] ঈদের সালাতের মাসআলা মাসাইল […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!