বাওবি প্রশিক্ষণ Archives - Proshikkhon

Category "বাওবি প্রশিক্ষণ"

18Jan2022

Class Management: Concepts, Materials and Strategies

শ্রেণি ব্যবস্থাপনা: ধারণা, উপাদান ও কৌশল

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় শিখন-শেখানো কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে শ্রেণি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক যদি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রেণি ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে তার যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন তবেই সার্থক ও কার্যকর পাঠদান সম্ভব ।

শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্র : 

ক. শ্রেণি শৃঙ্খলা,

খ. সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহার,

গ. পারগতার ভিত্তিতে স্তর ভিত্তিক দল গঠন,

ঘ. ক্ষার্থীর আসন নির্ধারণ,

ঙ. শ্রেণিকক্ষে শিখন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি,

চ. শিখন-শেখানো কার্যাবলি পরিচালনার উপযোগী শ্রেণিবিন্যাস,

ছ. শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলোবাতাস প্রভৃতি ।

শ্রেণি ব্যবস্থাপনার উপাদান

  • শ্রেণি শৃঙ্খলা,
  • সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহার,
  • পারগতার ভিত্তিতে স্তর ভিত্তিক দল গঠন,
  • শিক্ষার্থীর আসন নির্ধারণ,
  • শ্রেণিকক্ষে শিখন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি,
  • শিখন-শেখানো কার্যাবলি পরিচালনার উপযোগী শ্রেণিবিন্যাস,
  • শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলোবাতাস,
  • শিক্ষকের কণ্ঠস্বর,
  • শিক্ষার্থীদের নাম,
  • স্পষ্ট নির্দেশনা,
  • শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের অবস্থান,
  • শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক,
  • দৃষ্টি বিনিময়,
  • শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব; প্রভৃতি ।

শ্রেণিকক্ষে বিরাজমান সমস্যাগুলো :

  • পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী;
  • অনিয়মিত শিক্ষার্থী;
  • অতি মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী;
  • স্বল্প মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী;
  • শিক্ষক অনুপাতে অধিক শিক্ষার্থী;
  • সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থী;
  • আসবাবপত্রের অভাব;
  • স্বল্প পরিসর।

শ্রেণি ব্যবস্থাপনার কৌশল

  • শ্রেণি শৃঙ্খলা বজায় রাখা;
  • শিখন-শেখানো কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা;
  • শিখনফল অর্জনের জন্য সময় বণ্টন করে পাঠ পরিকল্পনা করা;
  • প্রতিটি ধাপে শিখন-শেখানো পরিবেশ সৃষ্টি করা;
  • মেধা, পারগতা, নিয়মিত, অনিয়মিত, সমস্যাগ্রস্ত শিশু ইত্যাদির ভিত্তিতে তিন স্তর বিশিষ্ট দল গঠন;
  • দলীয় কাজ প্রদানের পূর্বে প্রয়োজনীয় উপকরণ সম্পর্কে নিশ্চিত করা;
  • প্রতিটি পাঠের তিনটি পর্যায়ের (প্রস্তুতি, উপস্থাপন ও মূল্যায়ন) যথাযথ শ্রেণি পরিকল্পনা করা;
  • দলীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা;
  • ক্সপ্রয়োজনে পাশাপাশি/মুখোমুখি বসতে দিয়ে দল গঠন করা;
  • পারগ শিক্ষার্থী থেকে অপারগ শিক্ষার্থীর শিক্ষার ব্যবস্থা করা;
  • ধীর গতি বা অপারগ শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগ দেয়া ও তাদের জন্য সময় বেশি দেয়া;
  • প্রজেক্ট পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের কর্ম বণ্টন করা;
  • বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের শিখন দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ দেয়া;
  • মূল্যায়নের মাধ্যমে শিখনফল অর্জন যাচাই করা;
  • বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা এবং সামর্থ অনুসারে তাদের কর্ম পরিকল্পনা করা;
  • একাকী ও দলের কাজে সহায়তা করা;
  • সঠিক নির্দেশ প্রদান করা;
  • শিক্ষার্থীদের শিখনের জন্য সময়ের বণ্টন করা;
  • শিক্ষকের নির্দেশনার জন্য সময় বণ্টন করা;
  • আসন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা;
  • উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

আরও পোস্ট দেখুন:

পাঠ পরিকল্পনা: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের নমুনা পাঠ পরিকল্পনা

18Jan2022

Strategies for building good school relations with community members

সমাজসদস্যদের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক সৃষ্টির কৌশল

বিদ্যালয় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান৷ এখানে সেতু বন্ধনে আছেন  শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক৷ যেখানে শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রাণ; সেখানে শিক্ষক ও অভিভাবক হচ্ছেন বিদ্যালয়ের দেহ স্বরূপ৷ একক প্রচেষ্টায় কখনো কোন প্রতিষ্ঠানের  উন্নতি সাধন  সম্ভব নয়৷ প্রত্যেক বিদ্যালয়ের একটি নির্ধারিত এলাকা (Catchment area) আছে৷ বিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য ঐ এলাকার জনগোষ্ঠির বিদ্যালয়ের সাথে সুসম্পর্ক একান্ত প্রয়োজন৷ বিশেষ করে বিদ্যালয়ের সংগে এলাকার অভিভাবক শ্রেণি ও বিদ্যোত্সাহী ব্যক্তিবর্গের সুসম্পর্ক অপরিহার্য৷ যে প্রতিষ্ঠানের সংগে সমাজের  সদস্যদের যত ভাল সম্পর্ক, সে প্রতিষ্ঠান তত লেখাপড়ায় উন্নত৷ সমাজে বসবাসকারিগণই মূলত বিদ্যালয় উন্নয়নে  এগিয়েআসেন ৷ ব্যক্তিগত  নয়, সমষ্টিগত প্রচেষ্টাই কোন বিদ্যালয়  উন্নয়নের  পূর্বশর্ত ৷ কাজেই বিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য  সমাজসদস্যদের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্কের  কোন বিকল্প নেই ৷এইঅধিবেশনে সমাজসদস্যদের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক কীভাবে সৃষ্টি করা যায় সেই কৌশলসমূহ আলোচনা করা হবে৷

সমাজ সদস্যদের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যম :

  • শ্রেণিওয়ারি মা সমাবেশ;
  • এস এম সি;
  • অভিভাবক দিবস;
  • উঠান বৈঠক;
  • শিশু র‌্যালি;
  • গণ্যমান্যব্যক্তিদের নিয়ে সভা;
  • শিক্ষোপকরণ প্রদর্শন;
  • গৃহ পরিদর্শন;
  • সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান;
  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পুরস্কার;
  • দরিদ্র, অসহায় শিশুদের জন্য পুরস্কার;
  • একীভথত শিক্ষা সম্পর্কে অবহিতকরণ;
  • বিদ্যালয়ের পরিকল্পনা প্রণয়ন;
  • শিক্ষা সপ্তাহ/ক্রীড়াসপ্তাহ;
  • প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয় যুবক;
  • বিদ্যালয় সম্পর্কে মালিকানাবোধ;
  • পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ;
  • বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি।

সমাজসদস্যদের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক সৃষ্টির কৌশল:

  • শ্রেণিওয়ারি মা সমাবেশের ব্যবস্থা করা;
  • এস এম সি সদস্যদের সাথে নিয়মিত  সভা করা;
  • নির্ধারিত  দিনে অভিভাবক দিবস পালন  করা;
  • নিয়মিত ভাবে উঠান বৈঠকের ব্যবস্থা করা;
  • নির্ধারিত দিনে শিশুর‌্যালির ব্যবস্থা করা;
  • মাঝে মাঝে গণ্যমান্যব্যক্তিদের নিয়ে সভা করা;
  • শিক্ষার্থী কর্ত্তৃক তৈরিকৃত শিক্ষোপকরণ প্রদর্শনীতে অভিভাবকদের আমন্ত্রণ করা;
  • রুটিন  অনুযায়ী গৃহ পরিদর্শন করা;
  • সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এলাকার ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ করা;
  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা;
  • দরিদ্র, অসহায় শিশুদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা;
  • এলাকার জনগণকে একীভূত শিক্ষা সম্পর্কে অবহিত করা;
  • বিদ্যালয়ের পরিকল্পনা প্রণয়নে এলাকার জনগণকে সম্পৃক্ত করা;
  • শিক্ষা সপ্তাহে ও ক্রীড়াসপ্তাহে স্থানীয় জনগণকে আমন্ত্রণ করা;
  • প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয় যুবকদের বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা;
  • বিদ্যালয়টি সম্পর্কে এলাকাবাসীর মনে মালিকানাবোধ সৃষ্টি করা;
  • পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সকলকে আমন্ত্রণ জানানো;
  • এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠা/ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির হাত দিয়ে পুরস্কার প্রদান।

আরও পোস্ট দেখুন:

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য

18Jan2022

Impact of teacher’s sense of community and human values in teaching and learning

শিখন-শেখানো কাজে শিক্ষকের সমাজবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রভাব

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের একজন দক্ষ শিক্ষক সমাজের পথ প্রদর্শক, সমাজসংস্করক ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব৷ তাঁর আদর্শে  শিক্ষার্থীরা ও সমাজের  অন্যান্য সদস্যবৃন্দ অনুপ্রাণিত  হন৷ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: শিখন-শেখানো কার্যাবলির মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে ভবিষ্যতের জন্য সমাজবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটে,  যা তাদের প্রকৃত  মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ধনাত্মক নিয়ামকের মত কাজ করে৷ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব৷ মানুষই একমাত্র বিবেকসম্পন্ন জীব৷ মানুষ অনেকগুলো গুণের অধিকারী৷ কিন্তু একজন শিক্ষককে মানুষের গুণাবলির পাশাপাশি আর অনেকগুনের অধিকারী হতে হয়, যা তাঁকে এক অনন্য মানুষে পরিনত করে৷ শিখন-শেখানো কাজে একজন শিক্ষকের সমাজবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রভাবসুদূরপ্রসারী, যা ভবিষ্যতে আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত হয়৷ আমরা এই অধিবেশনে  শিখন-শেখানো কাজে শিক্ষকের সমাজবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব৷

শিক্ষকের সমাজবোধ :

  • সমঝোতা,
  • সম্প্রীতি,
  • সহিষ্ণুতা,
  • মিলেমিশে কাজ করার মনোভাব,
  • নারীজাতির  প্রতি সম্মান প্রদর্শন,
  • মেয়ে শিক্ষার্থী ও ছেলে শিক্ষার্থীদের সমদৃষ্টিতে দেখা,
  • সংবেদনশীল,
  • প্রাণবন্ত,
  • আনন্দমুখর,
  • কৌতুকপ্রিয়।

শিক্ষকের মানবিক মূল্যবোধ

  •  সহনশীলতা,
  •  আত্মসংযমী,
  •  উদার দৃষ্টিভঙ্গি,
  •  ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন,
  •  কৌতুক রসবোধ,
  •  আত্মমর্যাদা সম্পন্ন,
  • কৌতুহল পরায়ণ,
  • শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ,
  • দয়া ও স্নেহপরায়ণ,
  • মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করা।

সমাজবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রভাব বিস্তারের কৌশল

  •  শিশুকে ভাল আচরণ শিখতে অনুপ্রাণিত করা;
  •  নিজকে অনুকরণীয় আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা;
  •   ভাল কাজের জন্য শিশুকে পুরস্কার দেয়া;
  •  ভাল কাজের জন্য শিশুকে প্রশংসা  করা;
  •  শিশুকে নিরাপদ পরিবেশ  প্রদান করা;
  •  শিশুদের মানবতামূলক গল্প শোনানো;
  •  মানবজাতি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা;
  •  বড়দের সম্মান ও ছোটদের প্রতি সহানুভথতিশীল আচরণ  করতে শেখানো;
  •  সকলের  প্রতি মানবিক হতে  শেখানো;
  •  ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণে উদ্বুদ্ধ করা;
  •  সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করানো;
  •  পরমতসহিষ্ণুতা শেখানো;
  •  জাতীয়, সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করানো;
  •  দেশের  স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অবহিত করা।

আরও পোস্ট দেখুন:

সমাজসদস্যদের সাথে বিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক সৃষ্টির কৌশল

18Jan2022

Lesson Plan: Sample Lesson Plan of Bangladesh and Global Studies

পাঠ পরিকল্পনা: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের নমুনা পাঠ পরিকল্পনা

পাঠ-পরিকল্পনা কী?

যে কোন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য শুরু করার পূর্বেই কাজটি কীভাবে করা হবে, কী কী পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বন করা হবে, কতটুকু সময় নিয়ে করা হবে, কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হবে এবং কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে তার একটি রূপরেখা প্রণয়ন করতে হয়। এই রূপরেখাই হলো পাঠ পরিকল্পনা।

পাঠ-পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা

  • শিক্ষক শ্রেণি পাঠ পরিচালনার জন্য পূর্ব থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন।
  • শিক্ষার্থীদেও পাঠের শিখনফল অর্জন করানো সম্ভব হয়।
  • শিখন শেখানো কার্যক্রম আনন্দদায়ক, ফলপ্রসূ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
  • সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
  • ধারাবাহিকভাবে শ্রেণি পাঠ পরিচালনা করা যায়।
  • উপকরণ তৈরি ও সংগ্রহ করা যায়।
  • কাজ অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করা যায়।

পাঠ উপস্থাপনের পূর্বে শিক্ষকের প্রস্তুতি :

  • পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন
  • বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ
  • পদ্ধতি/কৌশল নির্ধারণ
  • পাঠের বিষয়বস্তু জানার জন্য পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক সহায়িকা, শিক্ষক সংস্করণ, তথ্যপুস্তিকা ইত্যাদি পড়া
  • প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ/তৈরি
  • মানসিক প্রস্তুতি
  • অভীক্ষা প্রণয়ন
  • মূল্যায়ন কৌশল নির্ধারণ
  • প্রয়োজনীয় নিরাময় প্রদান।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পাঠ-পরিকল্পনা দেখতে ও ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

আরও পোস্ট দেখুন:

শিখন-শেখানো কাজে শিক্ষকের সমাজবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রভাব

18Jan2022

Strategies for formulating objective and structured tests

শিখনফল অনুসারে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের নৈর্ব্যক্তিক ও কাঠামোবদ্ধ অভীক্ষা প্রনয়ন কৌশল

যোগ্যতাভিত্তিক টেষ্ট আইটেম তৈরি করা একটি জটিল ও চিন্তাশীল কাজ। আইটেম প্রণয়নের পূর্বে আইটেম প্রস্তুতকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপক তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। কারণ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞানের ঘাটতি থাকলে কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সে কারণে বর্তমান অধিবেশনটিতে টেষ্ট আইটেম তৈরির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তাত্ত্বিক বিষয়াদি যেমন: টেষ্ট আইটেম তৈরির জন্য পূর্ব প্রস্তুতিমূলক কাজ, ব্লুমের ট্যাক্সোনমি অনুসারে মূল্যায়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রসমূহ, নমুণা টেবিল, আইটেম তৈরির বিভিন্ন কলাকৌশল এবং তৈরিকৃত আইটেম মূল্যায়ন ও উন্নয়নের চেকলিষ্ট সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। নিম্নে বর্ণিত আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকগণ যোগ্যতাভিত্তিক টেষ্ট আইটেম প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

বেঞ্জামিন ব্লুমের ট্যাক্সোনমি অনুসারে শিখনের উদ্দেশ্যর শ্রেণিকরণ/ক্ষেত্রসমূহ ব্যাখ্যা

 আমেরিকার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক বেঞ্জামিন ব্লুম শিখনের উদ্দেশ্যসমূহকে প্রথমতঃ ৩ ক্ষেত্রে ভাগ করেছেন। যথা-

(১) জ্ঞানমূলক/মননশীলতার ক্ষেত্র (Cognitive Domain),

(২) অনুভূতিমূলক/আবেগিক ক্ষেত্র (Affective Domain) ও

(৩) মনোপেশীজ ক্ষেত্র (Psychomotor Domai)।

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের উপক্ষেত্র

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রকে মোট ৬টি উপক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো:

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের প্রথম ধাপ হলো জ্ঞান। 

৫ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পাঠ্য বইয়ের ৮৮-৮৯ পৃষ্ঠায়  বেগম রোকেয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য বর্ণিত আছে। প্রথম বাক্যটি শুরু করা হয়েছে এভাবে, ‘বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  • ‘বেগম রোকেয়া কত সালে জন্মগ্রহন করেন’? উত্তর: ‘১৮৮০ সালে’।
  • ‘১৮৮০ সালে’তথ্যটি  সরাসরি টেক্সট বইয়ে আছে কিনা? সঙ্গত কারণেই ‘হ্যাঁ’

জ্ঞান বলতে পূর্বে শেখা কোন সুনির্দ্দিষ্ট /সর্বজনীন কোন কিছুর (সংজ্ঞা, ঘটনা, প্রক্রিয়া, তত্ত্ব ইত্যাদি) স্মরণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে বুঝায়। এটি জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের সবচেয়ে নিচু স্তরের উদ্দেশ্য।’

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের দ্বিতীয় ধাপ হলো অনুধাবণ। 

৫ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পাঠ্য বইয়ের ১৯ পৃষ্ঠায় বণিত আছে, ‘নারী আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এ সময় নারী শিক্ষা বিস্তারে নিরলস পরিশ্রম করেন।’ 

এখন প্রশ্ন হলো- ‘বেগম রোকেয়াকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি কেন?

প্রশ্নটির উত্তর উক্ত বাক্যটি মধ্যে লুকায়িত আছে। শিক্ষার্থীরা বর্ণিত বাক্যটি যথাযথভাবে অনুধাবণ করতে পারলে প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারবে। এটিই হলো অনুধাবণ।

‘অনুধাবণ বলতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যাংশ পড়ে বিষয়বস্তু/তথ্যসমূহ কতকখানি উপলব্ধি করতে পেরেছে শিশুর সে ক্ষমতাকে বুঝায়। অর্থাৎ কোন ধারণা/তথ্যকে বুঝে সহজভাবে উহা বর্ণনা করার ক্ষমতাকে অনুধাবন/বোধগম্যতা বলা হয়।’

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের তৃতীয় ধাপ হলো প্রয়োগ। 

প্রশ্ন: বেগম রোকেয়ার মত সমাজের মানুষের কল্যানের জন্য তুমি করতে পার এমন ৫টি কাজের নাম লেখ।

এ সকল তথ্য পাঠ্য বইয়ে নেই। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যাংশ থেকে বেগম রোকেয়ার জীবনী পড়ে পাঠের মর্ম অনুধাবনের পর আরও গভীর চিন্তা করে নিজ জীবনে উহা প্রয়োগের চিন্তা থেকে  এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে সেটিই হবে ‘প্রয়োগশীলতা’।

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের চতুর্থ ধাপ হলো বিশ্লেষণ। 

সমাজের মানুষ হিসেবে আমাদের অনেক অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে আমাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্বলিত একটি সমণি¦ত চার্ট দিয়ে উক্ত চার্ট থেকে যদি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আলাদা করতে দেই, সেক্ষেত্রে কাজটি করতে গিয়ে সে নিশ্চয়ই অধিকার ও কর্তব্যের বৈশিষ্ট্যগুলো ভালভাবে জেনে নিয়ে উক্ত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে অধিকার ও কর্তব্যসমূহ আলাদা করবে।

এভাবে কোন সমগ্রকের ক্ষুদ্র অংশসমূহ পুঙ্খানুরূপে চিনে সমগ্রকের সংগে ক্ষুদ্র অংশসমূহের সম্পর্ক স্থাপন করতে জানা এবং  বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের আলোকে সমগ্রকের অংশসমূহ আলাদা করতে পারাকে বিশ্লেষণ বলা হয়।

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের পঞ্চম ধাপ হলো সংশ্লেষণ। 

একটি মানচিত্রের বিভিন্ন অংশে খন্ডিত করে পঞম শ্রেণির কোন শিক্ষার্থীকে উক্ত খন্ডিত অংশসমূহ জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র তৈরি করতে দিলে উক্ত শিক্ষার্থী সমগ্রকের (পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র) সাথে খন্ডিত অংশসমূহের সম্পর্ক চিন্তা করে যদি কাজটি সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারে তবে সেটি হবে সংশ্লেষণ।

অর্থাৎ কোন বস্তু/উপাদানের ক্ষুদ্র উপাদানসমূহকে একত্রিকরণের মাধ্যমে পূণাঙ্গ রূপ দেয়ার নাম হলো সংশ্লেষণ। এ স্তরের পরিবর্তন হবে সৃষ্টিধর্মী কাজ বা পরিকল্পনা করার ক্ষমতা।

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের ষষ্ঠ এবং সর্বশেষ ধাপ হলো মূল্যায়ন।

‘সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর মধ্যে কে বেশী ভুমিকা পালন করেছেন’ শিক্ষার্থীদের ইহা বিচার করতে দিলে সেটি কীভাবে করবে? অবশ্যই পাঠ্য বই থেকে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। অতএব, মূল্যায়ন হলো বিশেষ উদ্দেশ্যের প্রেক্ষিতে নির্র্দিষ্ট মানদন্ডের আলোকে কোন কিছুর মূল্যমান বিচার করার প্রক্রিয়া।

বুদ্ধিভিত্তিক ডোমেইনগুলো সিড়ির ধাপের সাথে তূলনা করা যায়:

  • মূল্যায়ন (৬)
  • সংশ্লেষণ (৫)
  • বিশ্লেষণ (৪)
  • প্রয়োগ (৩)
  • উপলব্ধি (২)
  • জ্ঞান (১)

মননশীলতার উপরোক্ত ৬টি পর্যায় কাঠিন্যের মাত্রা অনুসারে বিন্যস্ত। জ্ঞান হল সহজতম এবং মূল্যায়ন হল জটিলতম পর্যায়। এক্ষেত্রে শিখন প্রক্রিয়ায় মননশীলতার প্রথম পর্যায়টি পুরোপুরি অর্জনের পরই পরবর্তী পর্যায়ে উত্তরণের প্রচেষ্টা নেয়া উচিত। অন্যথায় শিখন প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে। শিখন প্রক্রিয়ার ন্যায় একই ভাবে মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও সহজ থেকে কঠিন নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রশ্নপত্রের শুরুতেই সহজ প্রশ্ন করলে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং মনোনিবেশ সহজ হয়। বিপরীতক্রমে প্রশ্নপত্রের শুরুতেই কঠিন প্রশ্ন করলে শিক্ষার্থীদের জন্য উহা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অভীক্ষা পদ কীভাবে তৈরি করতে হয়?

(ক) বহুনির্বাচনী প্রশ্ন:

অভীক্ষা পদ তৈরি নমুনা-১:      

প্রান্তিক যোগ্যতা: ১২. পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি এবং এসব কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ। 

শিখনফল: ১২.১.৫ আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো বলতে পারবে।

অভীক্ষা পদ-১. টিউবয়েলের আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে নিম্নের কোন রোগটি হবার ঝুঁকি রয়েছে ?

(ক) ডায়রিয়া

(খ) ক্যান্সার

(গ) সর্দি ও কাশি

(ঘ) যক্ষা         

উত্তর: (খ) ক্যান্সার

ডোমেইন : জ্ঞানমূলক

জ্ঞানমূলক ডোমেইন কেন? কারণ এর উত্তর পাঠ্যপুস্তকে সরাসরি পাওয়া যায়।

অভীক্ষা পদ তৈরি নমুনা-২:

প্রান্তিক যোগ্যতা: ১০ মৌলিক মানবাধিকার সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তার অনুশীলন।     

শিখনফল: ১০.১.৩ মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুফল বর্ণনা করতে পারবে।

অভীক্ষা পদ-২: শিশু শ্রম বন্ধ হলে কী উপকার হবে?

(ক) দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে

(খ) শিশু পাচার বন্ধ হবে

(গ) শিশুদের অধিকার রক্ষা হবে

(ঘ) কলকারখানার উৎপাদন বাড়বে         

উত্তর:  (গ) শিশুদের অধিকার রক্ষা হবে

ডোমেইন : অনুধাবনমূলক

অভীক্ষা পদ তৈরি নমুনা-৩:

প্রান্তিক যোগ্যতা: ১২. পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি এবং এসব কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ। 

শিখনফল: ১২.১.৭ রাস্তা, পুল, সাঁকো ইত্যাদি মেরামত কাজে অংশগ্রহণ করবে।

অভীক্ষা পদ-৩. তুমি বাড়ীর নিকটবর্তী মাঠে খেলতে যাবার পথে দেখলে এলাকার লোকজন মিলে ভাংগা রাস্তা মেরামত করছে। এক্ষেত্রে তুমি কী করবে?

(ক) অন্য রাস্তা দিয়ে খেলতে যাব

(খ) রাস্তা মেরামতের কাজে সাহায্য করব

(গ) লোকজনকে ঐ পথ দিয়ে যেতে নিষেধ করব

(ঘ) খেলা না করে বাড়ি ফিরে আসব

উত্তর:  (খ) রাস্তা মেরামতের কাজে সাহায্য করব

ডোমেইন :  প্রয়োগমূলক

(খ) কাঠামোবদ্ধ অভীক্ষা (সিআরকিউ):

অভীক্ষা পদ তৈরি নমুনা-১:

প্রান্তিক যোগ্যতা: ৯. জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা এবং সমাজের সদস্যদের মধ্যে সাম্য, মৈত্রী, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে শান্তিময় সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টিতে আগ্রহী হওয়া। 

শিখনফল: ৯.১.১ সমাজের উন্নয়নে বিভিন্ন ধর্ম ও জীবন ধারার অনুসারী কয়েকজন নারী ও পুরুষের অবদান সম্পর্কে বলতে পারবে।

অভীক্ষা পদ-১: নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার ৫টি অবদান লিখ।     

ডোমেইন : জ্ঞান

উত্তর: নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার ৫টি অবদান হল:

১.মুসলিম নারীদেরকে শিক্ষিত ও সচেতন করার মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়ে সহায়তা দিয়েছিলেন।

২.নারীসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অনেক পুস্তক রচনা করেছিলেন।

৩.নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

৪.মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীদেরকে আধুনিক রান্না, সেলাই ও সন্তান প্রতিপালনে দক্ষ হতে সহায়তা করেছিলেন।

৫.মুসলিম নারীদেরকে সমাজের কঠোর পর্দা প্রথা ভেঙ্গে সমাজে স্বাভাবিকভাবে চলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

অভীক্ষা পদ তৈরি নমুনা-২:

প্রান্তিক যোগ্যতা: ১১. কায়িক শ্রমের প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ।

শিখনফল: ১১.২.২ সমাজে সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব বলতে পারবে।

অভীক্ষা পদ-৫: তুমি সমাজের সকল শ্রমজীবি মানুষকে কেন শ্রদ্ধা করবে? ৫টি কারণ লেখ।     

ডোমেইন : উপলব্ধি

উত্তর: আমি সমাজের সকল শ্রমজীবি মানুষকে শ্রদ্ধা করব। কারণ:

১.সমাজে সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য আমরা শ্রমজীবিদের ওপর নির্ভরশীল।

২.শ্রমিকরাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

৩.শ্রমিককদের কারণেই সমাজ ও রাস্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চলতে পারে।

৪.আমাদের প্রতিদিনের সকল কাজে কোন না কোনভাবে শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল।

৫. কোন দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে দেশের শ্রমিক শ্রেনীর সেবার মানের ওপর।

অভীক্ষা পদ তৈরি নমুনা-৩:

প্রান্তিক যোগ্যতা: ১৪. সমাজ জীবনে পরমত সহিষ্ণুতা প্রদর্শন এবং গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির অনুশীলন।  

শিখনফল: ১৪.৪.১ নেতৃত্বের সাধারণ গুণাবলি উল্লেখ করতে পারবে।

অভীক্ষা পদ-৬: তোমার শ্রেণিতে ক্লাশ ক্যাপ্টেন নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে তুমি যাকে যোগ্য মনে করে ভোট দিবে তার পাঁচটি গুন উল্লেখ কর।   

ডোমেইন :  প্রয়োগ

উত্তর:  ক্লাশ ক্যাপ্টেন হবার জন্য নিম্নের ৫টি গুন থাকা প্রয়োজন। যথা:

১. সবার সাথে মিশতে পারা

২. স্পষ্ট ও সুন্দর করে কথা বলা

৩. দায়িত্বশীল

৪. সৎ ও ন্যায়বান

৫. পরোপকারী।

আরও পোস্ট দেখুন:

মার্কিং স্কিম কী? নমুনা মার্কিং স্কিম

18Jan2022

What is a marking scheme? Sample marking scheme

শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নের উপায়সমূহ

মার্কিং স্কিম কী:

প্রতি বিষয়ের প্রতিটি প্রশ্ন ও তার সম্ভাব্য উত্তর এবং উত্তর মূল্যায়ন নিদের্শিকা অর্থাৎ শিক্ষার্থী কর্তৃক লিখিত প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের প্রেক্ষিতে সে কত নম্বর পাবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত ডকুমেন্ট হলো মার্কিং স্কিম।

মার্কিং স্কিম প্রণয়নের যৌক্তিকতা:

১. মূল্যায়ন নির্দেশিকা একটি সুস্পষ্ট ডকুমেন্ট বলে মূল্যায়ন যথার্থ হয়।

২. উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীগণ ইচ্ছে মাফিক মূল্যায়ন করতে পারেন না বলে মূল্যায়ন নিরেপেক্ষ হয়।

৩. মূল্যায়ন পক্ষপাতহীন হয়।

৪. কোন শিক্ষার্থী অধিক সুবিধা পাবেন পক্ষান্তরে কেউ বঞ্চিত হবেনা।

সাধারণভাবে বিভিন্ন পরীক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত্ব নম্বরে পার্থক্য হবার কারণ:

  • প্রশ্নপত্রে সু অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য বজায় না থাকা;
  • পরীক্ষকগণকে কোন মার্কিং স্কিম সরবরাহ না করা;
  • পরীক্ষক কর্তৃক নির্দেশনা বুঝার ক্ষেত্রে অষ্পষ্টতা;
  • উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য বরাদ্ধকৃত সময়ের স্বল্পতা;
  • উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী নির্বাচনের ত্রুটিজনিত কারণে সুযোগ্য পরীক্ষক নির্বাচিত না হওয়া।

উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীগণের জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনা নিম্নরূপ:

মূল্যায়নকারীর জন্য মূল্যায়ন পূর্ব-করণীয়:

১. প্রতিটি অভীক্ষাপদ মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

২. উত্তরপত্র মূল্যায়নের আগে উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে মার্কিং স্কিম ভাল করে  পড়ে প্রতিটি অভীক্ষাপদের উত্তর  এবং তার বিপরীতে কত নম্বর প্রদান করতে হবে, কী হবে তা নিশ্চিত হতে হবে।

২. মাকিং স্কিমে  প্রতিটি অভীক্ষাপদের জন্য যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছেÑতা অনুসরণ করতে হবে। উল্লেখ্য মূল্যায়নকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাঠ্যবই ও তার বিষয়বস্তু, যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হবে।

৩. এ বিষয়ে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে তবে তা স্পষ্টীকরণের জন্য প্রধান পরীক্ষক/নেপ এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভীক্ষা পদ প্রণয়নকারীগণের সহায়তা নিতে হবে।

৪. কোন অভীক্ষাপদের উত্তর সম্পর্কে  মূল্যায়নকারী নিশ্চিত না হয়ে কেবলমাত্র আন্দাজের উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা যাবে না।

৫. উত্তরপত্র (খাতা) প্যাকেট সংগ্রহ করার পর প্যাকেটের ভিতর খাতার সংখ্যা গণনা করে দেখতে হবে। কোন প্রকার অসংগতি দেখা গেলে, খাতা সরবরাহকারীকে অবহিত করতে হবে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নকালীন সময়ে করণীয়:

১. মুল্যায়নকারীকে ধৈর্য সহকারে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হবে।

২. মুল্যায়নকারী মুল্যায়নকালে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন। মূল্যায়নকারীকে সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।

৩. শিক্ষার্থী অপ্রাসঙ্গিক/ ভুল উত্তরের জন্য কোন নম্বর পাবেনা।

৪. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে বানান ভুলের জন্য কোন নম্বর কর্তন করা সমীচীন হবেনা।

৫. অস্পষ্টতা কিংবা দূর্বোধ্যতার কারণে হাতের লেখা পড়তে না পারলে কোন স্কোর/নম্বর দেয়া যাবেনা।

৬. হাতের লেখা ভাল-মন্দের কারণে নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে কোন রকম হেরফের হবেনা। কেনন্ এখানে হাতের লেখার মান যাচাই করা হচ্ছেনা; শিক্ষার্থী প্রশ্নের উত্তর/তথ্য জানে কিনা, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়।

৭. বহু নির্বাচনী প্রশ্নের জন্য প্রশ্নপত্রে যে নির্দেশনা প্রদান করা আছে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন।

৮. অভীক্ষার উত্তরের যথার্থ ও সুনির্দিষ্টতার দিকে লক্ষ রেখে মূল্যায়ন করতে হবে।

৯. প্রতিটি অভীক্ষা পদের (প্রশ্নের) উত্তর মূল্যায়ন করেছেন কিনা তা মূল্যায়নকারীকে যাচাই করতে হবে।

১০. প্রতিটি উত্তরের জন্য নির্দেশনা মোতাবেক নম্বর প্রদান করা হয়েছে কিনা তা পুনঃ নিরীক্ষা করতে হবে।

১১. নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ঘষামাজা (ঙাবৎ ডৎরঃরহম) করা যাবে না। প্রয়োজনে একটানে কেটে সঠিক নম্বর বসিয়ে পাশে অনু স্বাক্ষর করতে হবে।

মূল্যায়নের পর করণীয় :

১. পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর অনুযায়ী পরীক্ষিত উত্তরপত্রগুলো সাজাতে হবে।

২. প্রতিটি নম্বর ফর্দের নিচে মূল্যায়নকারীকে যথাস্থানে স্বাক্ষর করতে হবে । নম্বর ফর্দে নম্বর উত্তোলনে কোন প্রকার কাটাকাটি বা ঘষামাজা করা যাবে না। প্রয়োজনে একটানে কেটে সঠিক নম্বর বসিয়ে পাশে অনু স্বাক্ষর করতে হবে।

৩. সকল প্রকার গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।

মূল্যায়নকারী যা যা করবেন না:

১. এক বসায় ৫-১০ টির বেশি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন না।

২. নিজের ব্যক্তিগত অভিমতের ভিত্তিতে উত্তর মূল্যায়ন করা যাবে না।

৩. উত্তরপত্র যেখানে সেখানে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না।

৪. অমনোযোগী হয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা যাবে না।

৫. অপরিস্কার লেখা দেখে অধৈর্য হওয়া যাবে না এবং সুন্দর লেখা বা অপরিস্কার লেখার জন্য অধিক/ কম নম্বর প্রদান করা যাবে না।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের নমুনা মার্কিং স্কিম

(ক) বহুনির্বাচনী অভীক্ষা পদ:

বি: দ্র: প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১নম্বর করে পাবে। কোন অভীক্ষা পদের সঠিক উত্তরসহ একাধিক উত্তরে টিক চিহ্ন দিলে, শিক্ষার্থী কোন নম্বর পাবে না। সঠিক উত্তরের ডানে প্রদত্ত ঘরের ভিতরে, বামে, ডানে টিক দিলে উত্তর সঠিক হয়েছে হলে গন্য হবে।

অভীক্ষা পদ-১. টিউবয়েলের আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে নিম্নের কোন রোগটি হতে পারে ? নম্বর-১

(ক) ডায়রিয়া

(খ) ক্যান্সার

(গ) সর্দি

(ঘ) যক্ষা         

উত্তর: (খ) ক্যান্সার

অভীক্ষা পদ-২. শিশুশ্রম বন্ধ হলে কী হবে? নম্বর- ১

(ক) দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে

(খ) শিশু পাচার বন্ধ হবে

(গ) শিশুদের অধিকার রক্ষা হবে

(ঘ) কলকারখানার উৎপাদন বাড়বে         

উত্তর:  (গ) শিশুদের অধিকার রক্ষা হবে

অভীক্ষা পদ-৩. তুমি বাড়ীর নিকটবর্তী মাঠে খেলতে যাবার পথে দেখলে এলাকার লোকজন মিলে ভা্গংা রাস্তা মেরামত করছে। এক্ষেত্রে তুমি কী করবে?

(ক) অন্য রাস্তা দিয়ে খেলতে যাব

(খ) রাস্তা মেরামতের কাজে সাহায্য করব

(গ) রাস্তা মেরামতের কাজ দেখব

(ঘ) রাস্তা মেরামতে অন্যকে সাহায্য করতে বলবো

উত্তর:  (খ) রাস্তা মেরামতের কাজে সাহায্য করব

(খ) কাঠামোবদ্ধ অভীক্ষা পদ (সিআরকিউ):

অভীক্ষা পদ -১. নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার ৫টি অবদান লিখ।    

উত্তর: নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার ৫টি অবদান হল:

ক.মুসলিম নারীদেরকে শিক্ষিত (ও সচেতন) করার মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়ে সহায়তা দান।

খ.নারী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অনেক পুস্তক রচনা করা।

গ.নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।

ঘ.মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীদেরকে আধুনিক রান্না, সেলাই ও সন্তান প্রতিপালনে দক্ষ হতে সহায়তা করেছিলেন।

ঙ.মুসলিম নারীদেরকে সমাজের কঠোর পর্দা প্রথা ভেঙ্গে সমাজে স্বাভাবিকভাবে চলার সুযোগ করে দেয়া।

নির্দেশনা: উত্তর কলামে প্রদত্ত উত্তরগুলোর যে কোন ৫ টি অথবা প্রদত্ত অভীক্ষার জন্য যথার্থ উত্তর লিখতে পারলে প্রতিটির জন্য ১ নম্বর করে পাবে।  বানান ভুলের কারণে অর্থের পার্থক্য না  হলে কোন নম্বর কাটা যাবে না।

অভীক্ষা পদ-২. তুমি সমাজের সকল শ্রমজীবি মানুষকে কেন শ্রদ্ধা করবে তার ৩ টি কারণ লিখ?  উত্তর: আমি সমাজের সকল শ্রমজীবি মানুষকে শ্রদ্ধা করব। কারণ:

ক. সমাজে সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য আমরা শ্রমজীবিদের ওপর নির্ভরশীল।

খ. শ্রমিকরাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

গ. শ্রমিককদের কারণেই সমাজ ও রাস্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চলতে পারে।

ঘ. আমাদের প্রতিদিনের সকল কাজে কোন না কোনভাবে শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল।

ঙ. কোন দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে দেশের শ্রমিক শ্রেনীর সেবার মানের ওপর।

নির্দেশনা: উত্তর কলামে প্রদত্ত উত্তরগুলোর যে কোন ৩ টি অথবা প্রদত্ত অভীক্ষার জন্য যথার্থ উত্তর লিখতে পারলে প্রতিটির জন্য ১ নম্বর করে পাবে।  বানান ভুলের কারণে অর্থের পার্থক্য না  হলে কোন নম্বর কাটা যাবে না।

অভীক্ষা পদ -৩. তোমার শ্রেণিতে ক্লাশ ক্যাপ্টেন নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে তুমি যাকে যোগ্য মনে করে ভোট দিবে তার পাঁচটি গুন উল্লেখ কর।   

উত্তর:  ক্লাশ ক্যাপ্টেন হবার জন্য নিম্নের ৫টি গুন থাকা প্রয়োজন। যথা:

১. সবার সাথে মিশতে পারা

২. স্পষ্ট ও সুন্দর করে কথা বলা

৩. দায়িত্বশীল

৪. সৎ ও ন্যায়বান

৫. পরোপকারী।

নির্দেশনা: উত্তর কলামে প্রদত্ত উত্তরগুলোর যে কোন ৫ টি অথবা প্রদত্ত অভীক্ষার জন্য যথার্থ যে কোন উত্তর লিখতে পারলে প্রতিটির জন্য ১ নম্বর করে পাবে।  বানান ভুলের কারণে অর্থের পার্থক্য না  হলে কোন নম্বর কাটা যাবে না।

আরও পোস্ট দেখুন:

শ্রেণি ব্যবস্থাপনা: ধারণা, উপাদান ও কৌশল

18Jan2022

Evaluation: Objectives, Types and Strategies

মূল্যায়ন: উদ্দেশ্য, প্রকারভেদ ও কৌশল

শিখন-শেখানো কার্যাবলির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হল মূল্যায়ন (Assessment)। একটি সফল শিখন-শেখানো কার্যাবলি পরিচালনার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য মূল্যায়ন অতীব গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যায়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর কোন একটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান/দক্ষতা/দৃষ্টিভঙ্গি তথা যোগ্যতার মান যাচাই করা যায়। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়েছে। গাঠনিক ও সামষ্টিক মূল্যায়ন হলো মূল্যায়নের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শ্রেণিবিভাগ। শিক্ষার্থীকে শিখনে সহায়তা করার জন্য শিখন শেখানো চলাকালীন যে মূল্যায়ন করা হয়, উহাই হলো গাঠনিক মুল্যায়ন (Formative Assessment); আর শিক্ষার্থী যা শিখেছে উহা মূল্যায়ন করাকে বলা হয় সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summtive Assement)। বাংলাদেশে প্রচলিত যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অর্জিত যোগ্যতা সার্থকভাবে পরিমাপের জন্য গাঠনিক মূল্যায়নের ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য গাঠনিক মূল্যায়নের কৌশলগুলো ভালভাবে জেনে শিখন শেখানোর কাজে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে শিখন শেখানোর প্রচষ্টা সফল হবে বলে ধরে নেয়া যায়।

মূল্যায়ন

শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ/উপাদান হলো শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (assessment) যা শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি নিরূপণের জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেক শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্বের অংশ হলো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা কী শিখতে পারছে, কী মাত্রায় এবং কতটা ভালোভাবে শিখতে পারছে সে সম্পর্কে অবহিত হয়ে সর্বোচ্চ শিখন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

সাধারণভাবে মূল্যায়ন বলতে কোন কিছুর উপর মূল্য আরোপ করাকে বুঝায়। Gronlund & Linn (১৯৯০) এর মতে, শিক্ষণ উদ্দেশ্যের কতটুকু শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে পেরেছে তা নির্ণয়ের জন্য তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হল মূল্যায়ন। ঋৎববসধহ এবং খবরিং (১৯৯৮) এর মতে মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন – এর মাত্রা বা স্তর যাচাই করা হয়। এর কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থী কী জানে, বা কী করতে সক্ষম তা নিরূপণ করা। অর্থাৎ, মূল্যায়ন হলো একটি উপকরণ বা কৌশল যার দ্বারা শিক্ষার্থীরা তাদের জন্য নির্ধারিত শিখন ফল (learning outcome) কতটা ভালভাবে অর্জন করতে পেরেছে তা নিরূপণ করা বা মাপা যায়। তবে শিখন মূল্যায়ন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে শিক্ষার্থীর শিখন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা, তা পর্যালোচনা করা এবং পর্যালোচনার ফসল শিক্ষার্থীদের শিখন মান উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হয়।

সাধারণভাবে শিক্ষাক্রম ও বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা শিক্ষার্থী কতখানি অর্জন করতে পেরেছে, বা কতটা অগ্রসর হয়েছে তা যাচাই করা হয় মূল্যায়নের মাধ্যমে। অর্থাৎ, কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর জ্ঞান, বোধগম্যতা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ইত্যাদি মূল্যায়ন করা হয়। আর তা করতে হবে নির্ধারিত শিখন উদ্দেশ্যের (learning intention) ভিত্তিতে।

মূল্যায়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

মূল্যায়নের প্রধান লক্ষ্য হলো পাঠের বিষয়বস্তু শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত বা উদ্বুদ্ধ করা। এটি প্রধানত শিক্ষার্থীর শিখন মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। শিক্ষার্থীদের শিখন অভিজ্ঞতা অর্জনে মূল্যায়ন তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(ক) মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান। শিক্ষার্থী কতখানি অগ্রসর হয়েছে বা কতটা পিছিয়ে পড়েছে সে সম্পর্কিত তথ্য জানা যায়; এবং সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে তার শিখন মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা যায়।

(খ) বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে সাধনের লক্ষ্যে মূল্যায়নের ফল ব্যবহার করে থাকে। যেমন: শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেষণা সৃষ্টি বা শিখনে আগ্রহ বৃদ্ধি, শিখনের সুযোগ প্রসারিত করা, শিক্ষার্থীকে শিখন সহায়ক পরামর্শ বা ফলাবর্তন দেয়া, শিক্ষককে শিক্ষণ পদ্ধতি যাচাই করার সুযোগ প্রদান, গ্রেড প্রদান, উপরের শ্রেণিতে পদোন্নতি, শিখন মান নিশ্চিত করা ইত্যাদি ।

(গ) মূল্যায়নের একটি বহুল ব্যবহৃত বা গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীকে তার কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেয়া। অর্থাৎ, শিক্ষার্থী কোন কোর্স বা বিষয়ে নির্ধারিত মানদন্ড (Particular standard) অর্জন করতে পেরেছে কিনা তার একটি প্রমাণ বা সনদ প্রদান করা হয় মূল্যায়নের মাধ্যমে।

(ঘ) শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা/কৃতিত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ নথিবদ্ধ করা, অন্য কথায় শিক্ষার্থীর প্রোফাইল বর্ণনা করা শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

(ঙ) মূল্যায়নের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর শিখনকে সহায়তা করা। যেমন: প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আগ্রহ বৃদ্ধি করা, শিক্ষার্থীর কাজ বা পারদর্শিতার ওপর ফলাবর্তন (ভববফনধপশ) দেয়া যার দ্বারা শিক্ষার্থী তার দূর্বলতা দূর করে শিখন মান বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে, শিক্ষার্থীকে তার অগ্রগতি চিহ্নিত করতে সহায়তা করা।

(চ) শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের তথ্য শিক্ষককে তার শিক্ষণ পদ্ধতি ও কলা-কৌশল পর্যালোচনা করার সুযোগ প্রদান করে। যেমন, শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা কোন প্রশ্নের উত্তর কতটা সঠিকভাবে দিতে পারছে; সব শিক্ষার্থী উত্তর দিতে পারছে কিনা ইত্যাদি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক তার শিক্ষণ পদ্ধতির মান যাচাই করতে পারেন।

(ছ) শিক্ষার্থীর কতটা অগ্রগতি হয়েছে, বা শিক্ষার্থী কোন কাজের জন্য কতটা যোগ্য – এ বিষয়ে অভিভাবককে অবহিত করা মূল্যায়নের একটি উল্লখযোগ্য কাজ।

মূল্যায়নের প্রকারভেদ:

১. অনানুষ্ঠানিক মূল্যায়ন (Informal Assessment) ও আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন (Formal Assessment):

শ্রেণীকক্ষের প্রতিদিনের শিখন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে যে মূল্যায়ন করা হয়, তাই অনানুষ্ঠানিক মূল্যায়ন । যেমন: শিক্ষার্থীর উত্তর ও উপস্থাপন শুনে, শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে, বাড়ির কাজ বা নির্ধারিত কাজ যাচাই করে তাকে মূল্যায়ন করা।

পক্ষান্তরে, কোন উদ্দেশ্য নিয়ে শ্রেণীকক্ষের শিখন কাজ বন্ধ রেখে নির্দিষ্ট সময়ে ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় যে মূল্যায়ন করা হয়, তাই আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন । যেমন: ষান্মাসিক পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা ইত্যাদি।

২. গাঠনিক (Formative) ও সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative):

শিখন শেখানো কাজ চলাকালীন যে মূল্যায়ন করা হয়, তাকে গাঠনিক মূল্যায়ন বলে। যেমন: শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা (পড়া, লেখা, বলা, অভিনয়, আবৃত্তি, আঁকা ইত্যাদি) পর্যবেক্ষণ করে, মৌখিক প্রশ্ন করে । 

অন্যদিকে একটি ইউনিটের / সাময়িকের/ বছরের কার্যক্রমের শেষে শিক্ষার্থী কী অর্জন করল তা যাছাই এর জন্য যে মূল্যায়ন করা হয়, তাকে সামষ্টিক মূল্যায়ন বলে। যেমন: সাপ্তহিক পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা ইত্যাদি ।

৩.  ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment) ও প্রান্তিক মূল্যায়ন (Terminal Assessment):

শিখন শেখানো কার্যাবলিতে অবিরতভাবে যে মূল্যায়ন করা হয়, তাকে ধারাবাহিক মূল্যায়ন বলে। অন্যদিকে একটি কোর্সের শেষে শিক্ষার্থী কী অর্জন করল তা যাছাই এর জন্য যে মূল্যায়ন করা হয়, তাকে প্রান্তিক মূল্যায়ন বলে।

৪. নির্ণায়ক মূল্যায়ন বা দুর্বলতা সনাক্তকরণ মূল্যায়ন (Diagnostic Assessment):

যে মূল্যায়ন বিশেষ ক্ষেত্রে কোন শিক্ষার্থীর শিখন সমস্যা, ভুল ধারণা সনাক্ত করতে তৈরি করা হয়, তাকে নির্ণায়ক মূল্যায়ন বলে। যেমন: সব বর্ণমালা না চেনা এবং কম শব্দ ভাণ্ডারের কারণে স্বাভাবিক গতিতে লেখায় অসুবিধা হয়। নির্ধারিত শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে এ মূল্যায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

গাঠনিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের কৌশল:

গাঠনিক মূল্যায়নের কৌশল:

এ প্রক্রিয়ার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে ফলাবর্তন (feedback) করা। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়ই ফলাবর্তন লাভ করে এবং তা ব্যবহার করে তাদের শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ঘটাতে পারে। গাঠনিক মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর শিখনে সহায়তা করে বলে আন্তর্জাতিক অনেক শিক্ষাবিদ বা বিশেষজ্ঞ এর নাম দিয়েছেন ‘শিখনের জন্য মূল্যায়ন’ (Assessment for Learning)। সুতরাং গাঠনিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় তা হলো-

(ক) শিক্ষার্থীদের সমস্যা সনাক্ত করা;

(খ) সমস্যা কখন/কোন সময়ে দেখা দিয়েছে;

(ঘ) সমস্যার কারণ সনাক্ত করা এবং

(ঙ) সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় ইত্যাদি।

সুতরাং বহুমুখী কৌশল, পদ্ধতি ও কার্যাবলীর সমন্বয়ে গাঠনিক মূল্যায়ন সংঘটিত হয়। এ কার্যাবলির মধ্যে থাকতে পারে- কুইজ, বিষয়ভিত্তিক মৌখিক ও লিখিত প্রশ্ন, দলীয় কাজ ও উপস্থাপন, জোড়া কাজ, বা ব্যাক্তিগত পঠন, এসাইনমেন্ট ইত্যাদি।

গাঠনিক মূল্যায়নের জন্য  একজন শিক্ষার্থীকে একাকী অথবা দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে, প্রশ্ন করে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখতে দিয়ে অথবা বলতে দিয়ে তার  অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। এজন্য শিক্ষক কী টুলস বা প্রক্রিয়া ব্যবহার করবেন অর্থাৎ কী প্রশ্ন করবেন, কী বলতে দেবেন, কী লিখতে দেবেন অথবা কী কাজ করতে দেবেন সে সম্পর্কে একটি লিখিত পরিকল্পনা তৈরি করে নিতে পারেন। প্রশ্ন করলে তা হতে হবে বুদ্ধিদীপ্ত এবং চিন্তা উদ্রেককারী। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতে হবে। প্রশ্নোত্তর ছাড়াও মিলকরণ, শূন্যস্থান পূরণ, চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি ব্যবহার করেও শিক্ষার্থীর অবস্থান জানা যেতে পারে।

সামষ্টিক মূল্যায়ন:

যখন একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর শিক্ষার্থী কী জানে বা জানেনা তা নিরূপণ করার জন্য যে মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাকে সামষ্টিক মূল্যায়ন বলা হয়। যেমন, বাংলাদেশের বিদ্যালয়ে ১ম ও ২য় সাময়িক (তিন/চার মাস পর পর) এবং বছরের শেষে যে মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণভাবে কোন কোর্স, ইউনিট, অধ্যায়, সেমিস্টার বা টার্মের শেষে এ মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এ থেকে শিক্ষার্থী কোন কোর্স বা পাঠের বিষয়বস্তু কতখানি আয়ত্ব করতে বা শিখতে পেরেছে তা জানা যায়।

 Gipps (1994: p.vii) এর মতে- “Summative assessment takes place at the end of a term or a course and is used to provide information about how much students have learned and how well a course has worked.”

সামষ্টিক মূল্যায়ন কৌশল:

এ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে সাধারণতঃ গ্রেড বা নম্বর প্রদান করা হয় এবং শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যেমন: শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ বা অনুত্তীর্ণ; কিংবা পাশ-ফেল হিসেবে ফলাবর্তন দেয়া হয়। শিক্ষার্থীর শিখন সমস্যা সমাধান বা উন্নয়নের সুযোগ থাকেনা। এ ধরনের মূল্যায়ন একাডেমিক বছরের নির্ধারিত কিছু সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। যেমন, ৩ মাস পর পর, বা একাডেমিক বছরের শেষে।

এ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জ্ঞান বা শিখন পরীক্ষা করা হয় যা তার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্জন করার কথা। শ্রেণীকক্ষ পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোন তথ্য কাজে লাগিয়ে শিক্ষণ বা শিখন প্রক্রিয়ায় কোন পরিবর্তন আনা যায় না। 

এ মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থা এবং মান সম্পর্কে শুধু তথ্য প্রদান করে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিক্ষাবিদগণ এর নাম দিয়েছেন ‘শিখন বা পারদর্শিতার মূল্যায়ন’ অথবা Assessment of Learning । সাধারণতঃ আনুষ্ঠানিক এবং বিশেষ পরিবেশে (যেমন, পরীক্ষার হল) এ ধরনের মূল্যায়ন সংঘটিত হয়। তাই একে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নও (Formal Assessment) বলা হয়।

সামষ্টিক মূল্যায়নের কার্যাবলী ও সময়:

সাধারনতঃ বিভিন্ন অভীক্ষা ও পরীক্ষার মাধ্যমে সামষ্টিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। মূল্যায়নের ফল স্কোর বা গ্রেডের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যেমন, ক, খ, গ, ঘ ইত্যাদি। অর্থাৎ, মূল্যায়নের ফল শিক্ষার্থীকে সাংখ্যিকভাবে শ্রেণীবিভক্ত (যেমন, সিরিয়াল করা; বা রোল নং প্রদান অথবা গ্রেড প্রদান) করা এবং শিক্ষার্থীদের পরস্পরের সাথে তুলনা করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

মূল্যায়নে গাঠনিক এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের ভূমিকা:

এই দুই ধরনের মূল্যায়ন কৌশলের মধ্যে কোন একটি অপরটির চেয়ে অধিক কার্যকর নয়। শিক্ষার্থীদের শিখন সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করার জন্য দুটি পদ্ধতিরই প্রয়োজন রয়েছে (Garrison & Ehringhaus, ২০০৭)। পদ্ধতি দুটিকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। যে কোন একটি ওপর অত্যধিক নির্ভরতা বাস্তব শ্রেণীকক্ষে অনুষ্ঠিত শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণার জন্ম দিবে।

আরও পোস্ট দেখুন:

নৈর্ব্যক্তিক ও কাঠামোবদ্ধ অভীক্ষা প্রনয়ন কৌশল

18Jan2022

Identification, formulation, use and storage of materials

শিখন শেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট উপকরণ সনাক্তকরণ, প্রণয়ন, ব্যবহার এবং সংরক্ষণ

শিখন শেখানো কার্যাবলিতে শত শত শব্দের চেয়ে একটি শিক্ষা উপকরণ বেশি গুরুত্ব বহন করে। একজন দক্ষ শিক্ষক ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের পাঠ উপস্থাপনে পাঠকে সহজ, আকর্ষণীয়, আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ করার জন্য পাঠ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন  শিক্ষোপকরণ ব্যবহার করেন । পাঠে দৃষ্টি নির্ভর, শ্রুতি নির্ভর, ও দর্শন-শ্রবণ নির্ভর উপকরণ ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীর শিখন স্থায়ী, প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী হয় । তাই পাঠভিত্তিক উপকরণ নির্বাচন একান্ত প্রয়োজন। পাঠ ভিত্তিক  বিভিন্ন উপকরণ অতি সহজেই ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যায় । পাঠ ভিত্তিক উপকরণ সনাক্তকরণ, কোন কোন উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহ ও তৈরি করা যায় তার কৌশল এ অধিবেশনে আলোচনা করা হয়েছে।

শিক্ষা উপকরণের প্রকারভেদ

১. দৃষ্টি নির্ভর উপকরণ 

  • বাস্তব উপকরণ : গাছ, পাতা, জাতীয় পতাকা, বই, পেনসিল ইত্যাদি ।
  • মডেল: শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, সেতু, গ্লোব, ফল ইত্যাদি ।
  • চার্ট: জাতীয় প্রতীক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব, মহাদেশ, জনসংখ্যার চার্ট ইত্যাদি ।
  • ছবি: প্রাকৃতিক দৃশ্য, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, বিদ্যালয়, পেশাজীবি মানুষ ইত্যাদি ।
  • মানচিত্র: পৃথিবীর, মহাদেশের, দেশের, জেলার, উপজেলার, ইত্যাদি ।
  • পোস্টার: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, জনসংখ্যা ইত্যাদির পোস্টার ।

২. শ্রুতি নির্ভর উপকরণ : 

রেডিও, ক্যাসেট প্লেয়ার, টেলিফোন ইত্যাদি ।

৩. দর্শন-শ্রবণ নির্ভর উপকরণ:

টিভি, ভিসিআর, ভিসিডি, কম্পিউটার ইত্যাদি।

পাঠভিত্তিক উপকরণের ব্যবহার কৌশল

  • সকলের দৃষ্টিগোচর করে উপকরণ প্রদর্শন করতে হবে
  • প্রথমে বাস্তব ও পরে অর্ধবাস্তব উপকরণ প্রদর্শন করতে হবে
  • যে উপকরণ যখনই প্রয়োজন তখনই প্রদর্শন করতে হবে
  • যে উপকরণ যতক্ষণ প্রয়োজন তা ততক্ষণ প্রদর্শন করতে হবে
  • ক্সশ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর চাহিদার প্রতি লক্ষ রেখে উপকরণ প্রদর্শন করতে হবে
  • উপকরণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করার বিষয়টি  মনে রাখতে হবে
  • শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই উপকরণের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করতে হবে
  • প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠের ক্ষেত্রে উপকরণ ব্যবহারে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে ।

উপকরণ সংরক্ষণ কৌশল

  • শ্রেণি, বিষয় ও পাঠভিত্তিকভাবে আলাদা করে উপকরণ সংরক্ষণ করতে হবে;
  • চার্ট, পোস্টার, মানচিত্র, ছবি উপকরণ ঝুলিয়ে রাখতে হবে;
  • ছোট ছোট জড়বস্তু বা মডেল আলমারিতে রাখত হবে;
  • উপকরণ শুকনো জায়গায় রাখতে হবে;
  • দামি যন্ত্রপাতি প্রধান শিক্ষকের আলমারিতে রাখতে হবে;
  • উইপোকা ও ইঁদুরের উপদ্রবমুক্ত স্থানে উপকরণ রাখতে হবে;
  • মাঝে মাঝে কীটনাশক বা ন্যাপথলিন জাতীয় ঔষধ দিয়ে উপকরণ সংরক্ষণ করতে হবে ।

আরও পোস্ট দেখুন:

আইসিটি ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সনাক্তকরণ, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবহার

18Jan2022

Identification of ICT usable materials, creation and use of digital content

আইসিটি ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সনাক্তকরণ, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবহার

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ । গ্লোবালাইজেশন ধারণায় আইসিটি  (ICT-Information and Communication Technology)  তথ্য প্রবাহে এক গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । আইসিটি (ICT)  বাংলায়  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নামে পরিচিত । বাংলাদেশ সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন (A2I)-প্রকল্প কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ ও ‘শিক্ষকদের দ্বারা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি’ -কর্মসূচি শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা ।বাংলাদেশে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ‘মাল্টিমিডিয়া  ক্লাসরুম’ স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে ।

বাংলাদেশ সরকারের সুদূরপ্রসারী এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সারা দেশে একযোগে শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ( ICT in Education) ব্যবহার  নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায় । ICT শিক্ষা উপকরণ হচ্ছে-কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি মাল্টিমিডিয়া বা ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ যেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে শিখন-শেখানো কার্যক্রমকে সহজ,আনন্দদায়ক, আকর্ষণীয় এবং কার্যকর করা যায় ।

আইসিটি (ICT) ব্যবহারযোগ্য উপকরণ:

  • ল্যাপটপ
  • ডেস্কটপ
  • পেনড্রাইপ
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মডেম
  • ইউএসবি মডেম
  • সাউন্ড বক্স
  • পোটেবল হার্ডডিস্ক
  • সিডি
  • কী বোর্ড
  • প্রিন্টার
  • স্ক্যানার
  • ইউপিএস
  • ওয়েব ক্যামেরা
  • ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি।

শিক্ষামূলক গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট তালিকা:

আরও পোস্ট দেখুন:

মূল্যায়ন: উদ্দেশ্য, প্রকারভেদ ও কৌশল

17Jan2022

Ways to develop students’ social skills

শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নের উপায়সমূহ

শিশুদের সামাজিক দক্ষতা যেমন- মৌখিক যোগাযোগ দক্ষতা, ঐক্যমত্যের পৌঁছানোর জন্য আলাপ আলোচনার দক্ষতা, কার্যকরী শোনার দক্ষতা, অভিব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতাসমূহ অর্জনের জন্য শিক্ষকগণ নিম্নলিখিত উপায় অবলম্বন করতে পারেন। যথা:

ক্লাশ মিটিং (Class Meetings):

সপ্তাহে ১দিন সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে শিক্ষক মিটিং করতে পারেন। সমস্যা সমাধানের জন্য সকলের মতামত নিবেন। সমস্যা সমাধানের উপায়গুলো সকলের সাথে শেয়ার করবে। এর মাধ্যমে শ্রেণীকক্ষ ব্যাবস্থাপনা, শৃংঙ্খলা ও আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

মৌখিক অভিব্যক্তি অনুধাবন করা (Real Facial Expression):

মৌখিক অভিব্যক্তির ছবি শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে যে কোন ১টি পছন্দ করতে বলবেন এর উপর ভিত্তি করে গল্প লিখতে বলবেন গণনা লিখবে। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা মৌখিক অভিব্যক্তি বোঝা ও সহমর্মিতার ধারণা লাভ করবে।

আবেগিক মুকাভিনয় (Emotional charade):

শিক্ষক শিক্ষার্থীর কানে কানে যে কোন ১টি আবেগের নাম বলবেন। শিক্ষার্থী সে অনুযায়ী অভিনয় করে দেখাবে। এটি কোন ধরনের আবেগিক প্রকাশ, অন্যরা তা বুঝে উত্তর দিবে।

সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decision in Democratic way):

যেমন- ভোটের মাধ্যমে, প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষার্থীকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দিয়ে।

অভিনয় (Role Play):

যেমন শ্রেণীকক্ষে শৃংঙ্খলার সাথে কাজের অভ্যাস গঠনের জন্য আপনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।। যেমন: কাজের সময় শ্রেণীকক্ষের অবস্থা কেমন হওয়া উচিৎ তা অভিনয় করে দেখাতে বলা এবং শিক্ষক কর্তৃক ফীডব্যাক প্রদান।

সামাজিক গল্প বলা (Social Stories):

শিক্ষক পাঠ সংশ্লিষ্ট একটি গল্প বলতে বলতে কোন সমস্যামূলক একটি জায়গায় এসে থামবেন। এবার সে সমস্যাটির সমাধান কী হতে পারে বা এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তার উপর লিখতে দেয়া/মতামত নেয়া।

আরও পোস্ট দেখুন:

শিখন শেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট উপকরণ সনাক্তকরণ, প্রণয়ন, ব্যবহার এবং সংরক্ষণ

Ad

error: Content is protected !!