বিজ্ঞান (এসকে) Archives - Proshikkhon

Category "বিজ্ঞান (এসকে)"

19Jul2020

অধ্যায়-০৭: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি

সেশন-৭.২: বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

৫) আমাদের জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে লিখুন।

৬) শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির কীভাবে কাজে লাগে?

৭) প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করুন।

৮) প্রযুক্তির অপব্যবহারের কয়েকটি উদাহরণ দিন।

৫) আমাদের জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে লিখুন।

আধুনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি আমাদের ঘিরে রয়েছে। ঘর হতে অফিস, শিক্ষা, কৃষি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবন ও জীবিকা অর্জনে অবদান রাখছে। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:

শিক্ষা ক্ষেত্রে:

শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বপ্রথম বৈপ্লবিক প্রযুক্তি হলো কাগজ উদ্ভাবন। এরপর ছাপাখানা উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্ঞান বিকাশের অন্যতম সঙ্গী গ্রন্থ প্রকাশের দ্বারা অতি দ্রুত জ্ঞান বিস্তার আরো সহজ হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট উদ্ভাবন জ্ঞান আদান-প্রদানের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে চলেছে। ই-লার্নিং, ইবুক, ই-লাইব্রেরী, ডিজিটাল কনটেন্ট’র ব্যবহার আজ প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিনিয়ত জ্ঞানচর্চার পথ অবারিত করে চলছে।

যাতায়াতের ক্ষেত্রে:

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নৌকা তৈরি করে জলপথে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করত। পরবর্তীতে চাকা উদ্ভাবন হওয়ায় গরুচালিত, ঘোড়াচালিত গাড়িতে করে স্থালপথে মানুষ ও মালামাল পরিবহন সহজ হয়ে ওঠে। স্থলপথে বড় পরিবর্তন আসে স্টিম ইঞ্জিন উদ্ভাবনের পর। রেল ও মোটরগাড়ি মানুষ ও মালামাল পরিবহনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জলপথেও ইঞ্জিনচালিত স্টিমার/জাহাজ অনেক দ্রুত ও সহজে পরিবহনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। সবশেষে আরেকটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে অ্যারোপ্লেন উদ্ভাবনের পর। এরপর মানুষ অনেক কম সময়ে আকাশ পথে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন শুরু করল।

কৃষি ক্ষেত্রে:

কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিনিয়ত আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলছে। যেমন-বর্তমানে ট্রাক্টর, সেচপাম্প, ফসল মাড়াইযন্ত্র ইত্যাদি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি স্বল্প সময়ে অধিক খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করছে। ফলে মানুষ কম পরিশ্রমে স্বল্প সময়ে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারছে। কৃষিতে জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি মানুষকে অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ, পোকামাকড় প্রতিরোধী এবং অধিক ফলনশীল উদ্ভিদ উৎপাদনে সহায়তা করছে। যা তার নিজের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিক্রি করে অর্থ উপার্জনে সাহায্য করে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে:

নতুন নতুন ওষুধ, যন্ত্রপাতি, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, লেজার অপারেশন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও বদল, কৃত্রিম কিডনি, পেস মেকার, রোগ প্রতিরোধক টিকা বা ইনজেকশন ও বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশক। প্রতিনিয়ত চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। যেমন-

. টেলিমেডিসিন প্রযুক্তি: এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে রোগীদের সঙ্গে ডাক্তারদের সংযোগ স্থাপন করে তোলে প্রযুক্তি। চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীদের ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে সমস্যা সমাধান করাতে সময় অপচয় কম হয় বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য টাকা খরচও কম হয়।

২. মোবাইল প্রযুক্তি: চিকিৎসকরা এখন মুহূর্তের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারেন। যেমন- ড্রাগ ইনফরমেশন, গবেষণা সম্বন্ধিত তথ্য, রোগীদের তথ্যের রেকর্ড ইত্যাদি। মোবাইল ডিভাইস প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকরা তাদের যে কোন প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্বের যে কোন স্থানে বহন করে নিয়ে যেতে পারে।

. চিকিৎসা গবেষণা প্রযুক্তি: বিজ্ঞানীরা সেলুলার স্তরে রোগ নির্ণয় এবং রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবায় প্রযুক্তি ম্যালেরিয়া, পোলিও, এম এম আর মতো জীবন বিপন্ন রোগগুলি বিরুদ্ধে টিকা আবিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রান বাঁচায়।

৪. চিকিৎসা প্রযুক্তির সরঞ্জামঃ চিকিৎসা সাজসরঞ্জাম প্রযুক্তি এবং টেলিহেলথ রোবোটিক সার্জারি সৃষ্টি করছে, যেখানে কিছু কেসে সার্জারি চলার সময় চিকিৎসককে রোগীর সঙ্গে অপারেটিং রুমে থাকার প্রয়োজন হবে না। এর পরিবর্তে সার্জন তাদের হোম সার্ভিসের মাধ্যমে নিজ কক্ষ থেকেই রোগীদের নিজস্ব শহরের কাছাকাছি যে কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে কার্যপ্রণালী সম্পাদন করতে পারে।

. দৈনন্দিন জীবন ও বিনোদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি: টিভি, ফ্রিজ, এয়ারকুলার, ভিসিআর, ডিভিডি, সিডি, স্বয়ংক্রিয় দরজা, ডিশ অ্যান্টেনা, লিফট, রিমোট কন্ট্রোল প্রযুক্তির উদ্ভাবন আমাদের জীবনমানকে করেছে অনেক উন্নত। এছাড়াও আমরা প্রতি ক্ষেত্রেই বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকি।

৬) শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির কীভাবে কাজে লাগে?

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টিতে সারাবিশ্বেই  নানাবিধ প্রয়াস পরিলক্ষিত হয। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নাগরিকদেরকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাক্রমে ICT অন্তর্ভূক্ত করেছে। আবার আইসিটি জ্ঞান ব্যবহার করে আকর্ষণীয় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করা যায় ফলে শিক্ষার্থীরা সহজে ও আনন্দের সাথে শিখতে পারে। নিম্নে শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা উল্লেখ করা হলো:

  • ICT ব্যবহার করে আকর্ষণীয় ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ প্রস্তুত করা যায়, যা গতানুগতিক শিক্ষা উপকরণের চেয়ে যথেষ্ট কার্যকর। শিক্ষকগণ ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে সফলভাবে শ্রেণিতে পাঠদান করতে পারেন।
  • ইন্টারনেটের ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্য পুস্তকের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যপী জ্ঞানের সন্ধান করতে পারে।
  • ICT-র সাহায্যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের (যেমনঃ প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক) জন্য বিভিন্ন Computer Assisted Learning (CAL)  Computer Assisted Instruction (CAI) সফটওয়্যার  প্রস্তুত করা যায়। ফলে বিশ্বব্যাপী সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে ICT গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
  • ইবুক তথা ই-লাইব্রেরীর ব্যবহার আজ প্রযুক্তির কল্যাণে অবারিতভাবে জ্ঞান চর্চা করা যায়।
  • ই-লার্নিং বা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে। প্রযুক্তির কল্যাণে শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে; এখন যেকোন মানুষ যেকোন সময় যেকোন স্থান (anyone, anytime, anywhere) থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে। বাংলাদেশে বসেও এখন একজন শিক্ষার্থী চাইলে আমেরিকার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স করতে পারে। এটা সম্ভব হয়েছে ICT-র বহুমূখী সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে। বাস্তবে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে মুখোমুখী না দেখেও বরং ইমেইল, চ্যাটিং, ভিডিও কনফারেন্সিং-এর সাহায্যে পাঠ গ্রহন করতে পারেন।
  • অনলাইনে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন করে সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারে।

৭) প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করুন।

প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব:

প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও উন্নত করার পাশাপাশি নানারকম সমস্যাও সৃষ্টি করছে। যেমন-

  • বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কয়লা পুড়িয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি কিন্তু এর ফলে বায়ু দূষিত হয়। এই বায়ু দূষণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও এসিড বৃষ্টির জন্য অনেকাংশে দায়ী।
  • রাসায়নিক সার ও কীটনাশক অধিক পরিমাণে ব্যবহারের ফলে মাটি ও পানি দূষিত হয় যা জীবের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
  • আধুনিক প্রযুক্তির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রয়োগ হলো যুদ্ধের অস্ত্র তৈরি ও এর ব্যবহার। যেমন-বন্দুক, বোমা, ট্যাংক ইত্যাদি।
  • প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • এছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে।

৮) প্রযুক্তির অপব্যবহারের কয়েকটি উদাহরণ দিন।

প্রযুক্তির অপব্যবহারে কয়েকটি উদাহরণ:

  • আধুনিক প্রযুক্তির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রয়োগ হল যুদ্ধের অস্ত্র নির্মাণ ও এর ব্যবহার।
  • নিয়মিত খেলাধুলা, ব্যায়াম, মুক্তচিন্তার  পথে প্রযুক্তি বাঁধা সৃষ্টি করে।
  • প্রযুক্তির অত্যাধিক ব্যবহার যেমন- ভিডিও গেইম, টেলিভিশন ও কম্পিউটার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • তথ্য বিকৃতি, ব্যক্তিগতভাবে সমাজের কোনো মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা, প্রতিকৃতির ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপন ইত্যাদি বিষয় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া।
  • ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও ছবি চুরি করে ব্ল্যাকমেল করা।
  • অপরাধী চক্র তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার জন্য ইন্টারনেটকে গোপনীয় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা।
19Jul2020

অধ্যায়-০৭: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি

সেশন-৭.১: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কী? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করুন।

) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্য বিজ্ঞানীরা কী কী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ধাপ অনুসরণ করে? ধাপসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করুন।

৩) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

৪) প্রযুক্তি কীভাবে বিজ্ঞানের জ্ঞানকে ব্যবহার করে?

১) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কী? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করুন।

বিজ্ঞান:

বিজ্ঞান হল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত বা পরীক্ষালব্ধ তথ্যপ্রমাণ দ্বারা সমর্থিত জ্ঞান যার মাধ্যমে প্রকৃতি

ও প্রকৃতিতে ঘটা ঘটনাবলীকে ব্যাখ্যা করা যায়। আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণা অনুযায়ী, বিজ্ঞান হচ্ছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক ও প্রামাণ্য পদ্ধতি বা পদ্ধতি সমষ্টি, যা এই মহাবিশ্বের ও প্রকৃতির নিয়মাবলী, নীতিমালা ইত্যাদি অনুসন্ধান করে, উদ্ঘাটন করে, আবিষ্কার করে। প্রকৃতি ও মহাবিশ্ব কিভাবে কাজ করে, কিভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচালিত হয়, সে নিয়মগুলো প্রামাণ্য উপায়ে উদ্ঘাটন করে মানুষের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়াই বিজ্ঞান।

প্রযুক্তি:

প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞানের ব্যবহারিক রূপ। বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্যকে কাজে লাগিয়ে মানুষের নানাবিধ প্রয়োজন মেটানোর জন্য উদ্ভাবিত বিভিন্ন যন্ত্র, উপকরণ এবং ব্যবস্থাই হল প্রযুক্তি। মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে কিংবা জীবনকে সহজতর করার জন্য বিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবিত সকল সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও তারা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এগুলোর একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির উন্নয়ন বা অগ্রগতি সম্ভব নয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেমন বিজ্ঞানের নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করা সম্ভব, ঠিক তেমনি নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের জন্যও দরকার বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের প্রয়োগ ও ব্যবহার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি পথচলাই আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তুলেছে। প্রযুক্তি ছাড়া যেমন বিজ্ঞানকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি বিজ্ঞান ছাড়া প্রযুক্তির উদ্ভাবনও সম্ভব নয়।

তাই বলা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরস্পরের পরিপূরক।

২) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্য বিজ্ঞানীরা কী কী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ধাপ অনুসরণ করে? ধাপসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করুন।

চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতিক ঘটনা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে কৌতুহল বোধ করি। প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। যার মধ্যে নিম্নোক্ত ধাপসমূহ রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ৬টি ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো হলো:

১. পর্যবেক্ষণ, ২. প্রশ্নকরণ, ৩. অনুমান, ৪. পরীক্ষণ, ৫. সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ৬. বিনিময়।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধাপসমূহের ব্যাখ্যা:

ধাপসমূহ ধাপসমূহের ব্যাখ্যা
পর্যবেক্ষণ আমাদের চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার মধ্য দিয়ে আমরা প্রাকৃতিক ঘটনা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে কৌতুহল বোধ করি।
প্রশ্নকরণ যখন আমরা কোনো কিছু দেখি, শুনি বা পড়ি আমাদের মনে এ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন আসতে পারে। এ সকল প্রশ্ন থেকে এমন একটি প্রশ্ন বেছে নেই যার উত্তর পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব।
অনুমান পূর্ব অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে প্রশ্নটির সম্ভাব্য উত্তর ঠিক করি এবং খাতায় লিখি। এটিই অনুমান।
পরীক্ষণ অনুমানটি সঠিক কি না তা যাচাই করার জন্য একটি পরীক্ষার পরিকল্পনা করি। পরীক্ষাটি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করি। পরীক্ষাটি সম্পাদন করি। তথ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফলাফল লিপিবদ্ধ করি।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করি এবং ফলাফলের সারসংক্ষেপ করি। ফলাফলটি অনুমানের সাথে মিলেছে কিনা তা যাচাই করি।
বিনিময় প্রাপ্ত ফলাফল ও সিদ্ধান্ত অন্যের সাথে বিনিময় করি।

৩) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য:

বিজ্ঞান প্রযুক্তি
১. বিজ্ঞান হলো প্রযুক্তি-সম্পর্কিত জ্ঞান। বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ঘটনাকে ব্যাখ্যা এবং বর্ণনা করে। ১. প্রযুক্তি হলো আমাদের জীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধানের জন্য বিজ্ঞানের জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ।
২. প্রযুক্তিকে তৈরিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ করা হয়। যেমন- বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করে এ সম্পর্কে আমাদের ধারণা বা জ্ঞান সৃষ্টি করেছেন। ২. বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে আমাদের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন- রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন এবং বৈদ্যুতিক বাতি উদ্ভাবনে কাজে লাগানো হয়।
৩. বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞান বিরাট ভুমিকা রাখছে। কারণ প্রকৃতি সম্পর্কে জানলে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করা সহজ হয়ে যায়। ৩. প্রাচীনকালে প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে বিজ্ঞানের তেমন জ্ঞান অর্জন না করেই। যেমন- মানুষ দেখেছে পাথরকে ঘষলে তা ধারালো হয়, সেটি দিয়ে কোনো কিছু কাটা যায়। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের জ্ঞান দরকার হয়নি।

৪) প্রযুক্তি কীভাবে বিজ্ঞানের জ্ঞানকে ব্যবহার করে?

প্রযুক্তি বিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন পণ্য, যন্ত্রপাতি এবং পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। যেমন- বিজ্ঞানীরা বিদ্যুৎ, মহাকাশ, সমুদ্র ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে এ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সৃষ্টি করেন।  এই বৈজ্ঞানিক জ্ঞাননির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, ইন্টারনেট ইত্যাদি যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে।

15Jul2020

অধ্যায়-০৬: আমাদের মহাবিশ্ব, আবহাওয়া এবং জলবায়ু

সেশন-৬.৩: আমাদের বাসভূমি পৃথিবী

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

৮) পৃথিবী পৃষ্ঠের গঠন বর্ণনা করুন। পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান ও সময় নির্ণয় করুন।

৯)  পৃথিবীর আহ্নিক গতি কাকে বলে?  আহ্নিক গতির ফলাফল সম্পর্কে লিখুন।

১০) পৃথিবীর বার্ষিক গতি কাকে বলে? বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীর কী হয়?

১১) “ লাটিমের মতো পৃথিবীর দুই ধরনের ঘূর্ণন রয়েছে” – এর পক্ষে আপনার যুক্তি লিখুন।

১২) পৃথিবীতে দিন-রাত কীভাবে সংঘটিত হয়,তা একটি পরীক্ষার সাহায্যে বর্ণনা করুন।

৮) পৃথিবী পৃষ্ঠের গঠন বর্ণনা করুন। পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান ও সময় নির্ণয় করুন।

পৃথিবী পৃষ্ঠের গঠনঃ

সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে একটি গ্রহ হচ্ছে পৃথিবী। পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গ্রহের গঠন বর্ণনা থেকে আমরা জানি গ্রহসমূহ সাধারণত গোলকাকৃতির। কিন্তু পৃথিবী পুরোপুরি গোলাকার নয়, কমলালেবুর মতো উত্তর-দক্ষিণ দিকে কিছুটা চাপা। পৃথিবীপৃষ্ঠের চারভাগের তিনভাগ তরল পানি দিয়ে আবৃত এবং একে ঘিরে রয়েছে গ্যাসীয় বায়ুমণ্ডল। পৃথিবী তার মধ্যাকর্ষণ বলের মাধ্যমে তার পৃষ্ঠের সব কিছুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টেনে ধরে-এর ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠে অবস্থানকারী কোনো কিছুই পৃষ্ঠ থেকে ছিটকে পড়ে না।

পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান ও সময় নির্ণয়:

পৃথিবীর উপর অনেকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়েছে। পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভূকেন্দ্রকে ছেদ করে সরাসরি উত্তর দক্ষিণে যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে অক্ষ বা মেরুরেখা বলে। অক্ষের উত্তর প্রান্তবিন্দুকে উত্তরমেরু বা সুমেরু ও দক্ষিণ প্রান্তবিন্দুকে দক্ষিণমেরু বা কুমেরু বলে। দুই মেরু থেকে সমান দূরে পৃথিবীর উপর পূর্ব পশ্চিমে যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। এই রেখা পৃথিবীকে পূর্ব- পশ্চিমে পূর্ণবৃত্তরূপে বেষ্টন করে আছে। নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে দুইটি সমানভাগে ভাগ করেছে। উত্তরভাগের নাম উত্তরগোলার্ধ এবং দক্ষিণভাগের নাম দক্ষিণ গোলার্ধ। নিরক্ষরেখার সমান্তরালে নিরক্ষরেখার উত্তরে ও দক্ষিণে অনেকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়েছে এগুলোকে সমাক্ষরেখা বা অক্ষরেখা বলে। নিরক্ষরেখা হতে উত্তরে বা দক্ষিণে কোন স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে। নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ ০◦ । গড়ে এক  ডিগ্রী অক্ষাংশের রৈখিক ব্যবধান ১১১ কিলোমিটার।

বিষুবরেখা থেকে ২৩.৫◦ উত্তর অক্ষাংশকে কর্কটক্রান্তিরেখা ও ২৩.৫◦ দক্ষিণ অক্ষাংশকে মকরক্রান্তিরেখা বলে। আবার বিষুবরেখা থেকে ৬৬.৫◦ উত্তর এবং ৬৬.৫◦ দক্ষিণ সমাক্ষরেখাদ্বয়কে যথাক্রমে সুমেরুবৃত্ত এবং কুমেরুবৃত্ত বলা হয়। সমাক্ষরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোন স্থানের অবস্থান জানার জন্য পৃথিবীর দুই মেরুকে সংযুক্ত করে উত্তর-দক্ষিণে প্রসারিত অনেকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়েছে এগুলোকে দ্রাঘিমারেখা বা মধ্যরেখা বলে। মধ্যরেখাগুলো একে অন্যের সমান কিন্তু সমান্তরাল নয়। লন্ডনের উপকণ্ঠে গ্রীনিচ শহরে জ্যোতিবিদ্যা সংক্রান্ত মানমন্দিরের উপর দিয়ে যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূলমধ্যরেখা বলা হয়। মূলমধ্যরেখার মান ০◦। এই মূলমধ্যরেখা হতে পূর্ব বা পশ্চিমে কোন স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সে স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়। আমরা জানি, পৃথিবী ৩৬০◦ ঘোরে ২৪ ঘণ্টায়। সুতরাং পৃথিবী প্রতি ঘণ্টায় ১৫◦ ও প্রতি ৪ মিনিটে ১◦ পথ অতিক্রম করে। এভাবে,পৃথিবীপৃষ্ঠে কোন স্থানের অবস্থান ও সময় নির্ণয় করা যায়।

৯)  পৃথিবীর আহ্নিক গতি কাকে বলে?  আহ্নিক গতির ফলাফল সম্পর্কে লিখুন।

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:

পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা সময়ে অনবরত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এই সময়কে সৌরদিন এবং আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়। আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো- পৃথিবীর আবর্তন এবং পৃথিবীর আকৃতি। পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার হলেও উভয় মেরুতে কিছুটা চাপা ও নিরক্ষরেখা বরাবর কিছুটা স্ফীত। নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা অধিক হওয়ায় এই অঞ্চলে আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা অধিক। এই গতিবেগ ক্রমশ কমতে কমতে দুই মেরুর নিকটবর্তী স্থানে প্রায় স্তিমিত হয়ে যায়।

আহ্নিক গতির ফলাফল:

  • দিন-রাত্রি সংঘটনঃ পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তনের জন্য আহ্নিক গতি বা দিবা-রাত্রি সংঘটিত হয়। আবর্তনরত পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে সি অংশ আলোকিত হয় অর্থাৎ সেই অংশে দিন এবং অপর অংশে অন্ধকারাচ্ছন্ন বা রাত থাকে।
  • জোয়ার-ভাটাঃ নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আহ্নিক গতির জন্য সমুদ্রে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
  • বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টিঃ আহ্নিক গতির কারণে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

১০) পৃথিবীর বার্ষিক গতি কাকে বলে? বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীর কী হয়?

পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করার পাশাপাশি পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ও নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড একবার আবর্তন করে। পৃথিবীর এইরূপ আবর্তনকে বার্ষিক গতি বলে।

বার্ষিক গতির ফলাফল: বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীতে দিন-রাতের হ্রাস বৃদ্ধি এবং ঋতু পরিবর্তন হয়।

১১) “ লাটিমের মতো পৃথিবীর দুই ধরনের ঘূর্ণন রয়েছে” – এর পক্ষে আপনার যুক্তি লিখুন।

সকালে সূর্য পূর্ব দিকে উঠে,সন্ধ্যা বেলায় পশ্চিম দিগন্তে ডুবে যায়। পরদিন সকালে সূর্য আবার পূর্বদিক থেকে উঠছে। এ থেকে মনে হয় সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঘুরছে। আগের দিনে মানুষরা তাই ধারণা করতো যে পৃথিবী স্থির এবং সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে। প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপরও আবর্তন করে বা পাক খায়। এখন প্রশ্ন হলো লাটিম কীভাবে ঘোরে? লাটিমের সরু আলের উপর দাঁড়িয়ে নিজে নিজে ঘোরে। একই সাথে মাটির উপর বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে এক স্থান থেকে অন্য স্থান হয়ে ঘুরে আসে। এভাবে লাটিমটির দু’ধরনের গতি রয়েছে। একটি হলো নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করে। আরেকটি হলো মাটির উপর দিয়ে ঘুরে আসা। লাটিমের মতো পৃথিবীর দুই ধরনের ঘূর্ণন রয়েছে। একটি হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে, এটি পৃথিবীর আহ্নিক গতি। দ্বিতীয়টি হলো পৃথিবী নিজ অক্ষে অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট উপ-বৃত্তাকার কক্ষপথে, নির্দিষ্ট দিকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ করছে, এটি পৃথিবীর বার্ষিক গতি। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে পৃথিবী ও লাটিমের ঘূর্ণন প্রক্রিয়া একই রকম। সুতরাং “লাটিমের মতো পৃথিবীর দুই ধরনের ঘূর্ণন রয়েছে”- কথাটি যুক্তিযুক্ত।

১২) পৃথিবীতে দিন-রাত কীভাবে সংঘটিত হয়,তা একটি পরীক্ষার সাহায্যে বর্ণনা করুন।

আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবীতে দিন-রাত সংঘটির হয়। এ গতির ফলে পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে থাকে সে অংশে আলোকিত বা দিন হয় এবং অন্যান্য অংশ অন্ধকার থাকে বা রাত হয়। পৃথিবীতে কীভাবে দিন-রাত সংঘটিত হচ্ছে তা নিম্নের পরীক্ষার মাধ্যমে দেখানো হলো-

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ

  • একটি গ্লোব,
  • একটি মোমবাতি/টর্চ/ কুপিবাত,
  • অন্ধকার কক্ষ।

পরীক্ষাঃ

প্রথমে গ্লোবটিকে ভালোভাবে লক্ষ করি। এর মাঝ বরাবর একটি শলাকা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে গেছে। এটিকে পৃথিবীর অক্ষরেখা হিসেবে কল্পনা করি, যাকে কেন্দ্র করে পৃথিবী আবর্তন করে। একটি টেবিল বা সমতল মেঝের উপর বাতিটি জ্বালিয়ে রাখব। এবার একটু দূরে ভূ-গোলকটিকে রাখি। কক্ষটির আলো নিভিয়ে দিই বা দরজা-জালানা বন্ধ করে ঘরটি অন্ধকার করি। বাটিকে সূর্য এবং ভূ-গোলকটিকে পৃথিবী হিসেবে বিবেচনা করি। এবার ভূ-গোলকটির দিকে তাকাই। লক্ষ করি নিশ্চয়ি ভূ-গোলকটির অর্ধেক অংশ আলোকিত আত অন্য অর্ধেক অন্ধকারাচ্ছন্ন। এবার ভূ-গোলকটি আস্তে আস্তে ঘোরাই । দেখা যাচ্ছে অন্ধকার অংশে আস্তে আস্তে আলোকিত হচ্ছে এবং আলোকিত অংশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হচ্ছে। কিন্তু সবসময় ভূ-গোলকটির অর্ধেক অংশ আলো পাচ্ছে এবং বাকি অর্ধেক অংশ আলো পাচ্ছে না। এভাবে পৃথিবীর এক অর্ধেকাংশে দিন এবং বাকি অর্ধেক অংশে রাত চলতে থাকে।

ভূ-গোলকটির একটি নির্দিষ্ট স্থান বাতিটির সামনে রাখে ধীরে ধীরে একদিকে ঘোরাতে থাকলে ঐ আলোকিত সংশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হতে হতে একসময় পুরোপুরি অন্ধকার (রাত) হয়ে যাবে। একই দিকে আরো ঘোরাতে থাকলে আবার ঐ নির্দিষ্ট স্থানটি আলোকিত হতে শুরু করে এবং একসময় পুরোপুরি আলোকিত হয়ে যায়। অর্থাৎ ঐ স্থানে আবার দিন ফিরে আসে।

এ পরীক্ষাটিতে যেভাবে দেখা গেল সেভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষে আবর্তন করে, ফলে আমরা দিন,তারপর রাত ; আবার দিন, আবার রাত; আবার দিন এ রকম পরিবর্তন হতে দেখি। সুতরাং পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে দিন-রাত পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ এভাবেই পৃথিবীতে দিন-রাত সংঘটিত হয়।

15Jul2020

অধ্যায়-০৬: আমাদের মহাবিশ্ব, আবহাওয়া এবং জলবায়ু

সেশন-৬.২: সূর্য ও সৌরজগত

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

৪) সৌরজগত কাকে বলে? সৌরজগতে গ্রহ, উপগ্রহ, ধুমকেতু, উল্কা ছাড়াও আর কী কী জ্যোতিষ্ক রয়েছে?

৫) গ্রহ ও উপগ্রহের বর্ণনা দিন। গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।

৬) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।

৭) নক্ষত্র থেকে কীভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়ে গ্রহ ও উপগ্রহে পৌঁছায়?

৪) সৌরজগত কাকে বলে? সৌরজগতে গ্রহ, উপগ্রহ, ধুমকেতু, উল্কা ছাড়াও আর কী কী জ্যোতিষ্ক রয়েছে?

সৌরজগতঃ

মহাকাশের অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে বিশ্বজগৎ বলে। সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।সংক্ষেপে সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগত বলে। মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট গতিতে, নির্দিষ্ট দুরত্বে, একই সমতলে একইদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূর্ণনরত সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে সৌরজগত গঠিত হয়েছে। সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ রয়েছে। যথাঃ বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

সৌরজগতের অন্যান্য জ্যোতিষ্কঃ সৌরজগতে সূর্য, গ্রহ ও উপগ্রহ ছাড়াও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক রয়েছে। যেমন- ধুমকেতু, উল্কা ও গ্রহাণু। সূর্যকে কেন্দ্র করে এরা স্বাধীনভাবে ঘুরছে। নিম্নে এদের সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

  • গ্রহের চেয়ে আকারে বেশ ছোট কঠিন শিলাময় বা ধাতব বস্তু- যাদের না গ্রহাণু। এদেরকে কখনো কখনো ক্ষুদ্র গ্রহও বলা হয়।
  • ধুমকেতুসমূহও সৌরজগতের অংশ। এরা এমন ধরনের কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি যারা তাপ পেলে সহজেই গ্যাসে পরিণত হতে পারে। যখন ধুমকেতুসমূহ সূর্যের কাছাকাছি যায় তখন সূর্যের তাপে গ্যাসীয় ও কঠিন পদার্থ নির্গত হয়ে আকাশে ছড়িয়ে যায়, যেটি ঝাঁটার মতো দর্শনীয় লেজে পরিণত হয়। পৃথিবী থেকে এদেরকে কখনো কখনো দেখা যায়। কোনো কোনো ধূমকেতু অনেক বছর পর পর পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান হয়। যেমন –হ্যালির ধূমকেতু গড়ে ৭৬ বছর পরপর পৃথিবী থেকে দেখা যায়। এটি ১৯১১ সাথে এবং ১৯৮৬ সালে দেখা গেছে। আবার ২০৬২ সাথে দেখা যাওয়ার কথা।
  • সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান জ্যোতিষ্কসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলো উল্কাপিণ্ড। এ ক্ষুদ্র কঠিন পিণ্ড যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায় তখন বায়ুর সংস্পর্শে এসে পুড়ে যায়। এ জন্য রাতের আকাশে অগ্নিগোলক ছুটে যেতে বা পড়ে যেতে দেখা যায়। কখনো কখনো বড় উল্কাপিণ্ড আধপোড়া অবস্থায় পৃথিবীপৃষ্ঠে পড়ে বড় গর্তের সৃষ্টি করে।

৫) গ্রহ ও উপগ্রহের বর্ণনা দিন। গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।

গ্রহঃ

গ্রহ বলতে জ্যোতির্বিজ্ঞানে মহাবিশ্বের এমন যেকোন বস্তুকে বোঝানো হয় যার কেবলমাত্র নিজের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে গোলাকার রূপ ধারণ করার ক্ষমতা আছে, যার ভর তাপ-নিউক্লীয় বিক্রিয়া শুরু করে সূর্যের মত শক্তি উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নির্গত করে না। সূর্যকে কেন্দ্র করে ৮টি গ্রহ- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন স্বাধীনভাবে ঘুরছে। পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ্বল দেখালেও এগুলো মূলত সূর্যের আলোতে আলোকিত। পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা রূপে এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায় সেটি মূলত শুক্র গ্রহ।  গ্রহগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উপগ্রহঃ

উপগ্রহ হচ্ছে এমন একটি বস্তু যা তার নিজস্ব কক্ষপথে পৃথিবী বা অন্য কোন গ্রহের চারদিকে ঘুরে। কোনো গ্রহের তুলনায় তার উপগ্রহ আকারে ও ভরে বেশ ছোট, তাই উপগ্রহ গ্রহের টানে তাকে কেন্দ্র করে ঘোরে। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ। এটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এদের নিজস্ব কোন আলো নেই, সূর্যের আলো দ্বারা এরা আলোকিত হয়। সূর্যের আলো চাঁদের পৃষ্টে পড়ে প্রতিফলিত হয় বলে আমরা চাঁদকে আলোকিত দেখি। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলের পৃথিবীর চারপাশে মানুষ প্রেরিত ২৫০০-এর বেশি উপগ্রহ ঘুরছে। এদেরকে কৃত্রিম উপগ্রহ বলা হয়। এ উপগ্রহ গুলো বেতার ও টেলিযোগাযোগ, আবহাওয়া এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করা হয়। পৃথিবীর মতো অন্যান্য গ্রহেরও প্রাকৃতিক উপগ্রহ রয়েছে। মঙ্গলের ২টি, বৃহস্পতির ১৬টি, শনির ১৭টি, ইউরেনাসের ৪টি এবং নেপচুনের ১টি উপগ্রহ রয়েছে।

গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো:

গ্রহ উপগ্রহ
১. যে সকল জ্যোতিষ্কের তাপ ও আলো নেই এবং মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তাদেরকে গ্রহ বলে। যেমন: পৃথিবী একটি গ্রহ। পৃথিবী একটি গ্রহ যা নক্ষত্র সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। ১. আকাশে যেসব বস্তু গ্রহের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, তারা হলো উপগ্রহ। পৃথিবী একটা গ্রহ। এ পৃথিবীকে ঘিরে যদি কেউ ঘোরে তাহলে সে পৃথিবীর উপগ্রহ। যেমন: চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায়। সেজন্য চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ।
২. গ্রহ উপগ্রহের চেয়ে বড় হয়। ২. উপগ্রহ গ্রহের চেয়ে ছোট হয়।

৬) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।

গ্রহ নক্ষত্র
১. যে সকল জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তাদেরকে গ্রহ বলে। ১, যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদেরকে নক্ষত্র বলে।
২. গ্রহের নিজস্ব কোন আলো বা তাপ নেই। ২. নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও তাপ আছে।
৩. গ্রহ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান। ৩. নক্ষত্র ছায়াপথে নিজ অক্ষে ঘূর্ণায়মান।
৪. গ্রহ নক্ষত্রের চেয়ে ছোট ৪. নক্ষত্র গ্রহ অপেক্ষা অনেক বড়
৫. গ্রহে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হয় না। ৫. নক্ষত্রে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।

৭) নক্ষত্র থেকে কীভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়ে গ্রহ ও উপগ্রহে পৌঁছায়?

মহাবিশ্বের একেকটি ছায়াপথের মধ্যে কোটি কোটি নক্ষত্র রয়েছে। আমাদের মিক্লিওয়ে ছায়াপথে ২০০ বিলিয়নের বেশি নক্ষত্র রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সূর্য। সূর্যের মতো সকল নক্ষত্রেরই নিজস্ব আলো আছে। নক্ষত্রগুলো আসলে গ্যাসের পিণ্ড। একটি নক্ষত্রে হাইড্রোজেনসহ অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্র হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে। এ গ্যাসসমূহ নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ ও আলোকশক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন তাপ ও আলোকশক্তি মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে  এবং তা নিকটবর্তী গ্রহ বা উপগ্রহে গিয়ে পৌঁছায়।

11Jul2020

অধ্যায়-০৬: আমাদের মহাবিশ্ব, আবহাওয়া এবং জলবায়ু

সেশন-৬.১: মহাবিশ্বের বিস্তৃতি

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

১) আকাশ , জ্যোতিষ্ক, ছায়াপথ কাকে বলে।

২) নক্ষত্র-এর বর্ণনা দিন। ‘সূর্য একটি নক্ষত্র’ কথাটি মূল্যায়ন করুন।

৩) মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে লিখুন।

১) আকাশ , জ্যোতিষ্ক, ছায়াপথ কাকে বলে।

আকাশঃ

আকাশ হলো আমাদের বাসগৃহ- পৃথিবীকে চারদিক থেকে ঢেকে রাখা বায়ুর আবরণ। দিনের বেলায় সূর্যের আলো এই বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করার সময় বায়ুর আবরণটি নীল রঙ ধারণ করে যাকে আমরা পৃথিবী নামক গ্রহের আকাশ বলি।

জ্যোতিষ্কঃ

সূর্য , চাঁদ এবং অন্যান্য যেসব আলোকিত বিন্দু রাতের আকাশের গায়ে দেখা যায় তাদের সাধারণভাবে জ্যোতিষ্ক বলে। খালিচোখে প্রায় ৬০০০ জ্যোতিষ্ক দেখা যায়। দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে আরো হাজার হাজার  জ্যোতিষ্ক দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবী মহাকাশে এমনই একটি জ্যোতিষ্ক।

ছায়াপথ/ গ্যালাক্সিঃ 

আমরা পৃথিবী নামক একটি গ্রহে বাস করছি। আমাদের পৃথিবী, আরও ৭ টি গ্রহ ও তাদের শতাধিক উপগ্রহ, সূর্য নামক নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এই ৮ টি গ্রহ ,উপগ্রহসমূহ ও সূর্যকে নিয়েই সৌরজগৎ। কতগুলো গ্রহ-উপগ্রহ ও সূর্যকে নিয়ে যেমন একটি নক্ষত্রব্যবস্থা বা সৌরজগৎ গঠিত হয়, তেমনি এরকম অসংখ্য নক্ষত্রব্যবস্থা নিয়ে গঠিত হয় একটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি। সূর্য যেমন পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের আবাসস্থল ঠিক তেমনি গ্যালাক্সিগুলো হল নক্ষত্রদের আবাসস্থল। একটি গ্যালাক্সিতে কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যাস, ধূলিকণা ইত্যাদি মহাকর্ষ বলের সাহায্যে একে অন্যের কাছাকাছি থাকে। ছায়াপথগুলো বিভিন্ন আকার ও আকৃতির হয়ে থাকে।

২) নক্ষত্র-এর বর্ণনা দিন। ‘সূর্য একটি নক্ষত্র’ কথাটি মূল্যায়ন করুন।

নক্ষত্রঃ

যে সব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। মহাবিশ্বে একেকটি ছায়াপথের মধ্যে কোটি কোটি নক্ষত্র রয়েছে। নক্ষত্র আসলে গ্যাসের পিণ্ড। একটি নক্ষত্রে হাইড্রোজেন্সহ অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্র হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে। এ গ্যাসসমূহ নিউক্লিয়ার ফিউশন বা সংশ্লেষ বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপ ও আলোকশক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন তাপ ও আলোকশক্তি মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিকটবর্তী গ্রহ বা উপগ্রহে গিয়ে পৌঁছায়। যেমন- সূর্যের দুইটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস সংযুক্ত হয়ে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। যেমন- সূর্য, ধ্রুবতারা ইত্যাদি।

সূর্য একটি নক্ষত্রঃ

সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু ইত্যাদি জ্যোতিষ্ক। সূর্য এবং একে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান সকল জ্যোতিষ্ক ও ফাঁকা জায়গা নিয়ে সৌরজগত গঠিত। সূর্যকে সৌরজগতের কেন্দ্র বলা হয়। সূর্য মূলত একটি গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসের পিণ্ডে হাইড্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের সাহায্যে একত্র হয়ে থাকে। হাইড্রোজেন গ্যাস পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত  হয়ে হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। এ শক্তি তাপ ও আলোকশক্তি হিসেবে সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই সূর্যের কাছ থেকে আমরা তাপ ও আলো পেয়ে থাকি। সূর্য ও নক্ষত্রের গঠন ধর্ম একই। সুতরাং সূর্য একটি নক্ষত্র।

৩) মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে লিখুন।

পৃথিবীতে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি বিষয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব ও কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। যেমন প্রাচীন চীনের রূপ কথায় বলা হয় যে, একটি কসমিক ডিম থেকে প্রথমে একটি দৈত জন্ম নেয়। সেই দৈত্যের অঙ্গ-প্রতঙ্গ থেকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। আবার কোনো কোনো ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে যে, সৃষ্টিকর্তা ছয় দিনে এ মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন। তবে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ ব্যবহার করে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন।

 মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশস্নগক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে তার মধ্যে বহুল প্রচলিত তত্ত্ব হলো ‘বিগব্যাংতত্ত্ব’। বিজ্ঞানীদের ধারণা প্রায় ১০ থেকে ১৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে ছোট অথচ ভীষণ ভারী ও গরম একটি বস্তুপিণ্ড বিস্ফোরিত হয়ে সকল দিকে বিস্তৃত হতে শুরু করে। এ বিস্ফোরণকে মহাবিস্ফোরণ বা বিগব্যাংতত্ত্ব বলা হয়। মহাবিস্ফোরণের পর অতি ক্ষুদ্র পদার্থ কণা প্রথমে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়। তারপর ছোট ছোট কণাগুলো কিছুটা ঠাণ্ডা ও একত্রিত হয়ে জ্যোতিষ্কে পরিণত হয়। এভাবে সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র সৃষ্টি হয় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছে।

মহাবিশ্বের সকল শক্তি, পদার্থ, মহাকাশ সব কিছু এ বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হয় সূর্য যখন সৃষ্টি হয় তখন তার কিছু থেকে যাওয়া অংশ মহাকাশে ধুলিকণার মতো ভেসে বেড়িয়েছে। তারপর প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর পূর্বে এ ধূলিকণা একত্রিত হয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে।

1Jul2020

অধ্যায়-০৫: প্রাকৃতিক সম্পদ

সেশন-৫.১: প্রাকৃতিক সম্পদ

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

১) প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?  বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ্গুলো বর্ণনা সহকারে লিখুন।

২) 3R কৌশল ব্যবহার করে কিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা যায়?

৩) প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের উপর জনসংখ্যার প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করুন।

৪) জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে বিজ্ঞান শিক্ষার ভূমিকা আলোচনা করুন।

১) প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?  বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ্গুলো বর্ণনা সহকারে লিখুন।

প্রাকৃতিক সম্পদঃ

সাধারণত প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে প্রকৃতি থেকে প্রদত্ত সকল সম্পদকে বুঝানো হয়। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, মৃত্তিকা, নদ-নদী, কৃষিজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ, বনজ সম্পদ, বজন সম্পদ, প্রাণী সম্পদ এবং সৌরশক্তি প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদের অন্তর্ভূক্ত। এই সম্পদ মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না। তবে মানুষ আহরণ এবং ব্যবহার করতে পারে।  দেশের উন্নয়নে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদ পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদঃ

বাংলাদেশ আয়তনের বিবেচনায় পৃথিবীর ছোট একটি দেশ। এর প্রাকৃতিক সম্পদও কম। বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ্গুলো হলো পানিসম্পদ, ভূমিসম্পদ, বনজসম্পদ, সৌরশক্তি, বায়ুসম্পদ ও খনিজসম্পদ।

পানি সম্পদঃ

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পানি ব্যবহার করে থাকি। যেমন- আমরা পানি পান করি, গোসল ও গৃহস্থালী কাজে আমরা পানি ব্যবহার করি, কৃষিকাজেও অয়ানি অপরিহার্য। ছোট-বড় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় প্রচুর পানি ব্যবহার করা হয়। পানিপ্রবাহ ব্যবহার করে জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। নদী ও সমুদ্রের পানির উপর নির্ভর করে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও পানিতে মাছসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ বেঁচে থাকে । ব্যাপক ব্যবহারের জন্য পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ  প্রাকৃতিক সম্পদ।

ভূমিসম্পদঃ

ভূমি/মাটি বাংলাদেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। এদেশের সমতল ভূমি খুবই উর্বর। মাটিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপন্ন করে থাকি। বেশির ভাগ এলাকায় বছরে তিনটি ফসল উৎপন্ন হয়। মাটি মানুষসহ অন্যান্য সকল জীবের আবাসস্থল।

খনিজসম্পদঃ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর মধ্যে খনিজ সম্পদ অন্যতম। উল্লেখযোগ্য খনিজ দ্রব্যগুলো হলো- প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, খনিজ তেল, চুনাপাথর, চীনা মাটি, কঠিন শিলা, সিলিকা বালি, তামা, ইউরেনিয়াম, গন্ধক ও লবণ ইত্যাদি। প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও পেট্টোলিয়াম জ্বালানী হিসেবে বেশ ভালো। এগুলো পুড়িয়ে যে তাপ পাওয়া যায় তাতে কলকারখানা চলে, যানবাহন চলে, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, এবং রান্না করা হয়। বাংলাদেশে চুনাপাথর মোটামুটি পরিমাণে পাওয়া যায়। চুনাপাথর সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

বনজসম্পদঃ 

সাধারণত যে সকল ভূমিতে ছোট, মাঝারি ও বড় ইত্যাদি অসংখ্য বৃক্ষের সমাবেশ ঘটে তাকে বনভূমি বলা হয়। আবার বনভূমি থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে বনজ সম্পদ বলা হয়। কোনো একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে আমাদের দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ১৭.০৮%। বাংলাদেশের বনজ সম্পদ দেশের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার সাথে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বায়ুসম্পদঃ

বায়ু সম্পদ বলতে মূলত বায়ু প্রবাহকেই বুঝায়। বায়ু প্রবাহকে ব্যবহার করে বড় চরকা বা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে গ্রামে ফসল ঝেড়ে ময়লা দূর করা হয়।

সৌর শক্তিঃ

সৌরশক্তি আরেকটি প্রাকৃতিক সম্পদ। বায়ুমন্ডলের তাপ ও শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্য। সূর্যের আলোকে সৌর প্যানেলের সাহায্যে সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সৌরশক্তি নবায়নযোগ্য বা এর সরবরাহ কখনো ফুরাবে না।

মৎস্য সম্পদঃ 

মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। বাংলাদেশকে নদী মাতৃক দেশ বলা হয়। এ দেশে অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল এবং হাওর রয়েছে। আর এই সকল জলাশয়গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চলের লোনা পানিতেও প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের পরিকল্পিত উপায়ে চিংড়ি মাছের চাষ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে চিংড়ি মাছের সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা যায়।

এগুলোই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। যদিও জনসংখ্যার তুলনায় কোনো কোনো সম্পদ যথেষ্ট পরিমাণে নেই। তবে সুষ্ঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এগুলো ব্যবহার করতে পারলে সীমিত সম্পদ দিয়েই দেশ সমৃদ্ধ হতে পারে।

২) 3R কৌশল ব্যবহার করে কিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা যায়?

প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। তাই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া জরুরী। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ কিছু কৌশল আছে। তবে তিনটি কৌশলের কথা বলা যায়, তা হলো ব্যবহার কমানো (Reduce) বা মিতব্যয়ী ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার (Reuse) এবং পুনরুৎপাদন(Recycle)। এগুলোর আদ্যক্ষর নিয়ে ইংরেজিতে একসাথে বলা হয় 3R। 

প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের কৌশল নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ

১. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের প্রথম উপায় হচ্ছে তা কম ব্যবহার করা। যেমন-

২. জ্বালানি কম ব্যবহার করা।

৩. এসি ব্যবহার না, করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক বাল্ব ব্যবহার করে ও প্রয়োজন শেষে সাথে সাথে বৈদ্যুতিক পাখা, বাল্ব এগুলো বন্ধ করে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে পারি।

৪. বিদ্যুতের ব্যবহার কমালে কয়লা, পেট্রোলিয়াম বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমবে। একইভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমাদের সচেতন হতে হবে।

৫. রান্না করার পরে গ্যাসের চুলা বন্ধ করা দিতে হবে। আর রান্না ব্যতীত অন্যান্য কাজে গ্যাস ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

সম্পদের পুনর্ব্যবহারঃ

জিনিস ব্যবহারের পরে তা পুরনো হয়ে গেলে আমরা তা ফেলে দেই। পুরনো জিনিস ফেলে না দিয়ে অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেয়া ভালো। আবার পুরানো জিনিস অন্য কাজেও ব্যবহার করা যায়। যেমন-

১. টিনের কৌটায় বাজার থেকে গুঁড়ো দুধ কিনে আনা হয়। দুধ খাওয়া শেষ হলে কৌটা ফেলে না দিয়ে চাল, ডাল, মুড়ি বা মসলা রাখা যায়।

২. কাঠের তৈরি কোনো চেয়ার পুরনো হয়ে গেলে ফেলে না দিয়ে অন্য কাউকে দেয়া ভালো। এতে গাছ কাটা কমে যাবে।

পুনরুৎপাদনঃ

ফেরিওয়ালারা টিনের কৌটা, অ্যালিমিনিয়ামের ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল, পুরনো লোহা ও কাচের জিনিস কিনে নেয়।  পুরনো কাঁচ গলিয়ে নতুন কাঁচের সাথে মিশিয়ে কাচের জিনিস তৈরি করা হয়। একইভাবে পুরনো লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, টিন এগুলো গলিয়ে নতুন জিনিস তৈরি করা যায়। এতে লোহা, অ্যালুমিনিয়াম বা টিনের আকরিক খনি থেকে কম তোলা হবে। খনিজ সম্পদ সংরক্ষিত থাকবে ভবিষ্যতের জন্য।

৩) প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের উপর জনসংখ্যার প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করুন।

প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নিম্নে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের উপর জনসংখ্যার প্রভাব দেওয়া হলো-

  • জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য  প্রয়োজন। বাড়তি শস্য উৎপাদন এবং পশুপালনের জন্য মানুষ বন উজাড় করছে।
  • বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং কলকারখানা তৈরিতেও জমি ব্যবহার করছে।
  • বনভূমি ধ্বংসের ফলে বাস্তুসংস্থান পরিবর্তন হচ্ছে। জীবের আবাসস্থ ধ্বংস হয়, এমনকি জীব ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়। এছাড়া বনভূমি ধ্বংসের ফলে ভূমিক্ষয় এবং ভূমিধ্বস হয়।
  • কৃষিক্ষেত্রে উদ্ভিদের ভাল বৃদ্ধি এবং অধিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে মাটি ও পানি উভয়ই দূষণের শিকার হচ্ছে।
  •  জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কলকারখানায় পন্য তৈরি হয়। মানুষ যাতায়াতের জন্য যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। কলকারখানা এবং যানবাহন থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস বায়ু দূষিত করছে। এর ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এসিড বৃষ্টি হচ্ছে।

৪) জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে বিজ্ঞান শিক্ষার ভূমিকা আলোচনা করুন।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনসংখ্যাকে সম্পদের পরিণত করতে বিজ্ঞান শিক্ষার ভূমিকা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

  • বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নয়নে দ্রুত সময়ে বেশি কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করা,
  • অনেক ভারী ভারী কাজ স্বল্পসংখ্যক জনব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ করা,
  • বিজ্ঞান শিক্ষা আমাদের আচরণ পরিবর্তনে এবং বিজ্ঞানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা সমাধান,
  •  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা,
  • এত অধিক জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষি বিজ্ঞানের গবেষণা দ্বারা অধিক ফসল উৎপাদন করা,
  • দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বিজ্ঞান শিক্ষারই অবদান।
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার অবদানে আজ ঘরে বসেই কেনাকাটা ও ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস ম্যানেজমেন্ট, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা সুবিধাভোগের ফলে প্রতিটি মানুষ সম্পদে পরিণত হচ্ছে যার ফলে প্রতিটি মানুষের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপরোক্ত আলোচনান্তে বলা যায় যে, জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে বিজ্ঞান শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম।

28Jun2020

অধ্যায়-০৪: পদার্থ ও শক্তি

সেশন-৪.৩: ধাতু ও অধাতু

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

৯) ধাতু ও অধাতু কাকে বলে?

১০) ধাতু ও অধাতুর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।

১১) দৈনন্দিক জীবনে ধাতুর কী কী কাজে লাগে উল্লেখ করুন।

১২) উপধাতু বা অপধাতু কাকে বলে?

৯) ধাতু ও অধাতু কাকে বলে?

ধাতুঃ

যে সকল মৌলিক পদার্থ সাধারণ অবস্থায় কঠিন, দৃঢ়, উজ্জ্বল বা চকচলে, ওজনে ভারী, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী সেই মৌলিক পদার্থকে ধাতু বলে। যেমন- লোহা, তামা, সোনা ইত্যাদি।

অধাতুঃ

[…]
28Jun2020

অধ্যায়-০৪: পদার্থ ও শক্তি

সেশন-৪.৪: শক্তি

আলোচ্য বিষয়:

১) কাজ ও শক্তি কী? শক্তি প্রধানত কয়টি কাজ করতে পারে আলোচনা করুন।

২) শক্তির উৎস সম্পর্কে লিখুন।

৩) শক্তির বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে লিখুন।

৪) শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হয়- উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করুন।

৫) শক্তি সংরক্ষণের কয়েকটি উপায় উল্লেখ করুন।

৬)  শক্তির নিত্যতা সূত্রটি লিখুন।

১) শক্তি কী? শক্তি প্রধানত কয়টি কাজ করতে পারে আলোচনা করুন।

শক্তিঃ কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে।

শক্তি প্রাধানত চারটি কাজ করতে পারে। যেমন-

[…]
27Jun2020

অধ্যায়-০৪: পদার্থ ও শক্তি

সেশন-৪.২: মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ

৫) গঠনগত দিক থেকে পদার্থকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে? কী কী? এদের বর্ণনা দিন।

৬) মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

৭) পদার্থের আন্তঃআনবিক স্থান এবং আন্তঃআনবিক শক্তি কাকে বলে।

৮) অণু ও পরমাণু কাকে বলে?

৫) গঠনগত দিক থেকে পদার্থকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে? কী কী? এদের বর্ণনা দিন।

গঠনগত দিক থেকে পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ।

মৌলিক পদার্থঃ

[…]
27Jun2020

অধ্যায়-০৪: পদার্থ ও শক্তি

সেশন-৪.১: পদার্থের বৈশিষ্ট্য, পদার্থের বিভিন্ন অবস্থা ও পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন

১) পদার্থ কাকে বলে? অবস্থাভেদে পদার্থকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? এদের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করুন।

২) পদার্থ বল প্রয়োগে বাধা প্রদান করে- ব্যাখ্যা করুন।

৩) পদার্থেরঅবস্থারপরিবর্তনকীভাবেহয়?

৪) তাপেরপ্রভাবে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন হয় ব্যাখ্যা করুন।

১) পদার্থ কাকে বলে? অবস্থাভেদে পদার্থকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? এদের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করুন।

পদার্থঃ যার ওজন আছে, যা জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাঁধা প্রদান করে তাকে পদার্থ বলে।  যেমন- বায়ু, পানি, ইট, মাটি ইত্যাদি।

অবস্থাভেদে পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-১) কঠিন, ২) তরল, ৩) বায়বীয়।

কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্যঃ

[…]

Ad

error: Content is protected !!